২০১৯ সালের ১১ ডিসেম্বর মতুয়াদের দ্বিতীয় স্বাধীনতা। ওই দিনটি পুজো করব
কে আর সি টাইমস ডেস্ক
‘মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভাঁওতাবাজি করেছেন। একটা ঘাট বেঁধে উন্নয়ন হয় না। কী উন্নয়ন করা দরকার, সেটা বর্তমান কেন্দ্র সরকার করে দেখাল। মতুয়াদের স্থায়ীত্ব দিয়েছে। তাই ২০১৯ সালের ১১ ডিসেম্বর মতুয়াদের দ্বিতীয় স্বাধীনতা। ওই দিনটি পুজো করব।” বৃহস্পতিবার দুর্গাপুরের জনসভা থেকে এমনই মন্তব্য করলেন বনগাঁর বিজেপি সাংসদ শান্তনু ঠাকুর। একই মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করেন শান্তনু ঠাকুর, সায়ন্তন বসু ও সুভাষ সরকার। প্রসঙ্গত, নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন নিয়ে উত্তাল গোটা পশ্চিমবাংলা। বিরোধীতায় পথে নেমেছে বিজেপি বিরোধী দলগুলি। অন্যদিকে বাংলাদেশে অত্যাচারিত হয়ে আসা এদেশের শরানার্থী হয়ে থাকা মতুয়া সম্প্রদায় দুহাত তুলে পূর্ণ সমর্থন করেছে। দুর্গাপুর ও তৎসংলগ্ন বড়জোড়া, কাঁকসা এলাকায় রয়েছে প্রচুর মতুয়া সম্প্রদায়। বৃহস্পতিবার দুর্গাপুর শ্যামপুর ময়দানে বিজেপির সিএএ সমর্থনে সভা ছিল। এদিন সভার আগে দুর্গাপুর ষ্টেশন থেকে অভিন্দন যাত্রা করে বিজেপি। সভায় উপস্থিত ছিলেন বাঁকুড়ার বিজেপি সাংসদ ডা. সুভাষ সরকার, বনগাঁর সাংসদ তথা মতুয়া মহাসঙ্ঘের সঙ্ঘাধিপতি শান্তনু ঠাকুর ও বিজেপির রাজ্য সম্পাদক সায়ন্তন বসু প্রমুখ। এদিন সকলের মুখে ছিল সিএএ নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কড়া ভাষায় আক্রমণ। এদিন বক্তব্যে শান্তনু ঠাকুর বলেন,” পশ্চিমবাংলায় সাড়ে ৯ কোটি জনসংখ্যার প্রায় ৩ কোটি মতুয়া। সিএএ তে মতুয়ারা লাভবান হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভাঁওতাবাজি করেছেন। একটা ঘাট বেঁধে উন্নয়ন হয় না। কি উন্নয়ন করা দরকার, সেটা বর্তমান কেন্দ্র সরকার করে দেখাল। মতুয়াদের স্থায়ীত্ব দিয়েছে। তাই ২০১৯ সালের ১১ ডিসেম্বর মতুয়াদের দ্বীতিয় স্বাধীনতা। ওই দিনটি পুজো করব।” এদিন তিনি মতুয়াদের উদ্দেশ্যে বললেন,” মতুয়াদের বলছি রাস্তায় নেমে গুলি খেতে রাজি আছি। তবু সিএএ র বিরোধিতা করব না।” একইসঙ্গে সায়ন্তন বসু বলেন,” এক নেতা বলেছেন, নেতাজি থাকলে সিএএ হত না। আমি বলছি, নেতাজি থাকলে দেশটা ভাগ হত না। দেশটা ভাগ হয়েছে বলেই সিএএ এনেছে।” নেতাজির জন্মদিন দেশপ্রেম দিবস প্রশ্ন করতেই তিনি বলেন,” নেতাজির অন্তর্ধান রহস্য জানা যায়নি। নেতাজি রিসার্চ ব্যুরো সরকারের পয়সা নেওয়া জায়গায় পরিনত হয়েছে। নেহেরু পরিবার থেকে শুরু করে কংগ্রেস সরকারের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা নিয়েছে নেতাজী রিসাচ ব্যুরো গুলো। টাকা নিয়ে কি কাজ করেছে? তার তদন্ত প্রয়োজন। আমরা চাই সিবিআই তদন্ত হোক।” ডাঃ সুভাষ সরকার বলেন,” দিদির সিএএ বিরোধী আন্দোলোনে ছোট নেতারা কেউ হাঁটছে না। কিছু বুদ্ধিজীবী, ধান্দাজীবীরা মমতার কাছে অনুদান পায়, বেলভিউয়ে চিকিৎসা পায়। তারা নড়তে পারছে না। তারাই বিরোধিতার কথা বলছে।”


