রাষ্ট্রপুঞ্জে স্থায়ী সদস্যপদে ভারতের দাবিতে রাশিয়ার সমর্থন

< 1 - মিনিট |

নিরাপত্তা পরিষদে এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর পক্ষে মস্কো; জার্মানি ও জাপানের নতুন স্থায়ী আসনের বিরোধিতা লাভরভের

কে আর সি টাইমস ডেস্ক

নিউ ইয়র্ক: রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্যপদের জন্য ভারতের দাবিকে সমর্থন করল রাশিয়া। একই সঙ্গে জার্মানি ও জাপানের মতো পশ্চিমা দেশগুলিকে নতুন করে স্থায়ী সদস্য করার প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে মস্কো।

রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রুশ বিদেশমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ বলেন, নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কারে এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার প্রতিনিধিত্ব বাড়ানো প্রয়োজন। তবে সংস্কারের ক্ষেত্রে বর্তমান স্থায়ী সদস্যদের ক্ষমতা ও বিশেষ অধিকার বজায় রাখার পক্ষেও সওয়াল করেন তিনি।

লাভরভ জানান, স্থায়ী সদস্যপদের জন্য ভারত ও ব্রাজিলের প্রার্থিতাকে রাশিয়া সমর্থন করে। একই সঙ্গে আফ্রিকা মহাদেশের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নিরাপত্তা পরিষদের সংস্কার নিয়ে চলতি সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে একাধিক দেশ নিজেদের অবস্থান জানিয়েছে। মরিশাস ভারতের স্থায়ী সদস্যপদের দাবির প্রতি সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে। দেশটির বিদেশমন্ত্রী ধনঞ্জয় রামফুল জানান, নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কারে জি৪ এবং এল৬৯ গোষ্ঠীর অবস্থানকে সমর্থন করে মরিশাস।

পর্তুগালের প্রধানমন্ত্রী লুইস মন্টেনেগ্রোও নিরাপত্তা পরিষদকে আরও প্রতিনিধিত্বশীল করার পক্ষে মত দিয়েছেন। আফ্রিকা, ব্রাজিল ও ভারতের স্থায়ী প্রতিনিধিত্বের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন তিনি।

বর্তমানে রাষ্ট্রপুঞ্জের নিরাপত্তা পরিষদে পাঁচ স্থায়ী সদস্য—চিন, ফ্রান্স, রাশিয়া, ব্রিটেন ও আমেরিকা। রয়েছে ১০টি অস্থায়ী আসন, যার সদস্যদের দু’বছরের জন্য নির্বাচিত করা হয়।

ভারত, ব্রাজিল, জার্মানি ও জাপানকে নিয়ে গঠিত জি৪ দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তা পরিষদে স্থায়ী সদস্যপদের দাবি জানিয়ে আসছে। জাপানও পরিষদের স্থায়ী ও অস্থায়ী—দুই ধরনের আসন বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছে।

আফ্রিকার দেশগুলিও পরিষদে নিজেদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর দাবি তুলেছে। সিয়েরা লিওনের প্রেসিডেন্ট জুলিয়াস মাদা বায়ো বলেন, নিরাপত্তা পরিষদের বর্তমান কাঠামো এখনও ১৯৪৫ সালের বাস্তবতাকে প্রতিফলিত করে, অথচ আফ্রিকার কোনও স্থায়ী আসন নেই।

নিরাপত্তা পরিষদের কাঠামো পরিবর্তনের জন্য সাধারণ পরিষদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার পাশাপাশি রাষ্ট্রপুঞ্জের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য দেশের অনুমোদন প্রয়োজন। এর মধ্যে পাঁচ স্থায়ী সদস্যের প্রত্যেকের অনুমোদনও বাধ্যতামূলক।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *