ভোটে কারচুপি হলে সংবিধান ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানও দুর্বল হয় বলে দাবি; নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে ফের সরব লোকসভার বিরোধী দলনেতা
কে আর সি টাইমস ডেস্ক
নয়াদিল্লি: ভারতে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে ফের সরব হলেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। বৃহস্পতিবার সাংবাদিক বৈঠকে তিনি দাবি করেন, “শতভাগ নিশ্চিত” যে দেশে নির্বাচন কারচুপির মাধ্যমে প্রভাবিত করা হচ্ছে। তাঁর প্রশ্ন, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় যেখানে সাধারণত ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে জনমতের পরিবর্তন বা অ্যান্টি-ইনকাম্বেন্সি কাজ করে, ভারতে সেই প্রবণতা কোথায় গেল?
রাহুল বলেন, “সব নির্বাচনেই কারচুপি হচ্ছে।” তাঁর বক্তব্য, ভোটই সংবিধান ও রাষ্ট্রের সাংবিধানিক ক্ষমতার মূল উৎস। তাই ভোট নষ্ট বা বিকৃত হলে তার প্রভাব সংবিধান এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলির উপরও পড়ে।
বৃহস্পতিবারের সাংবাদিক বৈঠকে রাহুলের বক্তব্য আসে নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকা সংশোধন, বিশেষ করে স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) ঘিরে চলা রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই। এর আগে তিনি ‘ভোট চুরি’ নিয়ে একাধিক অভিযোগ তুলেছেন।
সাংবাদিক বৈঠকের শুরুতে একটি ভিডিও দেখান রাহুল গান্ধী। তাঁর দাবি, ওই ভিডিওতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে বিজেপি সরকারের দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার বিষয়ে মন্তব্য করতে শোনা যাচ্ছে। সেই বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে রাহুল বলেন, রাজনৈতিক জীবনে দীর্ঘদিন থাকার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি মনে করেন, কোনও রাজনৈতিক নেতা বা দল ভবিষ্যতে কয়েক দশক ক্ষমতায় থাকার বিষয়ে এমন নিশ্চয়তা দিতে পারেন না।
অ্যান্টি-ইনকাম্বেন্সির প্রসঙ্গও তোলেন তিনি। রাহুলের বক্তব্য, কোনও সরকার বা রাজনৈতিক নেতার জনপ্রিয়তা এবং সরকারের কাজের মূল্যায়ন এক বিষয়, কিন্তু গণতন্ত্রে সময়ের সঙ্গে ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে জনমতের পরিবর্তনও একটি স্বাভাবিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়া।
এই প্রসঙ্গে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর উদাহরণ দেন তিনি। রাহুলের দাবি, বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধে ভারতের ভূমিকা এবং তৎকালীন সরকারের সাফল্যের পরও অল্প সময়ের মধ্যে ইন্দিরা গান্ধী সরকারের বিরুদ্ধে প্রবল রাজনৈতিক বিরোধিতা তৈরি হয়েছিল।
রাহুলের প্রশ্ন, একই ধরনের অ্যান্টি-ইনকাম্বেন্সি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ বা বিজেপির ক্ষেত্রে কেন দেখা যাচ্ছে না। তিনি বলেন, বিভিন্ন রাজ্যে ভোটের প্রবণতার পরিবর্তন এবং অ্যান্টি-ইনকাম্বেন্সির অনুপস্থিতি কংগ্রেসের কাছে একটি “মৌলিক প্রশ্ন” হয়ে উঠেছে।
তবে নির্বাচন কমিশনকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের ক্ষেত্রে পাল্টা বক্তব্যও রয়েছে। ভোটার তালিকা সংশোধন সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে নির্বাচন কমিশনের দুই সদস্যের আপত্তির খবর প্রকাশ্যে আসার পর বিরোধীরা কমিশনের কাজকর্ম নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের বক্তব্য, খসড়া পর্যায়ে বিভিন্ন মতামত, প্রশ্ন ও পরামর্শ প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ এবং SIR-সহ কমিশনের সিদ্ধান্তগুলি তিন কমিশনারের সম্মতিতেই নেওয়া হয়েছে।
এই বিতর্কের মধ্যেই রাহুল গান্ধী ফের দাবি করেছেন, ভোটের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠা মানে দেশের সাংবিধানিক কাঠামো নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হওয়া। তাঁর কথায়, ভোট থেকেই সংবিধান ক্ষমতা পায় এবং সেই সংবিধানের ভিত্তিতেই দেশের আইন ও প্রতিষ্ঠানগুলি পরিচালিত হয়।


