কাণ্ডলায় ১৫০ টন দৈনিক উৎপাদন ক্ষমতার কারখানা; প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে কর্মসংস্থান হবে প্রায় ৩,৫০০ জনের
কে আর সি টাইমস ডেস্ক
গুয়াহাটি: অসমের সরকারি মালিকানাধীন সংস্থা অসম পেট্রোকেমিক্যালস লিমিটেড (এপিসিএল) এবার রাজ্যের সীমানা পেরিয়ে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি ক্ষেত্রে বড় বিনিয়োগে পা রাখল। গুজরাতের কাণ্ডলায় দীনদয়াল পোর্ট অথরিটির সঙ্গে যৌথ ভাবে প্রায় ২,৩০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ই-মিথানল উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তুলছে সংস্থাটি।
শনিবার দীনদয়াল বন্দরে প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন ও ভূমিপুজো অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা, গুজরাতের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র পটেল এবং কেন্দ্রীয় বন্দর, জাহাজ চলাচল ও জলপথ মন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল। এপিসিএল, দীনদয়াল পোর্ট অথরিটি এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থার আধিকারিকরাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
প্রস্তাবিত কারখানায় প্রতিদিন ১৫০ টন গ্রিন ই-মিথানল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে। মূলত সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচলের ক্ষেত্রে প্রচলিত জ্বালানির তুলনায় কম কার্বন নিঃসরণকারী বিকল্প হিসেবে এই জ্বালানি ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রকল্পটি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে প্রায় ৩,৫০০টি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে বলে জানানো হয়েছে। এর পাশাপাশি ই-মিথানল উৎপাদন, সরবরাহ ও ব্যবহারকে কেন্দ্র করে আনুষঙ্গিক শিল্প ও বাণিজ্যিক ক্ষেত্রেও নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।
জাহাজ চলাচলে পরিচ্ছন্ন জ্বালানির লক্ষ্য
বিশ্বজুড়ে জাহাজ চলাচল খাতে গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ কমানোর চাপ বাড়ছে। সেই প্রেক্ষাপটে ই-মিথানলকে সম্ভাব্য বিকল্প সামুদ্রিক জ্বালানি হিসেবে দেখা হচ্ছে। ভারতও জাহাজ চলাচলে কম-কার্বন জ্বালানির ব্যবহার বাড়ানোর পথে এগোচ্ছে।
এই প্রকল্প সেই বৃহত্তর পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত বলেই মনে করা হচ্ছে। দীনদয়াল বন্দরের কাছে উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে ওঠায় ভবিষ্যতে সামুদ্রিক জ্বালানি হিসেবে ই-মিথানলের সরবরাহ ও বিতরণের ক্ষেত্রেও ভৌগোলিক সুবিধা মিলতে পারে।
অসমের বাইরে এপিসিএলের প্রথম বড় পদক্ষেপ
এপিসিএলের জন্য প্রকল্পটির তাৎপর্য শুধু পরিচ্ছন্ন জ্বালানি উৎপাদনে নয়। অসম সরকারের মালিকানাধীন এই সংস্থা এতদিন মূলত রাজ্যের শিল্পক্ষেত্রের সঙ্গেই যুক্ত ছিল। গুজরাতে ২,৩০০ কোটি টাকার এই প্রকল্পে অংশগ্রহণের মাধ্যমে জাতীয় স্তরের পরিচ্ছন্ন জ্বালানি বাজারে সংস্থাটির উপস্থিতি তৈরি হতে চলেছে।
এর ফলে ই-মিথানল উৎপাদন প্রযুক্তি, সবুজ জ্বালানি পরিকাঠামো এবং সামুদ্রিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় এপিসিএলের অভিজ্ঞতা বাড়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে রাজ্যের একটি সরকারি সংস্থার জাতীয় পরিসরে বাণিজ্যিক সম্প্রসারণের নজিরও তৈরি হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা প্রকল্পটিকে রাজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য, অসমের একটি সরকারি মালিকানাধীন সংস্থা রাজ্যের বাইরে গিয়ে বড় পরিচ্ছন্ন জ্বালানি প্রকল্পে অংশ নিচ্ছে—এটি এপিসিএলের সক্ষমতা ও সম্প্রসারণের সম্ভাবনাকে তুলে ধরে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দীনদয়াল পোর্টকে ঘিরে গড়ে ওঠা সামুদ্রিক পরিকাঠামোর সঙ্গে পরিচ্ছন্ন জ্বালানি উৎপাদনের একটি নতুন সংযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে এপিসিএলের জন্য ঐতিহ্যগত শিল্পক্ষেত্রের বাইরে গ্রিন-ফুয়েল ব্যবসায় নতুন বৃদ্ধির পথও খুলতে পারে।


