সুবেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে সরব মিলন প্রধানের স্ত্রী অর্পিতা; বিরোধীদের একজোট হওয়ার আহ্বান
কেআরসি টাইমস কলকাতা ব্যুরো
কলকাতা: নন্দীগ্রাম বিধানসভা উপনির্বাচনের আগে জেলবন্দি কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানের হয়ে প্রচারে নামার ঘোষণা করলেন তাঁর স্ত্রী অর্পিতা প্রধান। বৃহস্পতিবার কলকাতায় প্রদেশ কংগ্রেস দফতরে সাংবাদিক বৈঠক করে তিনি অভিযোগ করেন, পুরনো মামলায় মিলনকে গ্রেফতার করে নির্বাচনী প্রচার থেকে দূরে রাখা হয়েছে। তাঁর অভিযোগের নিশানায় পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী তথা নন্দীগ্রামের প্রাক্তন বিধায়ক সুবেন্দু অধিকারী। তবে এই অভিযোগের স্বাধীন কোনও প্রমাণ তুলে ধরা হয়নি।
অর্পিতা জানান, ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে তিনি ও তাঁর মেয়ে নন্দীগ্রামে গিয়ে মিলনের হয়ে প্রচার করবেন। প্রথম কর্মসূচি হবে নন্দীগ্রাম বাজার থেকে। মিলন বর্তমানে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে থাকায় নিজে প্রচারে অংশ নিতে পারছেন না।
২০০৭ সালের নন্দীগ্রাম জমি অধিগ্রহণ-বিরোধী আন্দোলন সংক্রান্ত প্রায় ১৯ বছরের পুরনো একাধিক মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর মিলনকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে। ৬ অক্টোবর নন্দীগ্রামে উপনির্বাচন। আদালতের হেফাজতে থাকায় নির্বাচনী প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ সময়টুকুতে মিলনের সরাসরি প্রচারে থাকা সম্ভব হচ্ছে না।
অর্পিতার প্রশ্ন, “এত পুরনো মামলায় নির্বাচনের ঠিক আগে কেন আমার স্বামীকে জেলে যেতে হল?” একই মামলায় সুবেন্দু অধিকারীর নামও ছিল বলে দাবি করে তিনি জানতে চান, তিনি বাইরে থাকলেও মিলন কেন জেলবন্দি। তাঁর অভিযোগ, বিরোধী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণেই মিলনকে ‘মিথ্যা মামলায়’ ফাঁসানো হয়েছে।
অর্পিতা আরও বলেন, মিলনের গ্রেফতারের প্রভাব তাঁদের পরিবারেও পড়েছে। তাঁর দাবি, মেয়ের পড়াশোনাতেও সমস্যা তৈরি হয়েছে। তিনি নন্দীগ্রামের মানুষের কাছে তাঁর স্বামীর পাশে দাঁড়ানোর আবেদন জানান।
মিলনকে গ্রেফতারের ঘটনা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে। ১৮ সেপ্টেম্বর তৃণমূলের মমতা-শিবিরের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে মনোনয়ন প্রত্যাহার করার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেস প্রার্থী মিলনকে সমর্থনের ঘোষণা করেন। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মিলনকে ২০০৭ সালের পুরনো মামলায় গ্রেফতার করা হয়। ঘটনাক্রম নিয়ে কংগ্রেস প্রশ্ন তুললেও পুলিশ ও আদালতের নথিতে গ্রেফতারের ভিত্তি হিসেবে পুরনো মামলায় জারি থাকা পরোয়ানার কথা উঠে এসেছে।
অর্পিতা এদিন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি নন্দীগ্রাম উপনির্বাচনে বিজেপির বিরুদ্ধে সমস্ত বিরোধী দলকে একজোট হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তাঁর পাশে ছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার এবং দলের রাজ্য পর্যবেক্ষক প্রকাশ জোশী। শুভঙ্কর জানান, কংগ্রেস প্রার্থীর প্রতি যাঁদের সমর্থন রয়েছে, তাঁরা চাইলে এই প্রচারে যোগ দিতে পারেন।
নন্দীগ্রামের উপনির্বাচনটি হচ্ছে সুবেন্দু অধিকারী আসনটি ছেড়ে দেওয়ার পর। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—দুই কেন্দ্র থেকেই জিতেছিলেন অধিকারী; পরে ভবানীপুর আসনটি রেখে নন্দীগ্রাম ছেড়ে দেন। বিজেপি এই উপনির্বাচনে হাসিরানি রথকে প্রার্থী করেছে।


