আনন্দদায়ক পরিবেশে ব্যতিক্রমী পাঠদান
কেআরসি টাইমস বারাক ভ্যালি ব্যুরো
ইব্রাহিম আলি চৌধুরী
আলগাপুর : হাইলাকান্দি জেলার মধ্যে রয়েছে একটি ব্যতিক্রমী সরকারি বিদ্যালয়। যে বিদ্যালয় দেখলে পরে সরকারি বিদ্যালয় নিয়ে আপনার ধ্যানধারণা পালটে যাবে। তিনশত ছাত্র ছাত্রীদের মধ্যে রয়েছেন মাত্র একজন শিক্ষক। আর ওই শিক্ষকের ব্যতিক্রমী উদ্যোগের ফলে বিদ্যালয়টি শিক্ষার পরিবেশ বদলে যাওয়ার পাশাপাশি ছাত্র ছাত্রীদের উপস্থিতি তিনগুণ বেড়ে গেছে। তিনশত ছাত্র ছাত্রীদের এক ব্যতিক্রমী পদ্ধতিতে শিক্ষা দিচ্ছেন বিদ্যালয়ের একমাত্র শিক্ষক।

হাইলাকান্দি জেলার আলগাপুর রাজস্ব চক্রের চণ্ডিপুর চা বাগান এলাকায় রয়েছে সরকারি ওই বিদ্যালয়টি। নাম গৌরাঙ্গ পুর এল পি স্কুল। বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি ছাড়াও রয়েছে প্রাক প্রাথমিকের আরও একটি শ্রেণি। সব মিলিয়ে তিন শতাধিক ছাত্র ছাত্রী পড়াশোনা করছেন ওই বিদ্যালয়ে। আর ২০১৭ সাল থেকে বিশাল সংখ্যক এই ছাত্র ছাত্রীদের একাই সামাল দিচ্ছেন বিদ্যালয়ের একমাত্র শিক্ষক মেহবুব আহমদ আলি মামন লস্কর।
সোমবার ওই স্কুলে সাংবাদিকরা উপস্থিত হলে কথা বলেন শিক্ষকের সাথে। বিদ্যালয়ে একটি মাত্র হলের মধ্যে এই ছয়টি শ্রেণির পাঠদান চলছে। তবে বিদ্যালয়ের পরিবেশ দেখলে মনে হয় না এখানে মাত্র একজন শিক্ষক রয়েছেন। বিদ্যালয়ের পরিবেশ দেখলে মনে হয় শহরের কোন নামিদামি বেসরকারি বিদ্যালয়। বিভিন্ন শিক্ষার উপকরণ দিয়ে সাজানো রয়েছে বিদ্যালয়টি। গৌরাঙ্গ পুর এল পি স্কুলে গিয়ে চোখে পড়ে সাজসজ্জা আর পরিপাটি সম্পন্ন দেয়ালে শিক্ষা বিষয়ক দর্শনীয় উপকরণ।
শিশুদের মধ্যে দেখা যায় এক আনন্দদায়ক পরিবেশ। বিদ্যালয়ের একমাত্র শিক্ষক মেহবুব আহমদ আলি মামন লস্কর আলাপচারিতায় বলেন শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগ এবং বিদ্যালয়ে কচিকাঁচা শিক্ষার্থীদের ধরে রাখতে তিনি কয়েকটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন। এই উদ্যোগের ফলে ছাত্র ছাত্রীদের বিদ্যালয়ের আসার আগ্রহ যথেষ্ট বেড়েছে।

লাগাতার দুবার এ গ্রেড পেয়েছে শিক্ষার উৎসবে। এলাকার মানুষ এবং অভিভাবকরা তাকে যথেষ্ট সহযোগিতা করছেন। বর্তমানে চণ্ডীপুর গ্রামের একজন যুবতী এবং দুজন যুবক স্বেচ্ছায় এসে বিদ্যালয়ে পাঠদান করে থাকেন। শিক্ষক আরও বলেন এলাকাটি একেবারে পিছিয়ে পড়া এবং দুর্গম অঞ্চল। বর্ষাকালে বাইক নিয়ে বিদ্যালয়ে আসা সম্ভব হয়না।
বাইক রেখে ঘন্টাখানেক সময় পায়ে হেটে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হতে লাগে। এখনও ইন্টারনেট পরিষেবা পৌছায় নি গ্রামটিতে। এছাড়া ছাত্র ছাত্রীদের অভিভাবকরা সবাই দিনমজুর। শিক্ষক মেহবুব আহমদ আলি মামন লস্কর বলেন তার বিদ্যালয়ে সব ছাত্র ছাত্রী দরিদ্র সীমারেখার নিচে বসবাসকারী পরিবারের।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি আবুল হুসেন কাজি বলেন সরকারের গাইডলাইন মতে গৌরাঙ্গ পুর এল পি স্কুলে দশ জন শিক্ষকের প্রয়োজন কিন্তু এই বিদ্যালয়ে মাত্র একজন শিক্ষক রয়েছেন। এছাড়া বিদ্যালয়ে রান্নাঘর, শ্রেণি কক্ষের যথেষ্ট অভাব রয়েছে। এসএমসির সভাপতি আবুল হুসেন কাজি আরও বলেন বিদ্যালয়ের একমাত্র শিক্ষকের প্রচেষ্টা থাকায় বিদ্যালয়টি সরকারি বিদ্যালয়ের একটি দৃষ্টান্ত হয়ে দাড়িয়েছে।
তিনি আরও বলেন এই বিদ্যালয়টি ক্রমান্বয়ে উন্নতি করে এমই এবং হাইস্কুলে রুপান্তরিত করা প্রয়োজন। এই বিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করে পরবর্তী শিক্ষা নেওয়া জন্য অনেক দুরে যেতে হয় ছাত্র ছাত্রীদের। এক্ষেত্রে অনেক সময় শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয় এই গ্রামের ছেলেমেয়েরা। এবিষয়ে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য শিক্ষা বিভাগের প্রতি অনুরোধ করেন তিনি।
এছাড়া ছাত্র অনুপাতে শিক্ষক দেওয়ার অনুরোধ করেন। এদিকে আলগাপুর বিধানসভা এলাকার ভিতরে থাকা চন্ডিপুর বাগানের গৌরাঙ্গ পুর এলপি স্কুলের পরিবেশ দেখলে সরকারি বিদ্যালয় নিয়ে যে কোন মানুষের চিন্তাধারা বদলে যাবে। তিনশত ছাত্র ছাত্রী থাকা একটি বিদ্যালয়ে একজন মাত্র শিক্ষকের ব্যতিক্রমী কিছু উদ্যোগের কাছে হাইলাকান্দির অনেক প্রাইভেট স্কুল হার মানবে।


