তারেক রহমানের ভারত সফর নিয়ে ‘ইতিবাচক’ ঢাকা, দিনক্ষণ এখনও চূড়ান্ত নয়

2 - মিনিট |

দিল্লির আমন্ত্রণ বহাল, ‘তাড়াহুড়োর প্রয়োজন নেই’ বললেন ভারতীয় হাইকমিশনার; হাসিনা-প্রত্যর্পণ ইস্যুতে টানাপোড়েনের মধ্যেই সফর নিয়ে আলোচনা

কে আর সি টাইমস ডেস্ক

ঢাকা:বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রস্তাবিত ভারত সফর নিয়ে ঢাকা-দিল্লির মধ্যে আলোচনা এগোচ্ছে বলে জানাল বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী বিদেশ মন্ত্রক। মঙ্গলবার ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে বৈঠকের পর বাংলাদেশের বিদেশ প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবীর বলেন, সফর নিয়ে তাঁরা ‘ইতিবাচক’। তবে এখনও কোনও তারিখ চূড়ান্ত হয়নি।

বিদেশ মন্ত্রকে ত্রিবেদীর সঙ্গে বৈঠকের পর কবীর বলেন, “আমরা সফর নিয়ে আলোচনা করেছি এবং বিষয়টি নিয়ে ইতিবাচক।” তবে নভেম্বরেই তারেক রহমান নয়াদিল্লি যেতে পারেন বলে যে জল্পনা চলছে, তা নিয়ে মন্তব্য করতে চাননি তিনি।

“আমি গুজব নিয়ে আলোচনা করতে পারি না। বাস্তবতা নিয়েই কথা বলি,” বলেন কবীর। তাঁর বক্তব্য, পরিস্থিতি অনুকূল হলে এবং দুই দেশের সম্পর্ক পারস্পরিক সম্মানের ভিত্তিতে এগোলে প্রধানমন্ত্রী ভারত সফর করবেন।

ভারতীয় হাইকমিশনারও সফর নিয়ে আশাবাদী হওয়ার কথা জানিয়েছেন। ত্রিবেদী বলেন, তারেক রহমানকে নয়াদিল্লি সফরের আমন্ত্রণ এখনও বহাল রয়েছে। তবে সফর নিয়ে তাড়াহুড়ো করার প্রয়োজন নেই।

“আমাদের আমন্ত্রণ খোলা রয়েছে। তাড়াহুড়োর প্রয়োজন আছে বলে মনে করি না। সবকিছুই ইতিবাচক,” সাংবাদিকদের বলেন ত্রিবেদী। তাঁর কথায়, দুই দেশই বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে এবং এর জন্য সময় দেওয়া প্রয়োজন।

তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে একাধিক টানাপোড়েন তৈরি হয়েছে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের পর শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হন এবং এরপর থেকে ভারতে রয়েছেন।

বাংলাদেশে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয়েছে এবং বিশেষ ট্রাইব্যুনালে অনুপস্থিতিতে বিচার শেষে তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য ঢাকা ভারতের কাছে প্রত্যর্পণের আবেদন করেছে। ভারত জানিয়েছে, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট আইন ও নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া মেনেই পরীক্ষা করা হচ্ছে।

হাসিনার ভারতে অবস্থান দুই দেশের সম্পর্কের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অমীমাংসিত বিষয় হয়ে রয়েছে। গত মাসে বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রকও অভিযোগ করেছিল, নয়াদিল্লিতে হাসিনার ভার্চুয়াল বক্তব্যের পর তারেক রহমানের ভারত সফরের পরিবেশ আরও জটিল হয়েছে। ভারত অবশ্য ওই অনুষ্ঠানে নিজের কোনও ভূমিকা থাকার কথা অস্বীকার করেছে।

তারেক রহমানকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ আলাদাভাবে ফেব্রুয়ারি থেকেই রয়েছে। চলতি মাসে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁকে ব্রিকস আউটরিচ সম্মেলনেও আমন্ত্রণ জানিয়েছিল ভারত। তবে তিনি সেই আমন্ত্রণ গ্রহণ করেননি।

বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তখন বলা হয়েছিল, ব্রিকস সম্মেলনে আমন্ত্রণটি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নয়, বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে দেওয়া হয়েছিল।

এর মধ্যেই ১৭ সেপ্টেম্বর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জন্মদিনে তাঁকে শুভেচ্ছা জানান তারেক রহমান। মঙ্গলবারের বৈঠককে দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে চলমান আলোচনারই আরেকটি ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে সফরের তারিখ বা চূড়ান্ত কর্মসূচি এখনও ঘোষণা হয়নি।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *