বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখ্য নিরাপত্তা আধিকারিকের অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা; তদন্ত শুরু পুলিশের, অভিযোগ ঘিরে কংগ্রেস নেতৃত্বকে নিশানা বিজেপির
কে আর সি টাইমস ডেস্ক
নয়াদিল্লি:জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (জেএনইউ) ছাত্রীদের যৌন হেনস্থার অভিযোগে কংগ্রেস সাংসদ তথা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আংগোমচা বিমল আকোইজামের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করল দিল্লি পুলিশ। সোমবার পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখ্য নিরাপত্তা আধিকারিকের অভিযোগের ভিত্তিতে ১১ অক্টোবর বসন্ত কুঞ্জ উত্তর থানায় এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়েছে।
ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ৭৫, ৭৫(১)(i), ৭৫(১)(iv) এবং ৭৯ ধারায় মামলা করা হয়েছে। এই ধারাগুলি যৌন হেনস্থা এবং সংশ্লিষ্ট অপরাধের সঙ্গে সম্পর্কিত। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের তদন্ত চলছে। তবে এখনও অভিযোগগুলি প্রমাণিত হয়নি। এফআইআর দায়ের হওয়া মানেই অভিযুক্ত দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন, এমন নয়।
অভিযোগ নিয়ে সরব বিজেপি
ঘটনাটি ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোরও শুরু হয়েছে। কংগ্রেস নেতৃত্বের বিরুদ্ধে মহিলাদের নিরাপত্তা সংক্রান্ত অভিযোগে যথাযথ পদক্ষেপ না করার অভিযোগ তুলেছে বিজেপি।
রবিবার বিজেপির সদর দফতরে সাংবাদিক বৈঠক করে সাংসদ বাঁসুরি স্বরাজ দাবি করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের মূল্যায়ন বা পরীক্ষার সময় আকোইজাম নাকি ছাত্রীদের যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ প্রশ্ন করতেন এবং তাঁদের অনিচ্ছা সত্ত্বেও শারীরিকভাবে স্পর্শ করতেন। পরীক্ষার জন্য ছাত্রীদের রাতের দিকে সাংসদের বাসভবনে ডাকা হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
স্বরাজের বক্তব্যে একটি ভাইভা পরীক্ষার প্রসঙ্গও উঠে আসে। তাঁর দাবি, সেই পরীক্ষা রাত ১১টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত চলেছিল। শ্রেণিকক্ষেও যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ আচরণের অভিযোগ তোলেন তিনি।
তবে বিজেপি নেত্রীর এই দাবিগুলি এখনও স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি। পুলিশি তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগগুলির সত্যতা ও ঘটনার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হবে।
এই ঘটনায় কংগ্রেসের শীর্ষ নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বাঁসুরি স্বরাজ। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী পিতৃতন্ত্রের বিরোধিতার কথা বললেও দলের সাংসদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগে তাঁর অবস্থান কী, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
স্বাধীনতা ও নারীর অধিকার নিয়ে কংগ্রেসের বক্তব্যকে কটাক্ষ করে স্বরাজ বলেন, পিতৃতন্ত্রের বিরুদ্ধে স্লোগান কি শুধুই রাজনৈতিক প্রচার? কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে, সোনিয়া গান্ধী এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরার নীরবতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, অভিযোগগুলি মে মাসেই সামনে এসেছিল। আকোইজামের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য রাহুল গান্ধীর কাছেও দাবি জানান বিজেপি সাংসদ। বক্তব্যে ১১ জন ছাত্রীর প্রসঙ্গও উল্লেখ করেন তিনি।
বিজেপির অভিযোগে মামলাটি ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও বেড়েছে। তবে রাজনৈতিক নেতাদের বক্তব্য এবং পুলিশের তদন্তে প্রমাণিত তথ্যের মধ্যে পার্থক্য রাখা জরুরি। আপাতত দিল্লি পুলিশের তদন্তই নির্ধারণ করবে, অভিযোগের পিছনে কী ঘটনা রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট ধারাগুলিতে মামলা চালানোর মতো প্রমাণ পাওয়া যায় কি না।
এখনও পর্যন্ত অভিযোগের সত্যতা নিয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তদন্তের ফল এবং আইনি প্রক্রিয়ার পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর রয়েছে।


