‘মার্জার অসম্ভব’ জানালেন সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী; দার্জিলিংয়ের রাজনৈতিক সমাধানের খসড়ার ‘চতুর্থ পথ’ ঘিরে নতুন করে বিতর্ক
কে আর সি টাইমস ডেস্ক
গ্যাংটক: দার্জিলিং পাহাড়ের সঙ্গে সিকিমের সংযুক্তির কোনও সম্ভাবনাই নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাং (গোলে)। সিকিমের সাংবিধানিক মর্যাদা এবং ৩৭১এফ ধারায় দেওয়া বিশেষ সুরক্ষা কোনও ভাবেই আপস করা হবে না বলেও জানিয়েছেন তিনি।
গ্যাংটকে একটি সম্প্রদায়ভিত্তিক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তামাং বলেন, সিকিমের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষায় তাঁর সরকার অটল। তাঁর কথায়, সরকার থাকাকালীন সিকিমের স্বার্থ ও সাংবিধানিক সুরক্ষার সঙ্গে কোনও আপস করা হবে না।
দার্জিলিংয়ের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক দাবির স্থায়ী সমাধান নিয়ে অর্থনীতিবিদ ও সিকিম সরকারের প্রাক্তন মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা অধ্যাপক মহেন্দ্র পি. লামার একটি প্রস্তাব ঘিরেই সাম্প্রতিক বিতর্কের সূত্রপাত। জুলাইয়ে আলোচনার জন্য ছড়ানো একটি খসড়ায় ‘চতুর্থ পথ’ হিসেবে উত্তরবঙ্গকে একটি পৃথক রাজ্য করার এবং প্রয়োজন অনুযায়ী প্রতিবেশী রাজ্যের সংলগ্ন অঞ্চল যুক্ত করার কথা ছিল। এই ‘সংলগ্ন অঞ্চল’ শব্দবন্ধ নিয়েই সিকিমে আশঙ্কা তৈরি হয়।
তবে লামা পরে স্পষ্ট করেছেন, ওই খসড়ায় সিকিমকে অন্তর্ভুক্ত করার কোনও প্রস্তাব ছিল না। তাঁর বক্তব্য, বিতর্কিত চতুর্থ পথটি আগস্টে কেন্দ্রের কাছে পাঠানো চূড়ান্ত নথিতেও রাখা হয়নি। চূড়ান্ত নথিতে দার্জিলিংয়ের রাজনৈতিক সমাধানের জন্য তিনটি বিকল্পই রাখা হয়েছে—পূর্ণ রাজ্যের মর্যাদা, কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল এবং ‘রাজ্যের মধ্যে রাজ্য’-এর মতো একটি ব্যবস্থা।
৩৭১এফ নিয়ে রাজনৈতিক অবস্থান
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পর বিষয়টি নিয়ে সিকিমে রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াও জোরদার হয়েছে। সিটিজেন অ্যাকশন পার্টি-সিকিম বা ক্যাপ-সিকিম অবশ্য দার্জিলিংয়ের সঙ্গে সংযুক্তির দাবি তারা করছে—এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছে। দলের বক্তব্য, তাদের আপত্তি মূলত সাম্প্রতিক বৈঠক ও আলোচনার বিষয়ে সরকারের স্বচ্ছতার অভাব নিয়ে।
ক্যাপ-সিকিমের নেতা গণেশ রাই জানিয়েছেন, দার্জিলিংয়ের মানুষের সঙ্গে সিকিমের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে তাঁরা সম্মান করেন। একই সঙ্গে ৩৭১এফ-এর সাংবিধানিক সুরক্ষা অক্ষুণ্ণ রাখার পক্ষে তাঁদের অবস্থান।
অন্যদিকে, সিকিম ভুটিয়া লেপচা অ্যাপেক্স কমিটি বা সিবল্যাকও বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের কাছে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়েছে। সংগঠনটির বক্তব্য, দার্জিলিংয়ের রাজনৈতিক সমাধানের কোনও প্রক্রিয়ায় সিকিমের ভূখণ্ড বা সাংবিধানিক মর্যাদার উপর প্রভাব পড়ে কি না, তা পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।
সিকিম বিজেপিও সংযুক্তির জল্পনার বিরোধিতা করেছে। দলের রাজ্য সভাপতি ডি আর থাপার বক্তব্য, ৩৭১এফ-এর সুরক্ষাই সিকিমের সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত স্বাতন্ত্র্যের অন্যতম ভিত্তি।
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পবন চামলিংও দার্জিলিং-সিকিম সংযুক্তির যে কোনও সম্ভাবনার বিরোধিতা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, দার্জিলিং ও গোর্খাল্যান্ডের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষার সমাধান আলাদা গোর্খাল্যান্ড রাজ্যের দাবির মধ্যেই খোঁজা উচিত।
দার্জিলিংয়ের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা চললেও সিকিমের ক্ষেত্রে এখন মুখ্যমন্ত্রী থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের বক্তব্যে একটি বিষয় স্পষ্ট—৩৭১এফ-এর সাংবিধানিক সুরক্ষা এবং রাজ্যের ভূখণ্ডগত পরিচয় নিয়ে কোনও অনিশ্চয়তা তারা চাইছে না। একই সঙ্গে মহেন্দ্র পি. লামার ব্যাখ্যায় চূড়ান্ত প্রস্তাবে সিকিমকে যুক্ত করার কোনও প্রস্তাব নেই বলেও জানানো হয়েছে।


