শ্রীমদ্ভগদগীতা কুইজ প্রতিযোগিতায় অংশগ্ৰহনকারী ৪০জন প্রতিযোগীদের মধ্যে একটি করে প্রশংসাপত্র ও মেডেল তুলে দেওয়া হয়
কেআরসি টাইমস বারাক ভ্যালি ব্যুরো
শনিবার ২৫ ফেব্রুয়ারী বিকেল চারটা থেকে শুরু হয় শিলচর সোনাই রোড মহাপ্রভু সরণী স্থিত শিলচর শঙ্করমঠ ও মিশনের প্রাঙ্গনে গ্লোবেল হিন্দু হ্যারিটেজ ফাউন্ডেশন উক্ত মিশনে শ্রীমদ্ভগদগীতা অধ্যয়ন করা পরুয়াদের মধ্যে গীতা সম্পর্কিত প্রশ্ন- উত্তরের তিনটি গ্ৰুপের মধ্যে একটি ক্যুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। সেদিন প্রথমে মাঙ্গলিক প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন শিলচর শঙ্করমঠ ও মিশনের কর্মাধ্যক্ষ শ্রীমৎ বিজ্ঞানানন্দ ব্রম্রচারী,শ্রীমৎ চন্দন ব্রম্রচারী মহারাজ ,গ্লোবেল হিন্দু হ্যারিটেজ ফাউন্ডেশনের সভাপতি ও সঙ্গীতাঞ্জলি সঙ্গীত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নিবেদিতা সেনগুপ্তা প্রমূখেরা।তারপর ভক্তিমূলক সঙ্গীত পরিবেশন করেন উপস্থিত ছাত্র-ছাত্রীরা।
কর্মাধ্যক্ষ শ্রীমৎ বিজ্ঞানানন্দ ব্রম্রচারী মহারাজ বক্তব্যে বলেন,মানব ও প্রকৃতির এই বন্ধন ও পারস্পরিক নির্ভরতার কথাই ভগবত গীতার উপদেশে আছে । গীতার উপদেশে যজ্ঞের কথা বলা হয়েছে । এই যজ্ঞের বিধি নিয়ম এমন যে তা প্রাকৃতিক চক্রকে অব্যাহত রাখতে সাহায্য করে, গীতার তৃতীয় অধ্যায়ে বলা হয়েছে, “পরমা প্রকৃতি আমাদের যে সম্পদ দিয়েছেন কেউ যদি তা ফিরিয়ে না দেয় তবে সে চোর ছাড়া আর কি ?” সত্যিই, প্রকৃতি আমাদের নির্মল বাতাস শুদ্ধ পানীয় জল দিয়েছে । তাই বাতাস, জলকে নির্মল পবিত্র রাখা আমাদের কর্তব্য ও দায়িত্ব । মাটিতে জৈব প্রক্রিয়া ফসল ফলাতে মানুষকে সাহায্য করে ।

প্রকৃতির এই জৈব প্রক্রিয়া খাদ্য সরবরাহ করে মানবের জীবন- চক্রকে অব্যাহত রেখেছে । প্রাকৃতিক জৈব-প্রক্রিয়ায় বিষ ছড়িয়ে তাকে ধ্বংস করলে জীবন-চক্রকেই ধ্বংস করা হবে । ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তাই গীতার বাণীতে বলেছেন, “যে ব্যক্তি প্রকৃতির জীবনচক্রে বাধা দেয় সে ইন্দ্রিয় সুখে আসক্ত মহাপাপী ।
” মাটি, জল, বাতাসে দূষণের বিষ ছড়ালে প্রাকৃতিক জীবনচক্র বিঘ্নিত হয় । তাই গীতার মহান উপদেশ, ইন্দ্রিয় সুখভােগর ইচ্ছাকে নিয়ন্ত্রণ করাে । তােমার লােভ, ভােগেচ্ছা প্রকৃতিকে ধ্বংস করবে । ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন, বিশ্ব প্রকৃতির নিয়ন্ত্রক পুরুষােত্তম সকলের পরম মিত্র । তিনি কাউকে ঘৃণা করেন না ।
তিনি সর্বদা হিতকারী ।তিনি আরো বলেন,বর্তমান দিনে পরুয়া ছাত্র -ছাত্রীদের সাধারন জ্ঞানের সঙ্গে ধর্মীয় জ্ঞান অর্জন করা একান্ত প্রয়োজন,তাই শঙ্করমঠ ও মিশনের উদ্দেশ্য হচ্ছে পুথিগত জ্ঞানের সঙ্গে গীতার অধ্যয়ন করার প্রচেষ্ঠা চালানো,গীতার জ্ঞান হচ্ছে সর্ব জ্ঞানীর জ্ঞান।পরবর্তীতে গ্লোবেল হিন্দু হ্যারিটেজ ফাউন্ডেশন তথা আইনজীবি সম্রাট দত্ত শিলচর শঙ্করমঠ ও মিশনের কর্মাধ্যক্ষ শ্রীমৎ বিজ্ঞানানন্দ ব্রম্রচারী মহারাজ ও গীতা অধ্যয়নকারী ছাত্র-ছাত্রীদের এইরকম মহৎ প্রচেষ্ঠার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
পরবর্তীতে শ্রীমদ্ভগদগীতা কুইজ প্রতিযোগিতায় অংশগ্ৰহনকারী ৪০জন প্রতিযোগীদের মধ্যে একটি করে প্রশংসাপত্র ও মেডেল তুলে দেন শ্রীমৎ বিজ্ঞানানন্দ ব্রম্রচারী মহারাজ, শ্রীমৎ চন্দন ব্রম্রচারী মহারাজ,সম্রাট দত্ত,নিবেদিতা সেনগুপ্তা প্রমূখেরা।


