এক নজরে বরাক
কেআরসি টাইমস বারাক ভ্যালি ব্যুরো
সংবাদ 1 – সরকারি গাইড লাইন উপেক্ষা করে অবৈধভাবে বাজারে ষষ্ঠ শ্রেণীর বিজ্ঞানের নোট বুক পাবলিশ করার বিরুদ্ধে স্কুলের প্রধান শিক্ষক সহ একাংশ পাবলিশার্সের কর্মকর্তা সরব হয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রী ডঃ হিমন্তবিশ্ব শর্মার নেতৃত্বে রাজ্যের শিক্ষা বিভাগ চলতি বছর থেকে ষষ্ঠ শ্রেণীর বিজ্ঞান ও গণিত বিষয়ের বই ইংরেজি মাধ্যমে প্রচলন করা হয়। সেই অনুযায়ী বিভিন্ন পাবলিশার্স বিজ্ঞান বিষয়ের রেফারেন্স বুক তথা নোট প্রকাশ করেন।
কিন্তু এই সুযোগে বরাক উপত্যকার একাংশ পাবলিশার্স ইংরেজি ভাষায় বিজ্ঞান বিষয়ের রেফারেন্স বুক তথা নোট ইংরেজিতে না করে ইংরেজি বাংলা ভাষায় বই প্রকাশ করায় ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক মহল ও পাবলিশার্সরা তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। ছাত্র ছাত্রীদের মেধা নিয়ে ওই পাবলিশার্স ছেলেখেলা করছে বলে জানান তাঁরা। সোমবার শিলচর শহরতলী বেরেঙ্গায় এক সাংবাদিক বৈঠক ডেকে আসাম পাবলিশার্সের স্বত্বাধিকারী নূরুল ইসলাম লস্কর, কর্মকর্তা কমরুল ইসলাম লস্কর ও নূর আহমেদ বড়ভূইয়া অবৈধ ভাবে বিজ্ঞানের নোট প্রকাশ করার তীব্র প্রতিবাদ জানান।
সংবাদ 2 – সোমবার শিলচর জেলা যুব কংগ্রেস কার্যালয়ের সভা কক্ষে কাছাড় জেলা যুব কংগ্রেসের কার্যনির্বাহী সভা অনুষ্ঠিত হয় l সভায় কাছাড় জেলা যুব কংগ্রেসের নবনির্বাচিত পদাধিকারীদের দায়িত্ব সমজে দেওয়া হয় এবং তাদের সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। দলকে কিভাবে আরো শক্তিশালী করা এবং কিভাবে এগিয়ে নেওয়া যায় এবিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন সভায় উপস্থিত কাছাড় জেলা কংগ্রেসের উচ্চপদস্থ কর্মীরা l সভার শেষে কাছাড় জেলা যুব কংগ্রেসের সভাপতি পদে জয়ী রণজিৎ দেবনাথ আনুষ্ঠানিক ভাবে দায়িত্ব ভার গ্রহণ করেন l
সংবাদ 3-অরুণোদয় প্রকল্পে যোগ্যদের বঞ্চিত করে ধনী বিত্তবান লোকদের নাম তালিকাভুক্ত করার প্রতিবাদে করিমগঞ্জ পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মুখে ধর্না সেডে ধর্নায় বসলেন বদরপুর বিধানসভা সমষ্টির মাছলি জিপির বঞ্চিত হিতাধিকারিরা। সোমবার দুপুরে ধর্না সেডে সামিল হয়ে অরুণোদয় প্রকল্প নিয়ে দুর্নীতির প্রতিবাদ জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্তবিশ্ব শর্মা সহ জেলাশাসক মৃদুল যাদবের হস্তক্ষেপ কামনা করেন মাছলি এলাকার বঞ্চিত লোকজন।
প্রতিবাদকারীর পক্ষে স্থানীয় সমাজকর্মী মুন্নি ছেত্রী বলেন আসাম সরকার গরীব খেটে খাওয়া মানুষের জন্য বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্প হাতে নিলেও বাস্তবে কিছু সংখ্যক দালালদের জন্য আজ প্রকৃত হিতাধিকারিরা বঞ্চিত হচ্ছেন। তিনি বলেন বিজেপি সরকারের ক্ষমতায় শুধুমাত্র অরুণোদয়ই নয় সবকটি প্রকল্পেই দুর্নীতির মিছিল। সরকার গরীবের সুবিদার্থে প্রকল্প দিলেও এসব সুবিধা আদায় করতে গিয়ে সাধারন লোকদের আন্দোলন করতে হচ্ছে। যেটা মোটেও কাম্য নয় বলে মন্তব্য করেন মুন্নি ছেত্রী।।
সংবাদ 4- শিলচর পলিটেকনিকেল প্রাক্তন ছাত্র সংস্থার বিশেষ উদ্যোগে বিগত বারো বৎসর থেকে পলিটেকনিকেলের ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার জন্য প্রত্যেকদিন বিকেল তিনটা থেকে ছয়টা পর্যন্ত শিলচর পাবলিক স্কুলের একটি হলরুমে বিনামূল্যে কোচিং দিয়ে চলেছেন এই অঞ্চলের ছাত্র-ছাত্রীদের। বর্তমানে উক্ত বিনামূল্যে কোচিংয়ে মোট ৪২ জন ছাত্র-ছাত্রীরা রয়েছেন।
বিগত ১২ বছরে এই অঞ্চলের আনুমানিক ৫০০ শত জনের অধিক ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের বিনামূল্যে কোচিং এর মাধ্যমে পলিটেকনিকেলের ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন বলে মত ব্যক্ত করেন উপস্থিত সবাই।এখানে এই অঞ্চলের অভিজ্ঞ অবসরপ্রাপ্ত ফিজিক্স, ক্যামেস্ট্রি ,বায়োলজির শিক্ষকেরা ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষাদান করে থাকেন। সেদিন অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, শিলচর এন আই টি-র প্রফেসার ডাঃ অসীম কান্তি দে, ডাঃশিবাশিষ ভট্টাচার্য্য, সাময়িক প্রসঙ্গ পত্রিকার সম্পাদক তৈমুর রাজা চৌধুরী, শিলচর পাবলিক স্কুলের অধ্যক্ষ্যা কবিতা সেনগুপ্তা সহ আরো গন্যমান্যরা।
সংবাদ 5- কাছাড় জেলার অধীনে থাকা তাপাং ব্লকের কাঁঠাল জিপির রামপুর কালীবাড়ি রোডের সড়কটি প্রায় এক সপ্তাহ থেকে কিছু সংখ্যক দুষ্কৃতিরা সম্পূর্ণ অবৈধভাবে বাস লাগিয়ে বন্ধ করে দেয়। আজ সংবাদ মাধ্যমকে ডেকে এই গ্রামের কৃষক ও দৈনন্দিন শ্রমিক শ্রেণীর বসবাসকারী অসহায় প্রায় দুই শত পরিবার পুরুষ- মহিলা- বৃদ্ধ ও পরুয়া ছাত্র-ছাত্রীরা একত্রিত হয়ে সোমবার দুপুর ১২টায় সড়কটির সামনে লাগানো বাঁশের বেড়াটিকে ভেঙ্গে দেন।

এই বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে কাঁঠাল জিপির সভাপতি রামেন রী বলেন,বিগত ছয় ১০-১২ বছর পূর্বে সত্য তাঁতি এই রাস্তাটি দান করে দিয়েছিলেন সরকারি ভাবে গ্রামবাসী চলাচল করার কারণে, কিন্তু এখন উনার কন্যা টুনি তাঁতি এই বন্ধ করে দিয়েছে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে,যার দরুন এই রাস্তাটিতে সাধারণ মানুষের চলাফেরা সহ প্রধানমন্ত্রী আবাস পাওয়া গরিব হিতাধিকারীরা তাদের ঘরের ইট-বালি-সিমেন্ট-রড সহ আরো অন্যান্য জিনিষ আনতে অসুবিধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে ,গ্ৰামের স্থানীয় মোদীর দোকানের সামগ্রী আনতে পাচ্ছেন না অন্যদিকে ছাত্র-ছাত্রীরা স্কুলে আসা-যাওয়া এবং কোনো অসুস্থ রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে প্রচুর জায়গা ঘুরে যেতে হচ্ছে এই গ্রামের কৃষক ও দৈনন্দিন শ্রমিকদের, সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে এই টুনি তাঁতি ও তার সহযোগী গোবরধন তাঁতি,মহাদেব তাঁতিদের অবৈধ দাপটের কারণে বেহাল রাস্তাটির সংস্কারের কাজ করতেও নানান অসুবিধা দেখা দিচ্ছে।
সুরেশ দাস বলেন,টুনি তাঁতি বেশ বছর থেকে এইভাবে গ্ৰামবাসীকে নানাভাবে হেনস্থা করে যাচ্ছে, কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সুবিচার করা হচ্ছে না,এর কারনটা কি?তাই সংবাদ মাধ্যমের সাহায্যে আজ এই রামপুরের অসহায় গ্রামবাসী জেলা জেলা প্রশাসনের কাছে টুনি তাঁতি ও তার সহযোগী দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিনম্র অনুরোধ জানান। সেদিন অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন শংকর দাস কর্ণ বাসী দাস অমৃত দাশ কৃষ্ণ দাস অভিজিৎ দাস অমৃতলাল দাস সুধা তাঁতি নান্টু জানা রাজকুমার গোয়ালা সহ আরো অন্যান্য ভুক্তভোগী গ্রামবাসীরা।
সংবাদ 6- আর্য সংস্কৃতি বোধনী সমিতির উদ্যোগে এবং শিলচর পৌরসভার উদ্যোগে শিলচরে পালিত হলো বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম দিবস। সারা রাজ্যের সাথে মঙ্গলবার ২৫ শে বৈশাখ কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম জয়ন্তী সাড়ম্বরের সঙ্গে পালন করা হয় শিলচরে। এদিন এই উপলক্ষে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় কবিগুরুকে শ্রদ্ধা জানাতে। এদিন সকালে বরাক উপত্যকা বঙ্গ সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্মেলনের উদ্যোগে এক বর্ণনাট্য শুভযাত্রা আয়োজন করা হয় এই শুভ যাত্রাটি শহরের বিভিন্ন এলাকা পরিক্রমা করে শিলচর ইন্ডিয়া ক্লাব পয়েন্টে স্তৃত কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের প্রতিমূর্তির সামনে এসে সমাপ্ত হয়।
পরে কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মূর্তিতে পুষ্পস্তবক দিয়ে স্মরণ করেন আয়োজকরা। পরে বক্তব্য, আবৃত্তি, নৃত্য গান পরিবেশন করেন বিভিন্ন স্কুল কলেজের ছাত্র ছাত্রীরা এদিন আর্য সংস্কৃতি বোধনী সমিতির উদ্যোগে এবং শিলচর পৌরসভার উদ্যোগে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন শিলচরের বিধায়ক দীপায়ন চক্রবর্তী সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গরা।
সংবাদ 7 – সদ্য প্রয়াতা আরাধিতা মিত্রের স্মৃতি স্মরণ সভার আয়োজন করা হয় শিলচর শহরের একটি বিবাহ ভবনে,উক্ত স্মরণ সভায় ছিল সঙ্গীত ও কবিতা পাঠ,সদ্য প্রয়াতা আরাধিতা মিত্রের বৈচিত্র্যময় জীবনের বিভিন্ন অংশ তুলে ধরেন উপস্থিত বক্তরা।যেমন আরাধিতা মিত্র ছিলেন কাছাড় জেলা বামপন্থী আন্দোলনের এক অন্যতম নেত্রীর সঙ্গে ছিলেন সাংস্কৃতিক কর্মী। তিনি ১৯৬৬ সালে কালীবাড়ির চরে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর নামে ভেঞ্চার স্কুল তৈরি করেন এবং প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষিকা ছিলেন। তিনি ছিলেন আবৃত্তিকার ও ভারতীয় গণনাট্য সংঘের অন্যতম সদস্যা সাথে এই অঞ্চলের বেশ কয়েকটি ইলেকট্রনিক্স নিউজ চ্যানেলের নিউজ লিডার হিসেবে কাজ করেছেন।
সেদিন সদ্য প্রয়াতা আরাধিতা মিত্রের স্মৃতি স্মরণে দীর্ঘকালীন সময় চলা অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন তৃণমূল সাংসদ সুস্মিতা দেব, বিডিএফ নেতা তথা আইনজীবি প্রদীপ দত্ত রায়, কংগ্রেস নেতা সীমান্ত ভট্টাচার্জ্য, ভারতীয় গণনাট্য সংঘের পরিতোষ দত্ত, নিখিল ভারত গণতান্ত্রিক মহিলা সমিতির মীরা চক্রবর্তী, প্রতিমা দাস, তারা আনন্দি মজুমদার, সুপ্রিয় ভট্টাচার্য্য, বার্তা লিপি পত্রিকার সম্পাদক অরিজিৎ আদিত্য, কবি- সাহিত্যিক -লেখক সমর বিজয় চক্রবর্তী, সুমন্ত সারথি এন্দো, এস এস ইউ আই নেতা হিল্লোল ভট্টাচার্য্য , সঙ্গীত পরিবেশন করেন সুদীপ্ত দেব রায়, বিশ্বজিৎ রায়চৌধুরী, মিঠু ভট্টাচার্জ্য ও উক্ত স্মরণ সভাটি সঞ্চালনায় ছিলেন কমলেশ ভট্টাচার্জ্য এবং উনার পরিবারের পক্ষ থেকে স্বামী তথা আইনজীবি ও বামপন্থী নেতা দুলাল মিত্র ও অনিন্দিতা মিত্র প্রমুখেরা।



