মণিপুরের তিন পাহাড়ি জেলায় ফের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, নিহত অন্তত ৯, একাধিক গ্রামে আগুন

2 - মিনিট |

কামজং, উখরুল ও কাংপোকপিতে কুকি সশস্ত্র গোষ্ঠী ও নাগা গ্রামরক্ষীদের ঘিরে হিংসা; বহু বাড়িতে অগ্নিসংযোগ, নিরাপত্তা বাড়াল রাজ্য ও কেন্দ্রীয় বাহিনী

কে আর সি টাইমস ডেস্ক

ইম্ফল:মণিপুরের পাহাড়ি জেলাগুলিতে ফের হিংসার আগুন। কামজং, উখরুল ও কাংপোকপিতে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে সংঘর্ষ, গুলিচালনা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় অন্তত ৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। কিছু প্রতিবেদনে মৃতের সংখ্যা ১০ বলে দাবি করা হয়েছে। একাধিক বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি গ্রামবাসীদের এলাকা ছেড়ে পালাতে হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে স্পর্শকাতর এলাকায় অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।

কামজং জেলার চাসাদ এলাকায় শুক্রবার রাতে নিরাপত্তা বাহিনীর একটি টহলদলের উপর হামলার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাটালিয়ন (আইআরবি)-এর ওই দলটির উপর হামলার পর গুলির লড়াই শুরু হয়। সেই সংঘর্ষে সশস্ত্র গোষ্ঠীর সহায়তাকারী বলে সন্দেহ করা এক মহিলা নিহত হন বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

এর পর নাগা নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলা ও অগ্নিসংযোগের খবর আসে। কামজং সদর এলাকায় ন’টি বাড়িতে আগুন লাগানো হয় বলে নর্থইস্ট নাও জানিয়েছে। চাসাদ থানার বিপরীত দিকেও ২৩টির বেশি বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার দাবি করা হয়েছে। পাল্টা সংঘর্ষে দুই নাগা গ্রামরক্ষী আহত হন এবং দুই কুকি সশস্ত্র সদস্য নিহত হয়েছেন বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

চাসাদের কাছেই নিংচৌ গ্রামেও বোমা ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হামলার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারত ও মায়ানমারের দিক থেকে আসা কুকি সশস্ত্র সদস্যরা গ্রামটিকে নিশানা করে দুই নাগরিককে হত্যা করে সীমান্তের ওপারে ফিরে যায় বলে অভিযোগ।

উখরুল জেলাতেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইম্ফল-উখরুল সড়ক ধরে নিজের কৃষিজমিতে যাওয়ার সময় নেপালি সম্প্রদায়ের এক নাগরিককে গুলি করে হত্যা করা হয় বলে খবর। এই ঘটনার পিছনে কারা রয়েছে, তা নিয়ে এখনও স্পষ্ট তথ্য সামনে আসেনি।

কাংপোকপি জেলার মাকুই আশাং নাগা গ্রামে হামলায় তিন নাগা গ্রামরক্ষীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে। নিহতদের এক জনের শিরশ্ছেদ করা হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। অন্য একটি হামলায় তাপন লিয়াংমাই গ্রামে এক নাগরিক নিহত এবং দু’জন আহত হন।

এ ছাড়া পনরিংলং নাগা গ্রামে গুলিচালনা এবং চারোই পানদোংবা খুনথাক এলাকায় প্রায় ১০টি বাড়িতে আগুন লাগানোর খবর পাওয়া গিয়েছে। অগ্নিসংযোগের পর স্থানীয় বাসিন্দাদের বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে সরে যেতে হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাজ্য ও কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী অতিরিক্ত দল পাঠিয়েছে। চাসাদ এলাকায় জনশৃঙ্খলা বজায় রাখতে কামজং জেলা প্রশাসন ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ নম্বর ধারায় পাঁচ বা তার বেশি মানুষের জমায়েতের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বলে পৃথক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী ইউম্নাম খেমচাঁদ সিংয়ের দফতর নিরীহ নাগরিকদের মৃত্যু ও হিংসার নিন্দা করে পরিস্থিতি সামাল দিতে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের নির্দেশ দিয়েছে বলেও খবর। তবে বিভিন্ন ঘটনায় হতাহতের চূড়ান্ত সংখ্যা এবং হামলাকারীদের পরিচয় নিয়ে এখনও সব তথ্য এক জায়গায় মেলেনি।

২০২৩ সালের মে মাস থেকে মণিপুরে চলা অস্থিরতার মধ্যে নতুন এই সংঘর্ষ শান্তি ফেরানোর প্রচেষ্টাকে আরও কঠিন করে তুলেছে। তিন জেলায় হিংসা ছড়িয়ে পড়ায় নাগরিকদের নিরাপত্তা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির পুনর্বাসন নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *