১৫ অক্টোবর থেকে ২ হাজার টাকার বেশি ইউপিআই লেনদেনে ফি চালুর কথা ছিল; ব্যবসায়ীদের অনলাইন পেমেন্ট বয়কটের আশঙ্কা, উৎসবের মরশুমের কথা মাথায় রেখে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার ইঙ্গিত
কে আর সি টাইমস ডেস্ক
নয়াদিল্লি: ২ হাজার টাকার বেশি ইউপিআই লেনদেনে প্রস্তাবিত অতিরিক্ত ফি আপাতত চালু না করার পথে হাঁটতে পারে কেন্দ্র। ১৫ অক্টোবর থেকে এই ফি কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও দেশজুড়ে বিরোধিতা এবং উৎসবের মরশুমে ডিজিটাল লেনদেনে সম্ভাব্য ধাক্কার আশঙ্কায় সিদ্ধান্তটি পিছিয়ে দেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর।
গত মাসে অনলাইন আর্থিক লেনদেনে মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট (এমডিআর) চালুর প্রস্তাব সামনে আসে। সংশ্লিষ্ট আইনে সংশোধনের পর জানানো হয়েছিল, ২ হাজার টাকার বেশি মূল্যের ইউপিআই লেনদেনে ০.৪ শতাংশ এমডিআর নেওয়া হতে পারে। ১৫ অক্টোবর থেকেই তা কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।
তবে এই সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসার পরই রাজনৈতিক মহল থেকে ব্যবসায়ী মহল—বিভিন্ন স্তরে আপত্তি ওঠে। কংগ্রেস অভিযোগ করে, অতিরিক্ত খরচের বোঝা শেষ পর্যন্ত সাধারণ গ্রাহকের উপরেই চাপতে পারে।
লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীও বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রকে আক্রমণ করেন। তাঁর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন সংস্থাগুলি ভারতের এমডিআরমুক্ত ইউপিআই ব্যবস্থার বিরোধিতা করে এসেছে এবং সেই চাপের কাছে কেন্দ্র নতি স্বীকার করেছে।
শুধু রাজনৈতিক বিরোধিতাতেই বিষয়টি থেমে থাকেনি। প্রস্তাবিত ফি কার্যকর হওয়ার আগেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কিছু ব্যবসায়ী অনলাইন পেমেন্ট না নেওয়ার কথা জানিয়ে পোস্টার দিতে শুরু করেন। কোথাও অনলাইনে টাকা দিলে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার কথা বলা হয়, আবার কোথাও সরাসরি জানানো হয়—বিল মেটাতে হবে নগদে।
উৎসবের মরশুমে এই প্রবণতা বাড়লে দেশের ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়। সেই পরিস্থিতি এড়াতেই কেন্দ্র আপাতত এমডিআর চালুর সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিতে পারে বলে সূত্রের খবর।
রয়টার্সের এক প্রতিবেদনের দাবি, এমডিআর চালুর সময়সীমা আগামী বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়া হতে পারে। সেক্ষেত্রে দুর্গাপুজো, দীপাবলি-সহ চলতি বছরের উৎসব এবং বিয়ের মরশুমের বড় অংশ শেষ হওয়ার পর নতুন ব্যবস্থা কার্যকর করার সুযোগ পাবে সরকার।
তবে এমডিআর চালুর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও ঘোষণা করা হয়নি। ফলে ১৫ অক্টোবর থেকে প্রস্তাবিত ফি আদৌ কার্যকর হবে কি না, তা নিয়ে সরকারি স্পষ্টীকরণের অপেক্ষা রয়েছে।
এদিকে একটি সমীক্ষার উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, এমডিআর চালু হলে বর্তমানে ইউপিআই ব্যবহারকারী বিপুল সংখ্যক মানুষ ডিজিটাল লেনদেন থেকে সরে যেতে পারেন। দেশে কয়েক কোটি মানুষ নিয়মিত ইউপিআইয়ের মাধ্যমে লেনদেন করেন। ফলে অতিরিক্ত ফি চালুর সিদ্ধান্তের প্রভাব শুধু ব্যবসায়ী বা পেমেন্ট সংস্থার উপর নয়, গোটা ডিজিটাল অর্থনীতির উপর পড়তে পারে।
এই পরিস্থিতিতে উৎসবের আগে ইউপিআই ব্যবস্থায় কোনও বড় পরিবর্তন না এনে বিষয়টি আরও কিছুদিন পর্যালোচনা করার পথেই কেন্দ্র এগোতে পারে বলে খবর।


