মাল্টায় আরও ৩ গারো শ্রমিকের সমাধির সন্ধান, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাসে নতুন তথ্য

2 - মিনিট |

প্রথম বিশ্বযুদ্ধে ৬৯তম গারো লেবার কোম্পানিতে কাজ করেছিলেন তাঁরা; মেঘালয় বিধানসভার প্রতিনিধি দলের সফরে মিলল তিনটি নতুন সমাধি

কে আর সি টাইমস ডেস্ক

শিলং: প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় বিদেশের মাটিতে কাজ করতে যাওয়া মেঘালয়ের গারো জনগোষ্ঠীর ইতিহাসে নতুন তথ্য সামনে এল। মাল্টার পিয়েতা মিলিটারি সমাধিক্ষেত্রে আরও তিন গারো শ্রমিকের সমাধির সন্ধান পেয়েছে মেঘালয় বিধানসভার একটি প্রতিনিধি দল।

বিধানসভার স্পিকার থমাস এ সাংমার নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি সমাধিক্ষেত্র পরিদর্শনে যায়। সেখানে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ৬৯তম গারো লেবার কোম্পানির সঙ্গে যুক্ত চার গারো ব্যক্তির সমাধিতে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

এর আগে পিয়েতা মিলিটারি সমাধিক্ষেত্রে ৬৯তম গারো লেবার কোম্পানির সদস্য হিসেবে খেও মারাকের সমাধিই জানা ছিল। তিনি ১৯১৮ সালের ১৫ জুন মারা যান।

এ বার প্রতিনিধি দল আরও তিনটি সমাধি শনাক্ত করেছে। তাঁরা হলেন আদিং মারাক, যিনি ১৯১৮ সালের ১০ জুন মারা যান; সাংজিম সাংমা, যাঁর মৃত্যু হয় ১৯ জুন; এবং জয়েন মারাক, যিনি ১০ জুন মারা যান।

এই সমাধিগুলি চিহ্নিত হওয়ার ফলে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে গারো পাহাড়ের মানুষের অংশগ্রহণ এবং তাঁদের অবদানের ইতিহাস আরও স্পষ্ট হল।

প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় গারো পাহাড় থেকে বহু মানুষকে ৬৯তম গারো লেবার কোম্পানিতে নিয়োগ করা হয়েছিল। তাঁরা সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেওয়ার পরিবর্তে মিত্রশক্তির সামরিক কর্মকাণ্ডে সহায়ক বিভিন্ন কাজে যুক্ত ছিলেন। রাস্তা তৈরি, সামরিক সরঞ্জাম ও রসদ পরিবহণের মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছিলেন তাঁরা।

মেঘালয় বিধানসভার স্পিকার থমাস এ সাংমা বলেন, গারো শ্রমিকদের আত্মত্যাগের ইতিহাস দীর্ঘদিন সাধারণ মানুষের কাছে অনেকটাই অজানা ছিল। তাঁদের সমাধি খুঁজে পাওয়া মেঘালয়ের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

প্রতিনিধি দলে ছিলেন ডেপুটি স্পিকার লিমিসন ডি সাংমা, ডেপুটি চিফ হুইপ রনি ভি লিংডো, মেঘালয় পর্যটন উন্নয়ন নিগমের চেয়ারম্যান মার্টন জে সাংমা, বিধানসভার সচিব মালথুস এস সাংমা এবং ডেপুটি সচিব রাজা খারপুড়ি।

কমনওয়েলথ পার্লামেন্টারি অ্যাসোসিয়েশনের সম্মেলনে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনে যোগ দেওয়ার পর প্রতিনিধি দলের পরবর্তী সফরের অংশ হিসেবে মাল্টা যাওয়া হয়। পিয়েতা মিলিটারি সমাধিক্ষেত্র পরিদর্শনের ব্যবস্থা করে মাল্টায় ভারতীয় হাইকমিশন।

মাল্টার এই সমাধিক্ষেত্র কমনওয়েলথের রক্ষণাবেক্ষণে রয়েছে। সেখানে গারো শ্রমিকদের সমাধি চিহ্নিত হওয়ায় মেঘালয়ের ইতিহাসের সঙ্গে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের আন্তর্জাতিক পরিসরের একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগসূত্রও সামনে এল।

প্রতিনিধি দলের এই সফরের পর এখন ওই তিন গারো শ্রমিকের জীবন, তাঁদের নিয়োগ এবং যুদ্ধকালীন ভূমিকা সম্পর্কে আরও তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। মেঘালয়ের ইতিহাসবিদ ও গবেষকদের কাছে নতুন সমাধিগুলি তাই শুধু একটি আবিষ্কার নয়, প্রথম বিশ্বযুদ্ধে উত্তর-পূর্ব ভারতের মানুষের অবদান পুনরুদ্ধারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্রও হয়ে উঠতে পারে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *