হিমন্তের ‘বিরিয়ানি-জন্তু’ মন্তব্যের পাল্টা আজমলের কটাক্ষ, ‘বিরিয়ানি নয়, শুকনো মাছ খেয়েই বড় হয়েছেন রকিবুল’
কে আর সি টাইমস ডেস্ক
গুয়াহাটি: নগাঁও লোকসভা উপনির্বাচনের প্রচারে এবার রাজনৈতিক ইস্যুর পাশাপাশি জায়গা করে নিয়েছে ‘বিরিয়ানি’ বিতর্ক। বৃহস্পতিবার জুৰিয়ায় বিজেপি প্রার্থী দেবাশিস শর্মার হয়ে প্রচারে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার মন্তব্যের পর কংগ্রেস সাংসদ রকিবুল হুসেনকে নিশানা করে নতুন করে কটাক্ষ করলেন এআইইউডিএফ প্রধান বদরুদ্দিন আজমল।
বৃহস্পতিবার জুৰিয়ায় নির্বাচনী সভায় হিমন্ত বলেন, “যাঁরা মায়ের দুধ পান করে জন্মেছেন, তাঁরা মানুষ। আর যাঁরা বিরিয়ানি খেয়ে জন্মেছেন, তাঁরা জন্তু।” রকিবুলকে নিয়ে তাঁর আগের ‘বকাসুর’ মন্তব্য এবং বিরিয়ানি প্রসঙ্গে রকিবুলের পাল্টা বক্তব্যের সূত্র ধরেই এই মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী।
এর আগে হিমন্ত রকিবুলকে পুরাণের চরিত্র বকাসুরের সঙ্গে তুলনা করে তাঁর ‘অতিরিক্ত খাওয়ার’ প্রসঙ্গ টেনেছিলেন। সরকারি প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ অর্থ নিয়েও রকিবুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছিলেন তিনি। যদিও এই অভিযোগের সমর্থনে ওই বক্তব্যে কোনও নির্দিষ্ট প্রমাণ তুলে ধরেননি মুখ্যমন্ত্রী।
হিমন্তের মন্তব্যের পাল্টা রকিবুল বলেছিলেন, ঈশ্বর তাঁকে পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন বিরিয়ানি খাওয়ার জন্য। এরপর থেকেই নির্বাচনী প্রচারে দুই নেতার এই কথার লড়াই বারবার ফিরে আসছে।
আজমলের নতুন কটাক্ষ
এবার সেই বিতর্কে যোগ দিলেন এআইইউডিএফ প্রধান বদরুদ্দিন আজমল। সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, “রকিবুল হুসেন বিরিয়ানি খেয়ে নয়, শুকনো মাছ খেয়েই জন্মেছেন।”
রকিবুলের আর্থিক পটভূমি নিয়েও কটাক্ষ করেন আজমল। তাঁর বক্তব্য, রকিবুল দরিদ্র পরিবার থেকে উঠে এসেছেন, তাই তাঁর কাছে বিরিয়ানি আসত কোথা থেকে—সেই প্রশ্নও তোলেন তিনি।
ব্যক্তিগত আক্রমণ ঘিরে এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্য অবশ্য নগাঁও উপনির্বাচনের মূল রাজনৈতিক লড়াইয়ের বাইরের একটি প্রচার-ইস্যু হিসেবেই সামনে এসেছে।
উন্নয়ন নিয়েও হিমন্তের আক্রমণ
জুৰিয়ার সভায় হিমন্ত কংগ্রেস বিধায়ক নুৰুল হুদাকও নিশানা করেন। রুপহীহাটের উন্নয়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলে মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, স্কুল, কলেজ ও রাস্তার উন্নয়ন এবং সরকারি প্রকল্পের সুবিধা মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে হুদার ভূমিকা যথেষ্ট নয়।
জল সরবরাহ প্রকল্প নিয়েও কটাক্ষ করেন হিমন্ত। তাঁর অভিযোগ, প্রতিটি বাড়িতে কল বসানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও অনেক জায়গায় সেই কল দিয়ে জল আসেনি। তাঁর ভাষায়, বাসিন্দাদের হাতে থেকে গিয়েছে শুধু “পাইপ আর প্রতিশ্রুতি”।
বৃহস্পতিবার নগাঁওয়ে তিনটি নির্বাচনী সভায় বক্তব্য রাখার কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী। প্রচারে তিনি দাবি করেন, কংগ্রেসকে সমর্থন করা কিছু ভোটার এখন বিজেপির দিকে ঝুঁকছেন এবং বিজেপিই সুশাসন দিতে পারে বলে তাঁরা মনে করছেন। বিজেপি এই উপনির্বাচনে জিতবে বলেও দাবি করেন হিমন্ত। এটি অবশ্য নির্বাচনী প্রচারের দাবি, ফলাফল নয়।
আজমলকে অবসর নেওয়ার পরামর্শ
এদিন আজমলকেও সরাসরি আক্রমণ করেন মুখ্যমন্ত্রী। সক্রিয় রাজনীতি থেকে অবসর নিয়ে তিন ছেলের মধ্যে কোনও এক জনের হাতে দলের দায়িত্ব তুলে দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
পাশাপাশি কংগ্রেস ও এআইইউডিএফের মধ্যে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ বোঝাপড়া রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন হিমন্ত। দুই দলই এই ধরনের রাজনৈতিক অভিযোগের নিজস্ব ব্যাখ্যা দিয়ে থাকে।
৬ অক্টোবর ভোট
নগাঁও লোকসভা আসনের উপনির্বাচন হবে ৬ অক্টোবর। ভোটগণনা ৯ অক্টোবর। প্রাক্তন কংগ্রেস সাংসদ প্রদ্যুৎ বরদলৈ লোকসভা থেকে ইস্তফা দিয়ে পরে বিজেপিতে যোগ দেন এবং দিশপুর বিধানসভা আসনে নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর নগাঁও আসনটি খালি হয়।
উপনির্বাচনে বিজেপি দেবাশিস শর্মাকে প্রার্থী করেছে। কংগ্রেসের প্রার্থী প্রাক্তন বটদ্রবা বিধায়ক শিবামণি বরা। এআইইউডিএফের হয়ে লড়ছেন দলের প্রধান বদরুদ্দিন আজমল।
ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, নগাঁওয়ে উন্নয়ন, দলীয় সমীকরণ এবং প্রার্থীদের পাশাপাশি নেতাদের ব্যক্তিগত আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণও প্রচারের আলোচনায় উঠে আসছে।


