৭ দিন ধরে স্বামীর মৃতদেহ আগলে স্ত্রী

< 1 - মিনিট |

অশীতিপর বৃদ্ধ-বৃদ্ধা থাকতেন একা, ছেলের ভূমিকা নিয়ে সন্দেহ

KRC Times Desk
বিনসন স্ট্রিটকাণ্ডের ছায়া এবার উত্তর ২৪ পরগনার সোদপুরে। খড়দহ থানার সোদপুরের উত্তরপল্লিতে স্বামীর দেহ আগলে প্রায় সপ্তাহ খানেক ঘরে বসে রইলেন স্ত্রী। ঘটনাটি জানাজানি হতে পুলিশ দেহটিকে উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আশি বছরের অমিয় দাস এবং তাঁর স্ত্রী অঞ্জলি দাস সোদপুরের উত্তরপল্লিতে থাকতেন। তাঁরা ওই এলাকার দীর্ঘদিনের বাসিন্দা। অমিয় দাস একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করতেন। বেশ কয়েকদিন ধরেই তাঁকে দেখা যাচ্ছিল না। স্ত্রী অঞ্জলি দাসকেও দেখতে না পাওয়া যেতে এলাকার লোকজনের সন্দেহ হয়।
এরপর সোমবার সকালে ওই দম্পতির বাড়ির দিক থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াতে দেখে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে সন্দেহ বাড়তে থাকে। তখন পাড়ার লোকেরা খবর দেন খড়দহ থানায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে আসে। দরজা ভিতর থেকে বন্ধ হলেও বাইরে থেকে শব্দ করাতে তা খুলে দেন অঞ্জলি দাস। বাড়ির ভিতরে ঢুকে পুলিশ কর্মীরা অবাক হয়ে যান। দেখেন, ঘরের মধ্যে স্বামী অমিয় দাসের পচাগলা দেহ আগলে বসে রয়েছেন অঞ্জলি।
দেহের অবস্থা দেখে পুলিশ কর্মীদের ধারণা অন্তত সপ্তাহখানেক আগে মৃত্যু হয়েছে ওই ব্যক্তির। মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখতে এদিন দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। খোঁজ নিতে গিয়ে পুলিশ জানাতে পেরেছে দাস দম্পতির একমাত্র ছেলে অভিজিৎ তাঁদের সঙ্গে থাকেন না, থাকেন দমদমে। ঘটনার পর অভিজিৎ দাস ঘটনাস্থলে এলেও তিনি বিষয়টি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন।
অমিয় দাস অসুস্থ ছিলেন সে কথা অভিজিৎ জানলেও চার মাস আগে মা-বাবার সঙ্গে নাকি তিনি শেষ দেখা করেছিলেন। কেন এতদিন তিনি বাবা-মায়ের সঙ্গে যোগাযোগ রাখেননি তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। প্রতিবেশীরা পুলিশকে জানিয়েছেন, অঞ্জলি দাস মানসিক ভারসাম্যহীন। বাবা অসুস্থ, মা’র মানসিক স্বাস্থ্য ভালো নয়, সবটা জানার পরেও একমাত্র ছেলের খোঁজখবর না নেওয়াটায় সন্দেহ জাগছে পুলিশের। খড়দহ থানার পুলিশ এখন ময়না তদন্তের রিপোর্টের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন। পুলিশি সূত্র মতে-  মৃত্যু অস্বাভাবিক হলে বদলে যাবে পুরো ঘটনার চালচিত্র।

 

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *