তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানাতেই ভারত থেকে ফিরে এসেছি
সমীরণ রায়
ঢাকা : বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান বলেছেন, দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তার সঙ্গে যে ‘অসৌজন্যমূলক’ আচরণ করা হয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে তার প্রতিবাদ জানানো উচিত মনে হওয়ায় তিনি দেশে ফিরে এসেছেন। তবে এ ঘটনা দুই দেশের সম্পর্কে কোনো প্রভাব ফেলবে না বলেই তার বিশ্বাস। মঙ্গলবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে ওই ঘটনা নিয়ে যা যা এসেছে, ঘটনাগুলো ‘ঠিক সেরকমই’ ঘটেছে।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, আমি ওখানে একটা ব্যক্তি হিসেবে যাইনি, আমি এই সরকারের একজন প্রতিনিধি হিসেবে গেছি, রাষ্ট্রের একজন প্রতিনিধি হিসেবে গেছি। ফলে আমার সাথে ওখানে যা হয়েছে, আমার কাছে মনে হল যে আমাদের ইনস্ট্যান্ট একটা প্রতিবাদ করা দরকার। সেই কারণেই আমি আসলে ব্যাক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
আমি মনে করেছি এই সরকারের প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টা হিসেবে। তখন আমার মনে হয়েছে এই রাষ্ট্র বা সরকারের পক্ষ থেকে একটা সিগনেচার থাকা দরকার। আমার কখনো এই উদ্দেশ্য নেই যে এটার মাধ্যমে খুব পাল্টাপাল্টি কোনো নেগেটিভ পরিস্থিতি তৈরি হোক। আমার মনে হয়েছে একটা মেসেজ এই দেশ এবং এই দেশের বাইরে সবার কাছে যাওয়া দরকার, সেটা হচ্ছে এটা শেখ হাসিনার সরকার না, এটা জনগণের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত একটা সরকার।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উত্তরে জাহেদ উর রহমান বলেন, প্রথম প্রশ্ন হচ্ছে আমার কূটনৈতিক পাসপোর্ট আমি নিইনি। নিইনি মানে অন্য কোনো কারণে না, নিচ্ছি নেব করতে করতে হয়েছে। আমার পাসপোর্টে সার্ক স্টিকার দেওয়া হয়েছে। তার মানে কূটনৈতিক পাসপোর্ট যেভাবে কাজ করে, সেভাবে এফেক্টিভ হওয়ার কথা।

Send your resume:
biswa@jigyasu.co.in
krcfoundation@gmail.com
সো কেউ কেউ বলছেন এই কূটনৈতিক পাসপোর্ট নাও নাই, আমার কি বিদেশ ভ্রমণ বন্ধ হবে? আমি কূটনৈতিক পাসপোর্ট নিতে কিন্তু বাধ্যও না। ওটা একটা প্রিভিলেজ, আমি আমার জায়গা থেকে এটা আমি নিতে পারি, কিন্তু এটা আমাকে নিতেই হবে এমন কোনো কথা নেই।
জাহেদ উর রহমান বলেন, দিল্লির বিমানবন্দরে তাকে আটকে রেখে অনেক বেশি জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে-বিষয়টি সেরকম নয়। আমাকে খুব বেশি জিজ্ঞেস করা হয় নাই, আসলে ডিল করছিলেন হাই কমিশনার। আমাকে একটা জায়গায় বসতে দেওয়া হয়েছে। মূলত খুব বেশি কিছু জানানো হচ্ছিল না। ইনফ্যাক্ট খুব বেশি যে প্রচুর জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে ব্যাপারগুলো এরকম কিছু ছিল না। কোনো একটা রুমে নিয়ে আটকে রাখা হয়েছে–না, একদম ভুল কথা এগুলো।
ভবিষ্যতে আবার ভারতে যাওয়ার ইচ্ছা আছে কি না –এমন প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, নিশ্চয় যাব। তিনি বলেন, আমি ভারতের সাথে এনগেজ করতে চাই লজিকলি অ্যান্ড র্যাশনালি। কথাটা খুব ইম্পর্টেন্ট। ভারতের সাথে এনগেজ করার কথা বললে কারো কারো কাছে মনে হয় যে আমি দেশ বিকিয়ে দিতে যাচ্ছি।
সেই সময়ের পরিস্থিতি বর্ণনা করে উপদেষ্টা জাহেদ বলেন, আমার সাথে আরো লোকজন ছিলেন, তারা তাদের ইমিগ্রেশন পার করে চলে গেলেন। আমার ইমিগ্রেশন যখন শুরু হল, আমি মুহূর্তেই বুঝতে পারলাম, তারা দেরি করছেন। তাদের সময় লাগছে, নানান জনের সাথে কথাবার্তা বলছেন। আমাদের হাই কমিশনার প্রথম থেকে আমার সাথে ওখানে ছিলেন।
আমাদের হাই কমিশনার সম্পর্কেও অনেক কথাবার্তা বলা হয়, যে তার দুর্বলতা গাফিলতি কিছু ছিল কিনা। আমি এখানে স্পষ্টভাবে বলছি, আমি ওখানে ল্যান্ড করার পর থেকে শেষে আমি ইন্ডিয়ান টাইম রাত ১২টা ৩০ এ একটা ফ্লাইটে কলম্বো হয়ে ঢাকায় ফিরেছি। কারণ আমি চাইনি ভারতের ইমিগ্রেশন ক্রস করব। সেজন্য আমারও বেশ কিছু ঝুট ঝামেলা হয়েছে। পুরো সময় টাই হাইকমিশনার পাশে ছিলেন।


