সাতগাঁও থেকে অভিষেক কুমার সিংকে গ্রেফতার এসটিএফের; নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য পাচারের সন্দেহ, একা নাকি নেটওয়ার্কের অংশ—তদন্ত
কে আর সি টাইমস ডেস্ক
গুয়াহাটি:পাকিস্তানভিত্তিক এক গোয়েন্দা অপারেটিভের সঙ্গে যোগাযোগ এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য পাচারের সন্দেহে গুয়াহাটিতে বিহারের এক যুবককে গ্রেফতার করল অসম পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স বা এসটিএফ। ধৃতের নাম অভিষেক কুমার সিং। তিনি বিহারের পূর্ব চম্পারণ জেলার বাসিন্দা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গুয়াহাটির সাতগাঁও এলাকায় ভাড়াবাড়িতে থাকতেন অভিষেক। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তাঁর গতিবিধির উপর নজরদারি শুরু হয়। পরে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেফতার করে এসটিএফ।
তদন্তকারীদের প্রাথমিক সন্দেহ, পাকিস্তানভিত্তিক কোনও গোয়েন্দা অপারেটিভের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে অভিষেক নিরাপত্তা সংক্রান্ত কিছু তথ্য সরবরাহ করছিলেন। তবে ঠিক কী ধরনের তথ্য তিনি দিয়েছেন, কতদিন ধরে এই যোগাযোগ চলছিল এবং তথ্যগুলি কী ভাবে আদানপ্রদান করা হত, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
অভিষেকের গতিবিধি নিয়ে তদন্ত শুরু হয় নিরাপত্তা সংস্থার পাওয়া গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে। রিপোর্ট অনুযায়ী, গজরাজ সেনার গোয়েন্দা শাখা থেকে পাওয়া ইনপুটের পর বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখা হয়।
গ্রেফতারের পর এখন তদন্তের মূল লক্ষ্য অভিষেকের কথিত পাকিস্তানি গোয়েন্দা-যোগের পরিধি বোঝা। তাঁর সঙ্গে কারা যোগাযোগ রাখতেন, কোনও নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা সংস্থার কাছে তথ্য পাঠানো হয়েছিল কি না এবং তিনি একাই কাজ করছিলেন, নাকি আরও বড় কোনও নেটওয়ার্কের অংশ ছিলেন—সবই খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অভিষেকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হল নিরাপত্তা সংক্রান্ত তথ্য পাচারের সন্দেহ। কিন্তু তদন্তের এই পর্যায়ে পুলিশ প্রকাশ্যে জানায়নি, সেই তথ্যের প্রকৃতি কী ছিল বা তা কতটা সংবেদনশীল।
ফলে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা পাকিস্তানি গোয়েন্দা-যোগের অভিযোগকে এখনও তদন্তাধীন হিসেবেই দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তিনি কী উদ্দেশ্যে এবং কার নির্দেশে কাজ করছিলেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছনোর সুযোগ নেই।
এসটিএফের তদন্ত এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে অভিষেকের যোগাযোগের নেটওয়ার্ক এবং কথিত তথ্য পাচারের প্রকৃতি সম্পর্কে আরও তথ্য সামনে আসতে পারে। তিনি একাই এই কাজে যুক্ত ছিলেন, নাকি এর পিছনে আরও কেউ রয়েছে—এই প্রশ্নের উত্তরও এখন তদন্তের অপেক্ষায়।


