প্রয়াত অসমিয়া ভাষার বিশিষ্ট পণ্ডিত গোলোকচন্দ্ৰ গোস্বামী, মুখ্যমন্ত্রী-সহ শোক বহুজনের

2 - মিনিট |

অসমিয়া ভাষার বিশিষ্ট পণ্ডিত, গবেষক, সংস্কারক, সরলীকরণের প্ৰবক্তা ড. গোলোকচন্দ্ৰ গোস্বামী গুয়াহাটিতে নিজের বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন

কে আর সি টাইমস ডেস্ক

অসমিয়া ভাষার বিশিষ্ট পণ্ডিত, গবেষক, সংস্কারক, সরলীকরণের প্ৰবক্তা ড. গোলোকচন্দ্ৰ গোস্বামী আর নেই। বার্ধক্যজনিত কারণে ৯৭ বছর বয়সে শুক্রবার ভোরে গুয়াহাটিতে নিজের বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। গত বছরের ২৫ নভেম্বর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে সংকটজনক অবস্থায় স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে তাঁকে ভরতি করা হয়েছিল। পরে স্বাস্থ্যের কিছু উন্নতি ঘটলে দিন-কয়েক আগে নিজস্ব বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।

এদিকে অসমিয়া ভাষার বিশিষ্ট পণ্ডিত ড. গোলোকচন্দ্ৰ গোস্বামীর মৃত্যুর খবর পেয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী-সহ বিভিন্ন ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান এবং সংগঠন গভীর শোক ব্যক্ত করেছে। শোক ব্যক্ত করেছে অসম সাহিত্য সভা, অসম প্ৰকাশন পরিষদও। তাঁকে শেষ শ্ৰদ্ধা জানাতে তাঁর বাড়িতে বহু গুণমুগ্ধ ভিড় করেছিলেন। আজই বিকেলে সম্পূর্ণ রাজ্য মর্যাদায় তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে।

ড. গোলোকচন্দ্ৰ গোস্বামীর মৃত্যুতে অসমিয়া ভাষার ব্যাপ্ত দৃষ্টিভঙ্গির অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন এই ধারায় কর্মরত গবেষক একাধিকজন।

বিশিষ্ট অসমিয়া ভাষাবিদ গোলোকচন্দ্ৰ গোস্বামীর জন্ম হয়েছিল ১৯২৩ সালের ১৫ নভেম্বর অবিভক্ত নগাঁও জেলার মায়ং মৌজার অন্তৰ্গত দৈপাড়া সত্ৰে৷ ১৯৪৮ সালে কটন কলেজ থেকে স্নাতক ডিগ্ৰি নিয়ে গুয়াহাটির কামরূপ অ্যাকাডেমিতে শিক্ষকতার মাধ্যমে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন গোস্বামী। শিক্ষকতার পাশাপাশি নৈশ ক্লাসে বিটি পাঠক্রম সমাপ্ত করেন তিনি৷ বিটি পড়ার সময় তাঁকে বুনিয়াদী শিক্ষার স্নাতকোত্তর প্ৰশিক্ষণের জন্য অসম সরকার দিল্লির জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে নিৰ্বাচন করে৷ সেখানে এক বছরের প্ৰশিক্ষণ সফলতার সঙ্গে সমাপ্ত করার পর অসমে ফিরে এসে গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অসমিয়া ভাষার স্নাতকোত্তর শ্ৰেণিতে ভরতি হন৷

১৯৫৪ সালে গোলোকচন্দ্ৰ গোস্বামী প্ৰথম শ্ৰেণির প্ৰথম স্থানে স্নাতকোত্তর ডিগ্ৰি লাভ করে গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অসমিয়া বিভাগে শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন৷ ১৯৫৪ সালের ১৫ নভেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত পুণের ডেক্কান কলেজে অনুষ্ঠিত উইন্টার স্কুল অব লিঙ্গুইস্টিকস্ শীৰ্ষক ভাষা-বিজ্ঞানের প্ৰশিক্ষণ অনুষ্ঠানে অংশগ্ৰহণ করেন তিনি৷

১৯৫৫ সালের ২ মে মামণি দেবীর সঙ্গে বিবাহপাশে আবদ্ধ হন তিনি। ওই সালের মে থেকে ১৯৫৬ সালের শেষ পর্যন্ত তিনি পুণের ডেক্কান কলেজে ভাষা-বিজ্ঞানের গবেষক ছাত্ৰ হিসেব প্ৰশিক্ষণ নেন৷ ১৯৫৬ সালের শেষের দিকে গোস্বামী নিউইয়ৰ্কের রোকফেলার ফাউন্ডেশনের রিসার্চ ফেলো হিসেবে কেলিফৰ্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বাৰ্কলি টোলে ভাষাবিজ্ঞান বিভাগে যোগদান করেন৷

১৯৬৭ সালে তিনি গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অসমিয়া বিভাগের রিডার এবং ১৯৭৮ সালে ওই বিভাগের প্রধান অধ্যাপক হিসেবে কাৰ্যভার গ্ৰহণ করেন৷ ১৯৮৫ সালে ওই পদ থেকেই অবসর গ্ৰহণ করেন ড. গোলোকচন্দ্ৰ গোস্বামী৷

অসমিয়া ভাষার আরেক বিশিষ্ট ভাষাবিদ ড. বাণীকান্ত কাকতির ‘অ্যাসামিজ : ইটস ফর্মেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক বইয়ের পুনঃসম্পাদনা ছাড়াও তিনি বহু গ্রন্থ রচনা করে গেছেন। তাঁর রচিত গ্রন্থবলি যথাক্রমে –
‘ধবণি-বিজ্ঞানর ভূমিকা’ (১৯৬৬ সাল), ইংরেজি ‘অ্যান ইন্ট্রডাকশন টু অ্যাসামিজ ফনোলজি’ (১৯৬৬), ‘অসমীয়া বৰ্ণ প্ৰকাশ’ (১৯৬৯), ‘অসমীয়া আখর জোঁটনি’ (১৯৭২), ‘অসমীয়া গোলোক ব্যাকরণ (প্ৰবোধ ভাগ)’ (১৯৭২), ‘অসমীয়া গোলোক ব্যাকরণ (সুবোধ ভাগ)’ (১৯৭৪), ‘স্ট্রাকচার অব অ্যাসামিজ’ (১৯৮৩), ‘হিন্দী-অসমীয়া-ইংরাজী ত্ৰিভাষী অভিধান’ (১৯৮৫), ‘হিন্দী-অসমীয়া লঘুকোষ’ (১৯৮৫), ‘ভারতীয় ভাষাকোষ’ (১৯৮৫), ‘অসমীয়া ব্যাকরণর মৌলিক বিচার’ (১৯৮৭), ‘ভাষা-ভাষাণিকা’ (১৯৯২), ‘অসমীয়া ব্যাকরণ প্ৰবেশ’ (২০০০), ‘অসমীয়া ভাষার অনুশীলন’ (২০০০), ‘অসমীয়া ভাষার উচ্চারণ’ (২০০০), ‘অসমীয়া ব্যাকরণ প্ৰবেশ’ (২০০২), ‘অসমীয়া আখর জোঁটনি সমীক্ষা’ (২০০৯) ইত্যাদি।

তাঁকে অসম ভাষা-বিজ্ঞান সমিতি ‘ভাষাচাৰ্য্য’ উপাধি এবং অসম সাহিত্য সভা ‘সাহিত্যাচাৰ্য’ উপাধিতে বিভূষিত করেছিল। এছাড়া ২০০১ সালে তাঁকে আনন্দরাম বরুয়া ভাষা-কলা-সংস্কৃতি সংস্থার তরফ থেকে ‘আনন্দরাম বরুয়া পুরস্কার’ দিয়ে সম্মানিত করা হয়েছে৷ এভাবে ২০০৮ সালে সাতভনী মিত্ৰ মঞ্চ, অসম নামের এক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ড. গোলোকচন্দ্ৰ গোস্বামীকে ‘ভাষাগুরু’ সম্মানে বিভূষিত করেছিল৷ তিনি অসম ভাষা-বিজ্ঞান সমিতির প্ৰতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন৷

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *