ভুয়ো টিকাকরণ ক্যাম্প ও ঔষধ চুরির সিবি‌আই তদন্ত চেয়ে মামলা

2 - মিনিট |

ভুয়ো আইএএস অফিসার নিজেকে পৌর আধিকারিক হিসাবে পরিচয় দিয়ে টানা ১০দিন ধরে কসবা রাজডাঙা এলাকায় করোনার টিকাকরণ ক্যাম্প চালিয়েছেন

KRC Times Desk

ভ্যাকসিন কেলেঙ্কারি এবং মেডিক্যাল কলেজ থেকে করোনার ইনঞ্জেকশন চুরির ঘটনায় সিবিআই তদন্ত চেয়ে শুক্রবার জনস্বার্থের মামলা দায়ের হয়েছে। মামলার আবেদনকারী সন্দীপন দাস তাঁর আবেদনে বলেছেন, কসবায় ভুয়ো টিকাকরণ ক্যাম্প কীভাবে সংগঠিত হয়েছে এবং মেডিক্যাল কলেজ থেকে ১১লক্ষ টাকার করোনার ইনঞ্জেকশন টসিলিজুমাব উধাও হয়ে গেছে তা জনসমক্ষে আনতে হবে।

আবেদনে বলা হয়েছে যে সমস্ত মানুষ কলকাতায় ভুয়ো আইএএস অফিসার দেবাঞ্জন দেব পরিচালিত ক্যাম্প থেকে করোনার টিকা নিয়েছেন তাঁদের ক্ষতিপূরণ এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে। সরকারি হাসপাতাল থেকে ইনঞ্জেকশন চুরির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে হবে। কলকাতায় করোনা পরিস্থিতিতে মানুষ যখন ভ্যাকসিনের জন্য নাজেহাল অবস্থার মধ্য পড়েছেন তখনই ভুয়ো আইএএস অফিসার দেবাঞ্জন দেব কলকাতা কর্পোরেশনের সমান্তরাল অফিস বানিয়ে নিজেকে পৌর আধিকারিক হিসাবে পরিচয় দিয়ে টানা ১০দিন ধরে কসবা রাজডাঙা এলাকায় করোনার টিকাকরণ ক্যাম্প চালিয়েছেন।

নতুন কভিড SOP জারী করল আসাম সরকার, ২৪৭ টি এলাকা কন্টেইনমেন্ট জোন

এই দেবাঞ্জন দাসের সঙ্গে কর্পোরেশনের এবং রাজ্যের শাসকদলের কোন কোন আধিকারিক এবং নেতার পরিচয় ছিল তাঁদের পরিচয় জনমানসে আনতে হবে। মামলার আবেদনে বলা হয়েছে, দেবাঞ্জন দাসকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। কিন্তু এই বিরাট পরিকল্পনার সঙ্গে বহু মানুষ যুক্ত ছিলেন, তাদের পরিচয় প্রকাশ্যে আনার আবেদন জানানো হয়েছে। ভুয়ো আইএএস অফিসার সঙ্গে রাজ্যের মন্ত্রীদের ছবি সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছে। ফিরহাদ হাকিম, সুব্রত মুখার্জি প্রমুখ রাজ্য মন্ত্রিসভার সদস্যদের সঙ্গে এই ভুয়ো অফিসারের ওঠাবসার খবরও সংবাদপত্রে প্রকাশ পেয়েছে। তৃণমূল সাংসদ শান্তনু সেনের সঙ্গেও তাঁর ছবি প্রকাশিত হয়েছে। তাছাড়া এই ভুয়ো অফিসারের অফিস থেকে কলকাতা কর্পোরেশনের বিভিন্ন লোগো, প্যাড উদ্ধার হয়েছে।

কাশ্মীরে কেন্দ্রের নতুন স্ট্র্যাটেজি, ডিলিমিটেশন করে তবেই ভোট

কীভাবে কলকাতা কর্পোরেশনের নথি সেখানে গেল তা তদন্ত করে দেখতে হবে। যদি কর্পোরেশনের নথি এবং প্যাড জাল করা হয়ে থাকে তাহলে কার মদতে এই কাজ হয়েছে তা তদন্ত করে দেখতে হবে। মামলার আবেদনে বলা হয়েছে, কলকাতা কর্পোরেশনের বিভিন্ন এলাকায় কসবার মতো ভুয়ো টিকাকরণ ক্যাম্প পরিচালনা করেছে দেবাঞ্জন দেব। এই ক্যাম্প পরিচালনার জন্য যে অর্থের প্রয়োজন তা কীভাবে সংগ্রহ করা হয়েছে তা খতিয়ে দেখতে হবে। এই ভুয়ো ক্যাম্পগুলি থেকে যে সমস্ত মানুষকে টিকা দেওয়া হয়েছে তাঁদের তালিকা প্রস্তুত করে স্বাস্থ্যপরীক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে।

নির্বাচন পরবর্তী হিংসার ঘটনা খতিয়ে দেখবে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন

ক্যাম্পগুলিতে যে টিকা ব্যবহার করা হয়েছে তার যথাযথ ফরেনসিক পরীক্ষা করে সত্যতা প্রকাশ করে জনমানস থেকে ভীতি দূর করতে হবে। যেসমস্ত মানুষ এই টিকা নিয়ে অসুস্থ হয়েছেন তাঁদের চিকিৎসার দায়িত্ব রাজ্যকে নিতে হবে। এদিকে, এই মামলাতেই মেডিক্যাল কলেজ থেকে ১১ লক্ষ টাকার টসিলিজুমাব ইনঞ্জেকশন চুরির তদন্তের আবেদন করা হয়েছে। গত মে মাসে এই ইনঞ্জেকশন চুরির ঘটনার খবর জানাজানি হয়। তৃণমূলের বিধায়ক নির্মল মাঝির নাম এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত হয়। ঘটনার তদন্তের জন্য রাজ্য সরকার তার স্বাস্থ্য দপ্তরের প্রতিনিধিদের নিয়ে দুটি তদন্ত কমিটি তৈরি করে। কিন্তু মেডিক্যাল কলেজ থেকে একজন চিকিৎসককে বদলি ছাড়া এখন ইনঞ্জেকশন চুরির ঘটনার কোনও কিনারা হয়নি। সরকারি কোষাগার থেকে অর্থ দিয়ে কেনা ইনঞ্জেকশন চুরির ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে তা জনমানসে আনার দাবিও মামলার আবেদনে রয়েছে। আবেদনকারীর পক্ষে আদালতে রয়েছেন আইনজীবী সব্যসাচী চ্যাটার্জি এবং আইনজীবী আকাশদীপ মুখার্জি।

 

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *