শিলচর – এ পি ডি সি এল এর মেহেরপুরস্থীত কার্যালয়ের সামনে গণবিক্ষোভ কার্যসূচি পালন করে অল আসাম ইলেকট্রিসিটি কনজিউমার্স এসোসিয়েশনের কাছাড় জেলা কমিটি

4 - মিনিট |

অবিলম্বে প্রিপেড মিটার ব্যবস্থা বাতিলের দাবি জানানো হয়

কেআরসি টাইমস বারাক ভ্যালি ব্যুরো

শিলচর – প্রিপেইড স্মার্ট মিটার প্রতিস্থাপনের সিদ্ধান্ত প্ৰত্যাহার ও নিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহ সুনিশ্চিত করে পোস্ট পেইড ব্যবস্থা অব্যাহত রাখার দাবিতে বৃহস্পতিবার এ পি ডি সি এল এর জেনারেল ম্যানেজারের মেহেরপুরস্থীত কার্যালয়ের সামনে গণবিক্ষোভ কার্যসূচি পালন করে অল আসাম ইলেকট্রিসিটি কনজিউমার্স এসোসিয়েশনের কাছাড় জেলা কমিটি।

সংগঠনের আহ্বানে সেখানে উপস্থিত হষ নাগরিক স্বার্থ রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ, ফোরাম ফর সোশ্যাল হারমনি, নাগরিক অধিকার সুরক্ষা মঞ্চ, সি আর পি সি সি, অল ইণ্ডিয়া মহিলা সাংস্কৃতিক সংগঠন, এ আই ডি ওয়াই ও, মার্চ ফর সায়েন্স, শিলচর চাপ্টার, কোরাস সাংস্কৃতিক সংস্থা, এ আই ডি এস ও ইত্যাদি সংগঠন সহ বিশিষ্ট নাগরিকগণ। বিক্ষোভ চলাকালে সেখানে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের জেলা সভাপতি মন্মত নাথ।

তিনি বলেন আসামে দীর্ঘবছর যাবৎ সাধারণ বিদ্যুৎ গ্ৰাহকরা বিদ্যুতের ইউনিট প্রতি ধার্য করা মূল্য ছাড়াও ফিক্সড চাৰ্জ, এনার্জি চার্জ, ইলেকট্রিসিটি ডিউটি চার্জ, FPPPA চার্জ ইত্যাদি বাবদ প্ৰতি মাসে বহু টাকা এপিডিসিএল কৰ্তৃপক্ষকে প্রদান করে আসছেন। অথচ গ্রাহকরা অর্থের বিনিময়ে পরিষেবা পাওয়ার পরিবর্তে ভল্টেজ ড্রপ, ল ভোল্টেজ, বিকল ট্রান্সফরমার ও সর্বোপরি লোডশেডিং এর সমস্যায় চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

উক্ত সমস্যা সমাধানে এপিডিসিএল কর্তৃপক্ষ চরম ব্যর্থতার নজীর সৃষ্টি করলেও গ্রাহকদের কাছ থেকে অগ্রিম টাকা আদায়ের লক্ষ্যে কোনো ধরনের আলাপ আলোচনা ছাড়াই একতরফাভাবে প্ৰিপেইড স্মাৰ্ট মিটার প্রতিস্থাপনে উঠেপড়ে লেগেছে। পুরোনো ডিজিটাল মিটার যেখানে বিদ্যুতের ১০০ শতাংশ ‘রিডিং’ নিতে সক্ষম, সেখানে গ্রাহকদের টাকায় কেনা পুরোনো মিটারগুলোকে কার্যত ডাষ্টবিনে ফেলে জনগণের ট্যাক্সের কোটি কোটি টাকা ব্যয় করে নতুন স্মার্ট মিটার প্রতিস্থাপন করছে।

নাগরিক স্বার্থ রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক হরিদাস দত্ত বলেন এটা বলার অপেক্ষা রাখেনা যে দেশের কর্পোরেট প্রভুদের পরামর্শ মেনে বিদ্যুৎ খন্ডের বেসরকারিকরণের নীল নক্সা স্বরূপ সংসদে উত্থাপিত বিদ্যুৎ সংশোধনী বিল, ২০২২ এর অন্যতম ধারা ‘প্রায়র গেরেন্টি অফ রেভিনিউ’ কে আইনি বৈধতা প্রদানের লক্ষ্যে ও ঘুরপথে তা কার্যকর করতে ১৭ আগষ্ট ২০২১ সালে কেন্দ্র সরকার কোভিড পরিস্থিতির সুযোগে একটি গেজেটনোটিফিকেশন জারি করে।

তিনি বলেন নোটিফিকেশনে ২০২৩ সনের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত দেশের সবকটি কেন্দ্র শাসিত রাজ্য ও মুলত শহরাঞ্চলের সরকারি কার্যালয়, বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠান ও বসতবাটিতে এবং অন্য এলাকায় ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত স্মার্ট মিটার প্রতিস্থাপনের নির্দেশ দিয়েছে। সি আর পি সি সি এর কো- চেয়ারম্যান সাধন পুরকায়স্হ বলেন বর্তমানেও বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের যৌথ তালিকায় রয়েছে এবং বিদ্যুতের মাশুল বৃদ্ধি থেকে শুরু করে নানা ধরনের সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট রাজ্যের ‘ইলেকট্রিসিটি রেগুলেটারি কমিশন’ এর অনুমোদন সাপেক্ষে নির্ধারিত হয়।

ফলে রাজ্য সরকার ইচ্ছে করলে বিদ্যুৎ গ্ৰাহকদের সাথে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে পারত যা উক্ত গেজেট নোটিফিকেশনেও উল্লেখ করা রয়েছে। কিন্তু রাজ্য সরকার জনসাধারণের অর্থ লুন্ঠনের লক্ষ্যে এপিডিসিএল কৰ্তৃপক্ষকে দিয়ে গ্রাহকদের ফোনে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার মেসেজ পাঠিয়ে কার্যত হুমকি দিয়ে প্রিপেড ব্যবস্থা চালু করাচ্ছে যা শুধু দেশের প্রচলিত গ্রাহক পরিষেবা আইনের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

Happy to announce that we have started KRC TIMES e-copy NE India Edition. To subscribe WhatsApp at: 8721838313

নাগরিক অধিকার সুরক্ষা মঞ্চের সাধারণ সম্পাদক প্রাক্তন পৌরকমিশনার অতনু ভট্টাচার্য বলেন পোস্ট পেইড ব্যবস্থা থাকাকালীন সময়ে প্রতি মাসে সাধারণ গ্ৰাহকরা ১২০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহার করলে প্রতি ইউনিটে ৫. ৩০ টাকা, ২৪০ ইউনিট পর্যন্ত ৬.৬০ টাকা এবং তার বেশি হলে ৭.৬০ টাকা দিতে হত। কিন্তু বর্তমানে যেহেতু অগ্রিম টাকা রিচার্জ করা হচ্ছে তাই মাসিক হিসাবে মূল্য নির্ধারণের কোনো ব্যবস্থা নেই।

তাই গ্রাহকরা দিনে চার ইউনিট এর বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করলেই সর্বোচ্চ হারে বিল দিতে হচ্ছে। একইভাবে ফিক্সড চাৰ্জ, এনার্জি চার্জ, ইলেকট্রিসিটি ডিউটি চার্জ ইত্যাদি ক্ষেত্রেও হিসেব কী হবে তাও অস্পষ্ট। ফলে গ্রাহকদের স্বাৰ্থ পরিপন্থী এই প্রিপেড স্মার্ট মিটার প্রতিস্থাপন বর্তমান পরিস্থিতিতেই গ্রাহকদের কাছে চরম অশান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ফোরাম ফর সোশ্যাল হারমনি’র পক্ষে অরিন্দম দেব বলেন যেসব গ্রাহকরা আগে মাসে ১৫০০/১৬০০ টাকা বিল দিতেন তাদের এখন মাসে ৩০০০ টাকার বেশি রিচার্জ করতে হচ্ছ। অথচ এসব অভিযোগের এপিডিসিএল কৰ্তৃপক্ষ দায়সারা জবাব দিচ্ছেন। তিনি বলেন প্রিপেইড স্মার্ট মিটার চালুর ফলে রাজ্যের হাজার হাজার মিটার রিডাররা কর্মহীন হয়ে পড়েছে এবং ভবিষ্যতে আরও কয়েক হাজার কর্মহীন হওয়ার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে যা রাজ্যের অর্থনীতিতে বিরূপ প্রভাব ফেলবে।

অল ইন্ডিয়া ইলেকট্রিসিটি কনজিউমার্স এসোসিয়েশন’র সর্বভারতীয় কমিটির সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য হিল্লোল ভট্টাচার্য বলেন প্ৰিপেইড স্মাৰ্ট মিটার প্রতিস্থাপনের আসল উদ্দেশ্য বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থাকে ব্যাক্তিগতকরণ করে দেওয়া। ফলে ভবিষ্যতে গ্রাহকদের হয়রানি শোনার মত সরকারি কোনও বিভাগ বা ইলেকট্রিসিটি রেগুলেটারি কমিশন এর মতো কোনো সংস্থা থাকবে না। সাধারণ বিদ্যুৎ গ্ৰাহকদের স্বাৰ্থের পরিপন্থী কোনো সিদ্ধান্ত ইলেকট্রিসিটি কনজিউমার্স এসোসিয়েশন মেনে নেবে না বলে তিনি হুশিয়ারী দেন।

তিনি শহরের বিভিন্ন সংগঠনগুলিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ভবিষ্যতে আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান। বিক্ষোভ শেষে সংগঠনের পক্ষ থেকে গ্রাহক স্বার্থ বিরোধী প্ৰিপেইড স্মাৰ্ট মিটার প্রতিস্থাপনের সিদ্ধান্ত প্ৰত্যাহার করা, প্রিপেইড স্মার্ট মিটার প্রতিস্থাপন করে জনগণের কোটি কোটি ট্যাক্সের টাকা ব্যয় না করা, প্রিপেইড স্মার্ট মিটার ব্যবস্থা বন্ধ করে পোস্ট পেইড ব্যবস্থা পুনরায় চালু করা ও লোডশেডিং বন্ধ করে নিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রদানের দাবি জানিয়ে একটি স্মারকপত্র জেনারেল ম্যানেজারের উদ্দেশ্যে প্রদান করা হয়। স্মারকপত্রটি তাঁর হয়ে এ পি ডি সি এল এর সি ই ও বাইরে বেরিয়ে এসে গ্রহণ করেন।

বিক্ষোভে এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন প্রবীর কুমার রায় চৌধুরী, মলয় ভট্টাচার্য, মানস দাস, ভবতোষ চক্রবর্তী, বিশ্বজিত দাস, চাম্পালাল দাস, কমল চক্রবর্তী, অঞ্জন কুমার চন্দ, হানিফ আহমেদ বড়ভূঁইয়া, কনক পাল, সুব্রত চন্দ্র নাথ, শ্যামদেও কুর্মী, মাখন পাল, নকুল রঞ্জন পাল, এনাস আলী চৌধুরী, উত্তম মিশ্র, আজমল হুসেন চৌধুরী, বিমল মালাকার, দুলালী গাঙ্গুলি, দিলীপ নাথ, প্রশান্ত ভট্টাচার্য প্রমুখেরা।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *