‘সুপ্রিম কোর্টের দরজা সবার জন্য খোলা’, ইন্ডিয়া জোটের মিছিলের আগে বার্তা প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের

2 - মিনিট |

নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ জানাতে বিরোধীদের সাক্ষাতের আর্জি খারিজ; প্রধান বিচারপতির পরামর্শ, স্মারকলিপি নয়, বিচার চাইতে হবে আদালতে মামলা করে

কে আর সি টাইমস ডেস্ক

নয়াদিল্লি: নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ তুলে ইন্ডিয়া জোটের সুপ্রিম কোর্ট অভিযান ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যেই নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত। সোমবার তিনি জানিয়ে দিলেন, দেশের যে কোনও নাগরিক কিংবা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধির জন্য সুপ্রিম কোর্টের দরজা খোলা। তবে কোনও বিষয়ে আইনি প্রতিকার চাইতে হলে নির্ধারিত বিচারবিভাগীয় পদ্ধতিতেই আদালতের দ্বারস্থ হতে হবে।

বিরোধী জোটের নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাতের আবেদন প্রসঙ্গে প্রধান বিচারপতি জানান, রবিবার তিনি তাঁদের চিঠি পেয়েছিলেন এবং সে দিন রাতেই জবাব পাঠিয়েছেন। কেন তিনি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন না, চিঠিতে তার ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ৩৩তম প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠানের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে সূর্য কান্ত বলেন, “সুপ্রিম কোর্টের দরজা সবার জন্য খোলা। যে কোনও সাধারণ নাগরিক কিংবা নির্বাচিত সংস্থার কোনও সদস্য আবেদন করতে পারেন। প্রত্যেক ভারতীয় নাগরিকের আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার অধিকার রয়েছে। তাঁদের বক্তব্য শুনে আইন অনুযায়ী যা প্রাপ্য, তা দেওয়া হবে।”

‘স্মারকলিপি নয়, আবেদন জানাতে হবে আদালতে’

নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় কথিত অনিয়মের অভিযোগ জানাতে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাতের আর্জি জানিয়েছিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী-সহ ইন্ডিয়া জোটের নেতারা। কিন্তু বিষয়টি ইতিমধ্যেই বিচারাধীন থাকায় প্রশাসনিক পথে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার পরিবর্তে আদালতে আবেদন জানানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের খবর।

প্রধান বিচারপতির দফতর থেকে ই-মেলের মাধ্যমে বিরোধী নেতাদের যুক্তিসহ জবাব পাঠানো হয়েছিল বলেও জানা গিয়েছে। ফলে সাক্ষাতের আবেদন খারিজ হলেও আইনি পথে অভিযোগ জানানোর সুযোগ যে বন্ধ নয়, সোমবারের বক্তব্যে সেই বার্তাই দিয়েছেন সূর্য কান্ত।

নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিরোধীদের অভিযান

সোমবার নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে সুপ্রিম কোর্টের দিকে মিছিল করার কর্মসূচি নিয়েছে কংগ্রেস-সহ ইন্ডিয়া জোটের শরিক দলগুলি। ভোটার তালিকা সংশোধন এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে কমিশনের জবাবদিহির দাবি জানাচ্ছে বিরোধীরা।

বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়া ঘিরে ওঠা অভিযোগ এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে গত কয়েক দিন ধরেই রাজধানীতে বিক্ষোভ চলছে। শনিবারের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক ধরপাকড় ও নিরাপত্তা বিধিনিষেধের অভিযোগও সামনে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাতের আবেদন ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়।

নিরাপত্তায় কড়াকড়ি, মেট্রো চলাচলেও বিধিনিষেধ

বিরোধীদের মিছিলের আগে মধ্য দিল্লিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। একাধিক জায়গায় ব্যারিকেড বসানো হয়েছে। বারাখাম্বা রোড ও মান্ডি হাউসের আশপাশে দিল্লি পুলিশের পাশাপাশি দ্রুত প্রতিক্রিয়া বাহিনী (আরএএফ) এবং কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর (সিআরপিএফ) সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।

নিরাপত্তার কারণে সোমবার, ১২ অক্টোবর বিকেল ৪টে পর্যন্ত মেট্রোর কয়েকটি স্টেশনে প্রবেশ ও বাইরে বেরোনোর পথে বিধিনিষেধ থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।

বিরোধীদের কর্মসূচি, নিরাপত্তা ব্যবস্থার কড়াকড়ি এবং আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার প্রশ্ন—সব মিলিয়ে দিল্লির পরিস্থিতি এখনও উত্তপ্ত। প্রধান বিচারপতির বক্তব্যে একদিকে নাগরিকদের বিচার পাওয়ার অধিকারের কথা উঠে এসেছে, অন্যদিকে বিচারাধীন বিষয়ে সরাসরি সাক্ষাতের বদলে আইনি প্রক্রিয়া মেনে এগোনোর বার্তাও স্পষ্ট হয়েছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *