যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বদলাতে হবে এদেশের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং :ড: গোখলে

2 - মিনিট |

শিলচর এনআইটিতে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের আন্তর্জাতিক সম্মেলন – শিলচর সহ দেশে বিদেশি ইঞ্জিনিয়ারিং বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস খোলার প্রস্তাব

চয়ন ভট্টাচার্য

শিলচর: যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বদলাতে হবে যান্ত্রিক প্রযুক্তিকে। না হলে অন্যরা এগিয়ে যাবে। সতর্কবার্তাটা দিলেন দেশের বিশিষ্ট যান্ত্রিক বাস্তুকার ড: এস কে গোখলে। তিনি নির্দিষ্ট কিছু তথ্য তুলে ধরে বলেন ২০১৭ সালের পর থেকে ইঞ্জিনিয়ারদের চাহিদা দশ শতাংশ কমে গেছে। কারণ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে ইঞ্জিনিয়ারদের ছাড়াই কোম্পানিগুলি কাজ চালিয়ে নিচ্ছে। বিশেষ করে ম্যানুফ্যাকচারিং ক্ষেত্র সংকুচিত হ ওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।শিলচরে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সাম্প্রতিক অগ্রগতির দিশা সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক এক সম্মেলনের প্রধান অতিথির ভাষনে তিনি একথাগুলি বলেন। তার মতে ভারতের যান্ত্রিক প্রযুক্তির আরও উন্নতির প্রয়োজন রয়েছে।

তাই বিদেশের বিশিষ্ট ইঞ্জিনিয়ারিং সংস্থাগুলি ভারতের ক্যাম্পাস খুলুক এটা তিনি চাইছেন। এমনকি শিলচর বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস খোলা যেতে পারে। প্রস্তাবটা অবশ্য শিলচর এনআইটির পক্ষ থেকেও আজকে রাখা হয়।এই যে তিনি এতগুলি সতর্কবাণী শোনালেন,তার লক্ষ্য হলো প্রাইভেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ। কারণ যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার একটা প্রয়োজন রয়েছে এ কথাটা তাদের বুঝতে হবে। শুধুমাত্র ডিগ্রী অর্জন করলেই তো আর চাকরি আসবে না। এছাড়া মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সঙ্গে অন্য বিষয়গুলোর সমন্বয়ে এনে চলতে হবে বা সহাবস্থানে যেতে হবে। ইঞ্জিনিয়ারিং এর সঙ্গে অন্য বিষয়গুলিকেও যুক্ত করতে হবে। না হলে কিন্তু পিছিয়ে পড়তে হবে।

একই ভাবে প্রযুক্তিবিদ্যা যে এখন অনেকটাই এগিয়ে গেছে এই কথাটাই বললেন ইতালি থেকে আসা বিশিষ্ট ইঞ্জিনিয়ার অধ্যাপক পি কারলন । তিনি বলেন, যান্ত্রিক প্রযুক্তি এখন অনেকটা এগিয়েছে ।এনিয়ে আদান-প্রদানের একটা সুযোগ থাকা উচিত। এছাড়া প্রযুক্তির অগ্রগতি মানেই পরবর্তী প্রজন্মের জন্য কিছু একটা রেখে দেওয়া। পরবর্তী প্রজন্ম যাতে আমাদের প্রশ্ন না করতে পারে আমরা কি পেলাম। ঠিক এই বিষয়টির উপর গুরুত্ব দিলেন ইতালির এই অধ্যাপক।

ভারতের আরেক বিশিষ্ট মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিয়ের দিকপাল মুম্বাইয়ের হোমি জাহাঙ্গীর ভাবা ইনস্টিটিউশন অফ মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অধ্যাপক ড: এস সুব্রাম্মনিয়াম তার বক্তব্যে ইঞ্জিনিয়ারিং কোন জায়গায় পৌঁছেছে এবং কি করা উচিত তার একটা বিশদ ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। তিনি গবেষণার উপর গুরুত্ব দিয়ে বলেন গুণগত গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। বিশেষ করে শিলচর এনআইটির মতো উত্তর পূর্বের এন আইটি গুলির প্রয়োজন রয়েছে ভালো গবেষণার। গুণগত গবেষণার উপর মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অগ্রগতি নির্ভর করছে বলে তিনি মনে করেন।

শিলচর এনআইটিতে এই চতুর্থ ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স অন রিসেন্ট এডভান্সমেন্ট অফ মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হল। অনুষ্ঠানের সূচনা করেন অনলাইনের মাধ্যমে শিলচর এন আই টি র ডিরেক্টর রজত গুপ্ত। মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং কিভাবে এগিয়ে যেতে পারে যেতে পারে এ নিয়ে অনেকগুলি গবেষণা পত্র এখানে পাঠ করা হবে। সম্মেলন উপলক্ষে একটি স্মরণিকা উন্মোচন করা হয়।দেশ-বিদেশের তারকা সমাবেশে এই আন্তর্জাতিক সম্মেলন আগামীতে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে অগ্রগতির একটা দিশা নির্দেশ করবে এটাই আশা রাখেন প্রত্যেক বক্তা।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *