অসমে ৬,০০০ কোটিরও অধিক টাকার রেলওয়ে প্রকল্প

3 - মিনিট |

জাতির প্রতি উৎসর্গ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি

কে আর সি টাইমস ডেস্ক

মালিগাঁও : বহাগ বিহু উপলক্ষে আজ গুয়াহাটিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অসমের ২৪৯ কিলোমিটার ডাবল লাইন, ৮৬ কিলোমিটার নতুন লাইন ও ৫১২ কিলোমিটার ইলেকট্রিক রেলওয়ে ট্র্যাক দেশের প্রতি উৎসর্গ করেছেন। এই অনুষ্ঠানে অসমের মাননীয় রাজ্যপাল গুলাব চান্দ কাতারিয়া, অসমের মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্ত বিশ্ব শর্মা, কেন্দ্রীয় বন্দর, নৌ পরিবহণ ও জলপথ এবং আয়ুষ মন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়াল, কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক এবং শ্রম ও নিয়োগ মন্ত্রকের মাননীয় কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী রামেশ্বর তেলি এবং অসম সরকারের মাননীয় মন্ত্রী বিমল বরাও এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

এই অনুষ্ঠানে ভাষণ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে উত্তর-পূর্বে সর্বদাই ভৌগলিক সংযোগের অভাবের সমস্যা ছিল, যা বর্তমান সরকার সড়ক, রেল এবং বিমান যোগাযোগের উপর জোর দিয়ে সমাধান করছে। গত ৯ বছরের সময়কালে মণিপুর, মিজোরাম, মেঘালয়, অরুণাচল প্রদেশ এবং ত্রিপুরায় ব্রডগেজ ট্রেন পৌঁছেছে। উত্তর-পূর্বে আগের তুলনায় তিনগুণ দ্রুতগতিতে নতুন রেললাইন স্থাপন করা হচ্ছে এবং আগের তুলনায় প্রায় ১০ গুণ দ্রুতগতিতে রেল লাইনের দ্বৈতকরণের কাজ হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেছেন যে আজকে ৬,০০০ কোটি টাকারও অধিক মূল্যের ৫টি রেল প্রকল্প উদ্বোধন করা হয়েছে, আসাম সহ এই অঞ্চলের একটি বড় অংশের উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করবে। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন যে রেল প্রথমবারের জন্য আসামের একটি বৃহৎ অংশে পৌঁছেছে এবং রেললাইন দ্বৈতকরণের ফলে আসামের পাশাপাশি মণিপুর, মিজোরাম, ত্রিপুরা এবং নাগাল্যান্ডের সাথে সহজ সংযোগ প্রদান করবে।

তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে বিশ্বাস এবং পর্যটনের স্থানগুলিতে ভ্রমণ করা এখন সহজ হয়ে উঠবে। এই নতুন নির্মিত লাইনগুলি এই অঞ্চলের রেল পরিবহণের সমগ্র দৃশ্য পরিবর্তন করবে। অত্যাবশ্যকীয় সামগ্রী বহনের ট্রেন সহ আরও অনেক ট্রেন দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা উৎপাদন কেন্দ্রগুলি থেকে খুম কম সময়ের মধ্যে উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলিতে পৌঁছে যেতে সক্ষম হবে। ২,৫৩৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ডিগারু থেকে লামডিং পর্যন্ত ১৪৭ কিলোমিটার দীর্ঘ ডাবল লাইন সেকশন নির্মাণ করা হয়েছে।

এই প্রকল্পে রয়েছে ১৭টি মেজর ব্রিজ, ১০৬টি মাইনোর ব্রিজ ও ০৭টি রোড ওভার ব্রিজ। এই সেকশনটি অসমের কামরূপ (মেট্রো), মরিগাঁও ও নগাঁও জেলা দিয়ে অতিক্রম করেছে। এটি এই রুটে পরিচালনামূলক সীমাবদ্ধতা হ্রাস করতে সাহায্য করেছে, যা নাগাল্যান্ড, মিজোরাম, মণিপুর, ত্রিপুরার মতো রাজ্যের পাশাপাশি অসমের দক্ষিণ ও উজানের দিকে সমস্ত ট্রেনের চলাচলের ক্ষেত্রে দায়বদ্ধ।

নির্মীয়মাণ নিউ বঙাইগাঁও-গোয়ালপাড়া-কামাখ্যা ১৭৬ কিলোমিটার লম্বা ডাবলিং প্রজেক্টের অংশ হিসেবে নিউ বঙাইগাঁও-ধুপধারা ১০২ কিমি দীর্ঘ সেকশন নির্মাণ করা হয়েছে। এই সেকশনে ৩৫টি মেজর ব্রিজ, ২২৮টি মাইনোর ব্রিজ ও ২৪টি রোড আন্ডার ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে। প্রকল্পের ব্যয় ছিল ১,৯৬২ কোটি টাকা। অসমের বঙাইগাঁও ও গোয়ালপাড়া জেলা হয়ে অতিক্রম করা এই সেকশনটি উত্তর পূর্বাঞ্চলের দিকে পরিচালনা করা ট্রেনগুলির জন্য সুবিধাজনক হবে।

নিউ ময়নাগুড়ি (পশ্চিমবঙ্গে) থেকে যোগীঘোপা (অসমে) পর্যন্ত দীর্ঘ ২৭৯ কিলোমিটার নতুন রেলওয়ে লাইন প্রকল্পের অংশ হলো গৌরীপুর-অভয়াপুরী ৮৬ কিলোমিটার নতুন লাইন সেকশন। এটি ৫টি স্টেশন যথাক্রমে আলমগঞ্জ, বগরিবাড়ি, বিলাসীপাড়া, চাপর ও বেচিমারি হয়ে অতিক্রম করেছে।এই সেকশনটি সম্পূর্ণ হওয়ার ফলে অসমের ধুবড়ি ও বঙাইগাঁও জেলার অধীনে বিশাল অঞ্চলের জনগণও প্রথমবারের জন্য রেল পরিষেবার সুবিধা লাভ করেছেন। ১,২৬৭ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সেকশেন ৩০টি মেজর ব্রিজ, ৩০৫টি মাইনোর ব্রিজ, ০৩টি টানেল, ১৩৩টি রোড আন্ডার ব্রিজ ও ০২টি রোড ওভার ব্রিজ।

বিশ্বের মধ্যে বৃহত্তম “গ্রিন রেলওয়ে” হয়ে ওঠার জন্য ভারতীয় রেলওয়ের উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ২০৩০-এর মধ্যে জিরো কার্বন এমিশন নেটওয়ার্কে পরিণত হওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। নতুন করে বৈদ্যুতিকীকরণ করা ৩৮১ কিলোমিটার রানিনগর জলপাইগুড়ি-গুয়াহাটি এবং ১৩১ কিলোমিটার চাপরমুখ-সেনচোয়া ও সেনচোয়া – মৈরাবারী সেকশন উত্তর পূর্বাঞ্চল পর্যন্ত এবং থেকে নতুন দিল্লি, চেন্নাই, মুম্বাই, কলকাতা, আমেদাবাদ ইত্যাদির মতো বিভিন্ন মেট্রো শহরে যাওয়া-আসা করা ট্রেনগুলির জন্য বাধাহীন সংযোগের কাজ করবে। উত্তর পূর্বাঞ্চলের দিকে ভারী পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল সম্ভব হয়ে উঠেছে। ফসিল ফুয়েলের ব্যয় কম হওয়ায় ট্রেন পরিচালনার ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *