নাগাল্যান্ডে দলবদলের ৩২ ঘটনা, দেশের মধ্যে সর্বাধিক: এডিআর

2 - মিনিট |

২০২২ থেকে ২০২৬-এর মধ্যে ১১১ সাংসদ-বিধায়কের দলবদল; নাগাল্যান্ডের ঘটনাগুলি মূলত এনডিপিপি-এনপিএফ রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাসের সঙ্গে যুক্ত

কে আর সি টাইমস ডেস্ক

নয়াদিল্লি:২০২২ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে নির্বাচিত সাংসদ ও বিধায়কদের দলবদলের ঘটনায় দেশের মধ্যে শীর্ষে রয়েছে নাগাল্যান্ড। অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্র্যাটিক রিফর্মস এবং ন্যাশনাল ইলেকশন ওয়াচের একটি বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই সময়ে নাগাল্যান্ডে মোট ৩২ জন নির্বাচিত বিধায়ক দল বদলেছেন।

২৪ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই সময়ের মধ্যে লোকসভা, রাজ্যসভা এবং বিভিন্ন বিধানসভা মিলিয়ে মোট ১১১ জন সাংসদ ও বিধায়ক নির্বাচিত হওয়ার পর দল পরিবর্তন করেছেন। তাঁদের মধ্যে ২৬ জন লোকসভার সাংসদ, ৭ জন রাজ্যসভার সদস্য এবং ৭৮ জন বিধায়ক।

নাগাল্যান্ডের ৩২টি ঘটনাই বিধায়কদের দলবদল সংক্রান্ত। এডিআরের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এর বড় অংশই শাসক ন্যাশনালিস্ট ডেমোক্র্যাটিক প্রগ্রেসিভ পার্টি এবং নাগা পিপলস ফ্রন্টের মধ্যে রাজনৈতিক পুনর্বিন্যাসের সঙ্গে যুক্ত।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এনডিপিপির প্রতীকে নির্বাচিত ২৫ জন বিধায়ক পরে দল পরিবর্তন করেছেন। অন্যদিকে, দলবদল করা বিধায়কদের মধ্যে ৩২ জন নাগা পিপলস ফ্রন্টে যোগ দিয়েছেন।

রাজ্যভিত্তিক হিসাবে পশ্চিমবঙ্গে ২০টি দলবদলের ঘটনা ঘটেছে, যার সবকটিই লোকসভা সদস্যদের ক্ষেত্রে। তেলঙ্গানায় ৯টি ঘটনা ঘটেছে এবং সেগুলি বিধায়ক পর্যায়ের। গোয়া ও পাঞ্জাবে ৮টি করে, মেঘালয়ে ৬টি, মণিপুরে ৫টি এবং অরুণাচল প্রদেশে ৪টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।

মহারাষ্ট্রে ৬টি দলবদলের ঘটনা ঘটেছে। এডিআরের তথ্য অনুযায়ী, শিবসেনা উদ্ধব বালাসাহেব ঠাকরে গোষ্ঠীর প্রতীকে নির্বাচিত কয়েকজন লোকসভা সদস্য পরে একনাথ শিন্ডের নেতৃত্বাধীন শিবসেনায় যোগ দেন।

কোন দল থেকে কত দলবদল

দলভিত্তিক হিসাবে এনডিপিপি থেকে সর্বাধিক ২৫ জন জনপ্রতিনিধি বেরিয়ে গিয়েছেন। এরপর রয়েছে অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেসের ২০ এবং কংগ্রেসের ১৯ জন। ভারত রাষ্ট্র সমিতির ৯ জন, আম আদমি পার্টি এবং ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টির ৭ জন করে জনপ্রতিনিধি দল পরিবর্তন করেছেন।

অন্যদিকে, দলবদল করে সবচেয়ে বেশি জনপ্রতিনিধি নাগা পিপলস ফ্রন্টে যোগ দিয়েছেন—৩২ জন। বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন ২৯ জন এবং ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অব ইন্ডিয়ায় ২০ জন। কংগ্রেসে ৯ জন, শিবসেনায় ৮ জন, ন্যাশনাল পিপলস পার্টিতে ৬ জন এবং পিপলস পার্টি অব অরুণাচলে ৪ জন যোগ দিয়েছেন।

এডিআর জানিয়েছে, তাদের বিশ্লেষণে ব্যক্তিগত দলবদল, দলীয় সংযুক্তি, পদত্যাগের পর উপনির্বাচনে জয় এবং অযোগ্য ঘোষণার পর উপনির্বাচনে জয়—এই চার ধরনের ঘটনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তবে সংস্থাটি জানিয়েছে, তালিকাটি সম্পূর্ণ নাও হতে পারে। কারণ জনপ্রতিনিধিদের দল পরিবর্তনের বিষয়ে নিয়মিতভাবে সংরক্ষিত এবং সহজে পাওয়া যায়—এমন কোনও সরকারি তথ্যভান্ডার নেই।

দলবদল রোধে বিদ্যমান আইনে পরিবর্তনেরও সুপারিশ করেছে এডিআর। সাংসদদের ক্ষেত্রে অযোগ্যতার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা স্পিকারের পরিবর্তে রাষ্ট্রপতি এবং বিধায়কদের ক্ষেত্রে রাজ্যপালের হাতে দেওয়ার প্রস্তাব করেছে সংস্থাটি। তবে সেই সিদ্ধান্ত নির্বাচন কমিশনের পরামর্শের ভিত্তিতে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

এছাড়া অযোগ্যতার আবেদন নিষ্পত্তির জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা এবং দলবদলকারী জনপ্রতিনিধিদের পুনর্নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত সরকারি পদে থাকার উপর বিধিনিষেধের সুপারিশও করেছে এডিআর।

প্রতিবেদনটি ২০২২ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে অনুষ্ঠিত নির্বাচন এবং উপনির্বাচনের তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি। ২০২৬ সালের ১২ জুলাই পর্যন্ত দায়িত্বে থাকা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের তথ্য এতে বিবেচনা করা হয়েছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *