‘উত্তর-পূর্ব ভারত দেশের সীমান্ত নয়, প্রবেশদ্বার’: জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী

2 - মিনিট |

তরুণদের প্রযুক্তির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি ভারতীয় মূল্যবোধে শিকড় শক্ত করার বার্তা প্রাক্তন সেনাপ্রধানের

admin

গুয়াহাটি,:উত্তর-পূর্ব ভারত দেশের শেষ প্রান্ত নয়, বরং এখান থেকেই দেশের সূচনা—এমনই মন্তব্য করলেন প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী। শুক্রবার গুয়াহাটিতে ‘নমামি ভারতম’ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে ভারতের ‘প্রবেশদ্বার’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

বিদ্যা ভারতী উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের উদ্যোগে শ্রীমন্ত শঙ্করদেব আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাগৃহে এই সমবেত গানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে ‘বন্দে মাতরম’-এর ১৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক, প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রের মানুষ অংশ নেন।

ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষকদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে দ্বিবেদী বলেন, উত্তর-পূর্বকে দেশের ভৌগোলিক শেষ প্রান্ত হিসেবে দেখা উচিত নয়। তাঁর কথায়, ‘‘উত্তর-পূর্ব ভারত যেখানে শেষ হয়, সেই জায়গা নয়; বরং এখান থেকেই ভারতের সূচনা।’’

প্রাক্তন সেনাপ্রধান বলেন, তিনি শুধু প্রাক্তন সেনাপ্রধান হিসেবে নয়, সরস্বতী শিশু মন্দিরের প্রাক্তন ছাত্র হিসেবেও তরুণদের সঙ্গে কথা বলছেন। দ্রুত বদলে যাওয়া বিশ্বের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তরুণদের নিজেদের প্রস্তুত করার পাশাপাশি দেশ গঠনে সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ভারতকে ২০৪৭ সালের মধ্যে উন্নত দেশে পরিণত করার লক্ষ্যের কথা উল্লেখ করে দ্বিবেদী তরুণদের মধ্যে তিনটি গুণের উপর জোর দেন—মনোভাব, পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষমতা এবং দক্ষতা।

শুধু সমস্যার কথা বলার পরিবর্তে তার সমাধান খোঁজার অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দেন তিনি। একই সঙ্গে নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে জানার পাশাপাশি নিয়মিত ‘শেখা, ভুলে যাওয়া এবং ফের শেখার’ প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ার কথাও বলেন।

তরুণদের জন্য তাঁর আর একটি পরামর্শ ছিল ‘জিরো-টেন’ রুটিন। প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রথম ১০ মিনিট মোবাইল ফোন থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেন তিনি। এই সময় নিজের লক্ষ্য নিয়ে ভাবা, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং দিনের কাজের অগ্রাধিকার ঠিক করার কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে বলে জানান দ্বিবেদী।

উত্তর-পূর্বের সাংস্কৃতিক গুরুত্ব

অনুষ্ঠানে বিদ্যা ভারতীর উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের সাংগঠনিক সম্পাদক ড. পবন তিওয়ারি বলেন, ‘বন্দে মাতরম’ ভারতের সাংস্কৃতিক ঐক্যের প্রতীক। দেশের সাংস্কৃতিক ও ঐতিহাসিক পরিসরে উত্তর-পূর্বের অবদানের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

মা কামাখ্যার সঙ্গে যুক্ত আধ্যাত্মিক ঐতিহ্য, শ্রীমন্ত শঙ্করদেবের সাংস্কৃতিক অবদান এবং আহোম সেনাপতি লাচিত বরফুকনের সামরিক ঐতিহ্যের উল্লেখ করেন তিওয়ারি।

অনুষ্ঠানে প্রাক্তন বায়ুসেনা ভাইস মার্শাল সঞ্জীব বরদলৈ, ড. জগদিন্দ্র রায় চৌধুরী, শিশু শিক্ষা সমিতি অসমের সভাপতি কুলেন্দ্র কুমার ভগবতী, অনুষ্ঠান সমন্বয়ক গৌরব কলিতা এবং অসম গৌরব পুরস্কারপ্রাপ্ত মীনাক্ষী দাস-সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে বিদ্যা ভারতীর অসমের সংবাদমাধ্যম বিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত শৈলেন্দ্র পাণ্ডে বলেন, অসমে আয়োজিত এই সমবেত গান উত্তর-পূর্ব ভারতের সাংস্কৃতিক ও কৌশলগত গুরুত্বকেই সামনে এনেছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *