আসাম বিশ্ববিদ্যালয়, শিলচরে কেন্দ্রীয় ভাবে হিমালয় দিবস-২০২২ উদযাপিত

2 - মিনিট |

নোরগে সাতবার মাউন্ট এভারেস্ট চড়েছেন, জয় করার উদ্দেশ্যে নয়, বরং প্রকৃতির কোলে চষে বেড়ানোর জন্য

কে আর সি টাইমস ডেস্ক

আসাম বিশ্ববিদ্যালয়, শিলচরে কেন্দ্রীয় ভাবে হিমালয় দিবস-২০২২ উদযাপিত হয়, মঙ্গলবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর। প্রতি বছর ৯ সেপ্টেম্বর দিনটি পালিত হয়ে আসলেও এ বছর গোটা সপ্তাহ জুড়ে সারাদেশে চারশোটিরও বেশি স্থানে দিবসটি উদযাপিত হচ্ছে।

মূল অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস্তু ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের কনফারেন্স হলে।
বাস্তু ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ডিন অধ্যাপক পার্থঙ্কর চৌধুরীর স্বাগত বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি শুরু হয়। অধ্যাপক চৌধুরী তার বক্তৃতায় বলেন, আমরা আবহাওয়ার অনিশ্চয়তার সম্মুখীন হচ্ছি এবং খাদ্য, মাটি ও জল সংক্রান্ত নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে।

প্রকৃতি তথা পরিবেশের উপর ব্যাপক অত্যাচারের ফলে হিমালয়ের উপর নির্ভরশীল হিমবাহ, বন, নদী ইত্যাদির নিরাপত্তার সমস্যা হচ্ছে। অতএব, হিমালয় এবং তার পাদদেশ অঞ্চলে পরিবেশের অকৃত্তিম ভাবটা বজায় রাখা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এবং এর জন্য অতি অবশ্যই আমাদের সমস্ত পরিকল্পনা, নীতি এবং কৌশলগুলি পুনর-নিরীক্ষণ ও পুনর্বিবেচনা করতে হবে, যাতে হিমালয় অঞ্চলে আমাদের সমস্ত উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড প্রকৃতি তথা পরিবেশের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়।

বিজ্ঞাপন

এর পর আমন্ত্রিত বক্তা মিজোরাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক এস কে ত্রিপাঠীর বক্তৃতা ছিল ‘: জলবায়ু ও জীবন সমর্থন ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রক হিসেবে হিমালয় পর্বত’ (Himalayan mountains: As regulator of climate and life support systems)।

এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক রাজীব মোহন পন্থ তার বিস্তৃত বক্তৃতায় উল্লেখ করেন যে তিনি তার জীবনের প্রথম অংশ হিমালয়ের পূর্ব, পশ্চিম এবং কেন্দ্রীয় অংশে ভ্রমণ করেছেন। তার কাছে হিমালয় সেলিব্রিটি, হিমালয় শক্তিশালী, হিমালয় মহান। সমস্ত পাহাড়ের রাজা এই হিমালয়। তেনজিং নোরগের উদ্ধৃত দিয়ে তিনি বলেন যে যে নোরগে সাতবার মাউন্ট এভারেস্ট চড়েছেন, জয় করার উদ্দেশ্যে নয়, বরং প্রকৃতির কোলে চষে বেড়ানোর জন্য।

উপাচার্য উনার ভাষনে বলেন যে আমাদের সবাইকে প্রকৃতির যত্ন নিতে হবে, এবং যদি আমরা তা করতে অপারগ হই, তাহলে সেই দিন বেশি দূরে নয় যে সে বিদ্রোহ শুরু করবে!

ওয়াইল্ড লাইফ ইনস্টিটিউটের প্রাক্তন ডিন এবং ডিরেক্টর ড. জি.এস. রাওয়াতের পাঠানো ‘ভারতীয় হিমালয় অঞ্চলে মানব কল্যাণের জন্য জীববৈচিত্র্যের সংরক্ষণ এবং যথাযথ ব্যবহার’ (Conservation and sustainable use of Biodiversity for human wellbeing in the Indian Himalayan Region) শীর্ষক উপস্থাপনাটি অধ্যাপক অপরাজিতা দে উপস্থিত সবার সামনে বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেন।

বিজ্ঞাপন

সর্বশেষ উপস্থাপনাটি ভার্চুয়াল মাধ্যমে উপস্থাপনা করেন জি বি পন্থ ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ হিমালয়ান এনভায়রনমেন্ট-এর ডিরেক্টর, বাস্তুকার কিরীট কুমার। উনার বক্তৃতার বিষয় ছিল, ‘হিমালয়ের গ্রামগুলিতে জল সুরক্ষার জন্য জল অভয়ারণ্য উন্নয়ন’ (Water Sanctuary Development for water security in the Himalayan villages)।

আসাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিদ্যা ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান অধ্যাপক অজিত কুমার দাসের ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি শেষ হয়। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিভাগের দুই ছাত্রী, অবন্তিকা প্রধান এবং দেবপ্রিয়া সরকার।

Advertisement

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *