পিলং গ্রামের কাছে হামলার দাবি স্থানীয়দের; সীমান্ত পেরিয়ে সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলার অভিযোগ, ঘটনার তদন্তে পুলিশ
কে আর সি টাইমস ডেস্ক
ইম্ফল:মণিপুরের কামজং জেলায় মায়ানমার সীমান্তের কাছে চার তাংখুল নাগা গ্রামবাসীকে গুলি করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার পিলং গ্রামের কাছে এই হামলার ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন। তবে শুক্রবার পর্যন্ত পুলিশ এই হত্যাকাণ্ডের সত্যতা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, বৃহস্পতিবার দুপুর দেড়টা নাগাদ আন্তর্জাতিক সীমান্তের ৯১ থেকে ৯৩ নম্বর সীমান্ত স্তম্ভের মধ্যবর্তী এলাকায় পাঁচজনের উপর হামলা চালানো হয়। অভিযোগ, মায়ানমারের দিক থেকে সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরা সীমান্ত পেরিয়ে এসে ওই পাঁচজনকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। তাঁদের মধ্যে চারজন ঘটনাস্থলেই নিহত হন বলে দাবি করা হয়েছে। পঞ্চম ব্যক্তি কোনওরকমে পালিয়ে গিয়ে গ্রামবাসী ও স্থানীয় প্রশাসনকে খবর দেন।
ঘটনার খবর পাওয়ার পরই নিরাপত্তাকর্মীদের একটি দল দুর্গম ওই এলাকায় পাঠানো হয়। নিহতদের দেহ উদ্ধারের জন্যও পরে অভিযান চালানো হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
পিলং গ্রামটি কামজং জেলা সদর থেকে প্রায় ৩৪ কিলোমিটার দূরে এবং মায়ানমার সীমান্তের কাছেই অবস্থিত। দুর্গম ও সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় ঘটনাস্থলে পৌঁছতে নিরাপত্তাবাহিনীকে সমস্যার মুখে পড়তে হয় বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রগুলি দাবি করেছে, হামলায় কুকি ন্যাশনাল আর্মি-বার্মা (KNA-B)-র সদস্য এবং সশস্ত্র কুকি গোষ্ঠীর লোকজন জড়িত ছিল। তবে এই অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
নিহত চারজনের নাম ফামি জাজো, বেটারসন জাজো, ভারেইশিম জাজো এবং নিংথেম কাশাক বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। প্রথম তিনজন কাঙপাট খুল্লেন গ্রামের বাসিন্দা এবং নিংথেম কাশাক জিংসুই গ্রামের বাসিন্দা বলে দাবি করা হয়েছে।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। চার তাংখুল নাগা গ্রামবাসীর মৃত্যুর প্রতিবাদে তাংখুল নাগা লং (TNL) তাদের অধীন এলাকায় সম্পূর্ণ বন্ধের ডাক দিয়েছে বলে জানা গেছে।
তবে পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাটি সম্পর্কে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পাওয়ার পর একটি দল এলাকায় পাঠানো হয়েছে এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। ফলে নিহতের সংখ্যা, হামলাকারীদের পরিচয় এবং ঘটনার সঠিক পরিস্থিতি সম্পর্কে সরকারি তদন্তের ফল না আসা পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।


