বিশ্বযুদ্ধের শিলচরকে পর্যটন কেন্দ্র করার প্রস্তাব যুদ্ধ গবেষক রাজেশ্বরের

4 - মিনিট |

স্বচ্ছ শহরের তালিকায় শিলচর সর্বনিম্ন গ্রেড পেতে ব্যর্থ, বললেন ড:পার্থঙ্কর চৌধুরী

২৬ টি সংগঠনকে সংবর্ধনা কেআরসি লাইফ লাইনের

চয়ন ভট্টাচার্য

শিলচর: দ্বিতীয় বিশ্ব মহা যুদ্ধের সঙ্গে শিলচরের একটা বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। শিলচরকে ঘাঁটি করে ব্রিটিশরা জাপানের বিরুদ্ধে লড়েছিল। যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে শিলচর অনেক ঐতিহাসিক জায়গা আছে। যেগুলি পর্যটনের একটা কেন্দ্র হতে পারে। শিলচরে এক সেমিনারে এই কথাগুলো বললেন যুদ্ধ গবেষক ওয়াই রাজেশ্বর সিং। শিলচর রাজিব ভবনে কেআরসি ফাউন্ডেশন ও লাইফলাইন ফরেভার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এক সেমিনারে বিশিষ্ট অতিথির ভাষণে ইম্ফলের এই গবেষক এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, দ্বিতীয় বিশ্ব মহাযুদ্ধে প্রায় তিন মাস ইম্ফল দখল করে রেখেছিল জাপানিরা।তখন মূলত শিলচরকে ঘাটি করে জাপানিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল ব্রিটিশরা।

প্রায় ২০০ টি বিমান প্রতিদিন শিলচর থেকে উঠতো ইম্ফলের আকাশে।এসব যুদ্ধ বিজড়িত স্থান গুলি যদি গবেষণার মাধ্যমে চিহ্নিত করা যায় তাহলে শিলচর একটি পর্যটনের কেন্দ্র হতে পারে। আর পর্যটন ক্ষেত্রে সম্ভাবনা বিকশিত হলে এই উপত্যকার উন্নতি হবে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সঙ্গে জড়িত একটি শহর হিসাবে সারা বিশ্বে শিলচর স্বীকৃতি পাবে। যার ফলে প্রচুর বিদেশী পর্যটক এখানে আসবেন। এভাবেই পর্যটনের এক নতুন দিগন্তের কথা শোনালেন রাজেশ্বর। তাও আবার যুদ্ধকে কেন্দ্র করে।

রাজেশ্বরের এই মন্তব্যে বরাক উপত্যকার পর্যটনে একটা দিশা দেখাতে পারে। ঠিক একইভাবে আসাম বিশ্ববিদ্যালয় পরিবেশ বিজ্ঞানের অধ্যাপক পার্থঙ্কর চৌধুরী তার একটি গবেষণালব্ধ স্লাইড প্রদর্শন করে দেখিয়ে দেন সারা দেশের মধ্যে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন শহর হিসাবে শিলচর কোন ধরনের গ্রেডে আসছে না। ভারতের সবগুলো শহরের মধ্যে শিলচর কোন গ্রেডেই আসছে না।

ন্যূনতম এ গ্রেড করতে গেলে কি করতে হবে তার দিশা দেখালেন তিনি। সেটা হলো সচেতনতা। এই সেমিনারের বিষয়বস্তু ছিল দক্ষিণ আসাম তথা বরাকের উন্নয়নের চ্যালেঞ্জ।রোজকান্দি চা বাগানের ম্যানেজার আইবি উবাদিয়া বলেন, বরাকে অনেক কিছু করা সম্ভব। ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে অনেক উন্নতি সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

এছাড়া বরাকের যাতায়াতের উন্নয়নের জন্য কিছু প্রস্তাব সম্বলিত বক্তব্য রাখেন পিএনসি চেয়ারম্যান হারান দে। অনুষ্ঠানের শুরুতে কেআরসি ফাউন্ডেশনের মুখ্য ট্রাস্টি বিশ্বদীপ গুপ্ত বলেন, বরাক তথা দক্ষিণ আসামের আর্থিক উন্নতির জন্য একটা প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কেআরসি ফাউন্ডেশন। তাই এই প্রচেষ্টাতে সকলকে সামিল করার একটা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এই সেমিনারে বরাক মনিপুর ফ্রেন্ডশিপ অ্যাসোসিয়েশন নামে একটি নতুন সংগঠনের জন্য হয়। কেন এ সংস্থা, এর কারণ ব্যাখ্যা করে বিশ্বদীপ বলেন, ভবিষ্যতে দক্ষিণ এশিয়ার গেটওয়ে হবে মনিপুর।

তাই এই অঞ্চলের উন্নতিতে আগামীতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা থাকবে মনিপুরের। শিলচরের উন্নতিও তাই অনেকটাই নির্ভর করছে মনিপুরের ওপর। এই সংস্থার মাধ্যমে দুই রাজ্যের মানুষের মধ্যে একটা বন্ধন গড়ে তোলা হবে যার উপর ভিত্তি করে রচিত হবে এই অঞ্চলের শক্ত অর্থনৈতিক বুনিয়াদ। লাইফ লাইন ফাউন্ডেশনের পক্ষে সভাপতি সৌমিত্র দত্ত রায় বলেন, কোভিড পরিস্থিতিতে তাদের ফাউন্ডেশন মানুষের সেবায় কাজ করেছে। বিশেষ করে রক্তদান আন্দোলনে একটা সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছে লাইফ লাইন ফাউন্ডেশন।

চার থ্যালাসেমিয়া রোগীকে রক্তদান করে যাচ্ছে এই ফাউন্ডেশন। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন ফাউন্ডেশন এর সম্পাদক পল্লবিতা শর্মা। অনুষ্ঠানের ব্যক্তিগত ক্ষেত্রে বিশেষ কৃতিত্বের জন্য সংবর্ধনা জানানো হয় অখিল ভারত হিন্দু মহাসভার জাতীয় মুখপাত্র নিরন গৌতম, বিশিষ্ট স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ সার্জন ডা: সম্বুদ্ধ ধর, ডিআইজি কঙ্কন জ্যোতি শ ইকীয়া, ডা: সঞ্জীব দেবনাথ, বাসু দেব গুপ্ত, স্বর্নালী চৌধুরীকে।

অনুষ্ঠানে সমাজে বিশেষ অবদানের জন্য ২৬ টি সংগঠনকে সংবর্ধনা জানানো হয় কেআরসি ফাউন্ডেশন ও লাইফ লাইন ফরেভার ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে। এগুলি হল আকসা ,সমর্পণ ফাউন্ডেশন, সনাতন উন্নয়ন সংস্থা, দিগরখাল সমাজ উন্নয়ন সংস্থা, হোপ ফর জেমস সোসাইটি, সন্ধানী সংস্থা, প্রয়াস করিমগঞ্জ, বিবেকানন্দ পাঠ মন্দির, বিবেকানন্দ পাঠ দান কেন্দ্র, মাতৃভাষা ঐক্যমঞ্চ, প্রচেষ্টা, ফ্যান্টাস্টিক ফ্রেন্ড গ্রুপ, দৃষ্টি অ্যাসোসিয়েশন, হৃদয় এনজিও, বড়জালেঙ্গা পাইওনিয়ার সংঘ, হিন্দু রক্ষী দল, ফুলেরতল হরিনাম সংকীর্তন কমিটি, রাধারমন সেবা প্রকল্প, প্রয়াস শিলচর, হিউমেন্স অফ শিলচর, খোঁজ, বিজয়ী সংঘ, ডেসটিনি এনজিও, মাতৃভূমি এনজিও, আর্য, ভাষা সে ভাষা শক্তি ক্লাব।

এদিন কেআরসি ফাউন্ডেশন লাইফ লাইন ফরএভার ফাউন্ডেশন, দুইটি সংস্থার পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। কে আর সির পক্ষ থেকে মিডিয়া ওয়েলফেয়ার গ্রুপ সূচনা করার কথা ঘোষণা করেন বিশ্বদ্বীপ গুপ্ত। এই গ্রুপের সদস্য হওয়ার জন্য কোন ধরনের এনৃট্রি ফিস লাগবেনা। ওয়েবসাইটে ফরম পাওয়া যাবে। সাংবাদিক ও সংবাদ কর্মীদের যেকোনো ধরনের বিপদে এই ফাউন্ডেশনে এগিয়ে আসবে। অনুষ্ঠানের শেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন সমাজকর্মী জয়দীপ চক্রবর্তী। আগাগোড়া সুশৃংখল ও ছিমছাম এই অনুষ্ঠানে উপহার দেয়ার জন্য অবশ্যই ধন্যবাদ দাবি করতে পারে কেআরসি ও লাইফ লাইন।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *