বিপর্যয়ের এক মাস পরেও চলছে উদ্ধার ও নিখোঁজদের খোঁজ; ডিএনএ পরীক্ষায় শনাক্ত করা হচ্ছে উদ্ধার হওয়া দেহ ও দেহাবশেষ
কে আর সি টাইমস ডেস্ক
কাঠমান্ডু: নেপালে ২৬ অগস্টের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যার এক মাস পরেও নিখোঁজদের সন্ধান এবং উদ্ধার হওয়া দেহ শনাক্তকরণের কাজ চলছে। জাতীয় বিপর্যয় ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এনডিআরআরএমএ)-এর সর্বশেষ হিসাবে, বিপর্যয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১,৪৫৩। এখনও নিখোঁজ ৫,২৮৫ জন।
এনডিআরআরএমএ জানিয়েছে, বন্যার পর এখনও পর্যন্ত ১,৪৫১টি দেহ উদ্ধার করা হয়েছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। ফলে সরকারি হিসাবে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১,৪৫৩।
বিপর্যয়ের পর ১৩,৭৯৫ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে ১,১১৩ জন এখনও ২১টি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছেন। এঁদের মধ্যে নুওয়াকোটের ১৮৭ জন, রাসুয়ার ৮০৫ জন এবং ধাদিংয়ের ১২১ জন রয়েছেন।
২৬ অগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে প্রবল জলপ্রবাহ ও আকস্মিক বন্যার সূত্রপাত হয়। হিমালয় সীমান্ত এলাকা থেকে নেমে আসা ভোতেকোশি নদীর জল দ্রুত নীচের দিকে ছড়িয়ে পড়ে। তার জেরে উত্তর ও মধ্য নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকায় ঘরবাড়ি, গাড়ি, রাস্তা ও সেতু ভেসে যায়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের পরিকাঠামোও।
বিপর্যয়ের প্রভাব সীমান্ত পেরিয়ে তিব্বতেও পড়ে। চিনা সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেখানে অন্তত ৪৩ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৫০০-রও বেশি মানুষ এখনও নিখোঁজ।
নেপালে বন্যা ও ভূমিধস-আক্রান্ত প্রায় ১১ হাজার মানুষকে নিরাপত্তা বাহিনীর তরফে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এনডিআরআরএমএ জানিয়েছে, এখনও সাত জন আহত ব্যক্তি চিকিৎসাধীন।
বন্যার স্রোতের তীব্রতায় উদ্ধার হওয়া বহু দেহ এবং দেহাবশেষ মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করাই এখন প্রশাসনের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ।
সরকারি হিসাবে মৃত ১,৪৫৩ জনের মধ্যে এখনও পর্যন্ত মাত্র ১১২টি দেহ শনাক্ত করে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
পরিচয়হীন দেহ ও দেহাবশেষ শনাক্ত করতে নেপাল পুলিশ ডিএনএ পরীক্ষার সাহায্য নিচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া দেহ ও মানবদেহাবশেষ থেকে এখনও পর্যন্ত ১,৩২৯টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। অন্য দিকে, নিখোঁজদের পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে আরও ২,০৬০টি নমুনা নেওয়া হয়েছে।
এই নমুনাগুলির মধ্যে মিল খুঁজে দেখে নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। ডিএনএ পরীক্ষায় মিল পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করে দেহাবশেষ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া সম্ভব হবে।
বিপুল সংখ্যক দেহ উদ্ধারের ফলে মর্গগুলিতেও জায়গার সংকট তৈরি হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর বেশ কিছু অশনাক্ত দেহ সমাহিত করা হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে শনাক্তকরণের সুযোগ রাখতে ডিএনএ নমুনা এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষণ করা হয়েছে।
নেপাল পুলিশ নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের রক্তের নমুনা দেওয়ার জন্যও আবেদন জানিয়েছে। পুলিশের পরামর্শ, ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নিখোঁজ ব্যক্তির বাবা-মা বা সন্তানের মতো প্রথম সারির আত্মীয়ের নমুনা দেওয়া হলে সবচেয়ে বেশি সুবিধা হয়। এমন আত্মীয় না থাকলে ভাই বা বোনের নমুনাও নেওয়া যেতে পারে।
বিপর্যয়ের এক মাস পরেও তাই নেপালে উদ্ধার অভিযান পুরোপুরি শেষ হয়নি। এক দিকে চলছে নিখোঁজদের সন্ধান, অন্য দিকে উদ্ধার হওয়া দেহ ও দেহাবশেষের পরিচয় নিশ্চিত করার দীর্ঘ প্রক্রিয়া। সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম ভয়াবহ এই বন্যার ক্ষত সামলাতে গিয়ে উদ্ধারকাজের পাশাপাশি নিখোঁজ পরিবারগুলির অপেক্ষাও ক্রমশ দীর্ঘ হচ্ছে।


