২০২৩-এর হিংসায় অর্থনীতি ও জীবিকার উপর বড় প্রভাব, দাবি ওয়াই কেমচাঁদ সিংয়ের; ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ১০ হাজার টাকা করে সহায়তার ঘোষণা
কে আর সি টাইমস ডেস্ক
ইম্ফল,:মণিপুরে ঘন ঘন বন্ধ ও অবরোধের জেরে প্রতিদিন প্রায় ২৫ থেকে ৩০ কোটি টাকা কর রাজস্ব হারাচ্ছে রাজ্য সরকার। শুক্রবার এমনই দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী ওয়াই কেমচাঁদ সিং। তাঁর বক্তব্য, ২০২৩ সালে শুরু হওয়া দীর্ঘস্থায়ী হিংসার প্রভাব শুধু আইনশৃঙ্খলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, রাজ্যের অর্থনীতি, সরকারি রাজস্ব এবং সাধারণ মানুষের জীবিকাতেও তার বড় প্রভাব পড়েছে।
বিষ্ণুপুর জেলার ইন্ডিয়ান ন্যাশনাল আর্মি শহিদ স্মারক কমপ্লেক্স হলে সেবা সংকল্প অভিযানের একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেই তিনি বলেন, ঘন ঘন বন্ধ ও অবরোধের কারণে প্রতিদিন রাজ্যের প্রায় ২৫-৩০ কোটি টাকা কর রাজস্ব ক্ষতি হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী বিভিন্ন সংগঠন ও সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন করেন, মতপার্থক্য থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমে মেটানোর চেষ্টা করা হোক। এমন কোনও আন্দোলন না করারও আবেদন জানান, যার ফলে স্বাভাবিক জনজীবন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হয়।
মণিপুরের পরিস্থিতি বুঝতে যারা রাজ্য ও মানুষের স্বার্থে কথা বলছেন, তাঁদের পাহাড়ি এলাকাগুলিতে গিয়ে বাস্তব পরিস্থিতি দেখারও আবেদন জানান কেমচাঁদ। তাঁর বক্তব্য, শুধু দূর থেকে পাওয়া বক্তব্য বা তথ্যের উপর নির্ভর না করে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলির বাস্তব পরিস্থিতি বোঝা প্রয়োজন।
দীর্ঘদিনের অস্থিরতায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন দৈনিক মজুরির উপর নির্ভরশীল পরিবারগুলি। সম্প্রতি বিধানসভার অষ্টম অধিবেশনে আলোচনা শেষে রাজ্য সরকার প্রায় ৩ লক্ষ ৫০ হাজার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ১০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। এর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থও বাজেটে বরাদ্দ করা হয়েছে।
নভেম্বরে নিংগোল চাকৌবা উৎসবের আগে মহিলা পথবিক্রেতাদের জন্য বিশেষ আর্থিক সহায়তা প্রকল্প চালু করার কথাও ঘোষণা করেন তিনি। এখনও যাঁরা এই প্রকল্পে নাম নথিভুক্ত করেননি, তাঁরা সংশ্লিষ্ট বিধায়কের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন বলে জানান কেমচাঁদ।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জনজীবনে ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে দেশজুড়ে সেবা সংকল্প অভিযান পালন করা হচ্ছে বলেও অনুষ্ঠানে জানান মুখ্যমন্ত্রী। জনসেবা ও সুশাসনের ভাবনাকে সামনে রেখে মাসব্যাপী এই কর্মসূচি চলছে।


