‘জ্ঞানেশ কুমারকে সরালেও রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রী হবেন না’: অসম বিজেপি সভাপতি

< 1 - মিনিট |

নির্বাচন কমিশন নিয়ে বিরোধীদের দাবির পাল্টা দিলীপ শইকিয়া; ‘রাহুলকে না সরালে কংগ্রেসের কিছু হবে না’ বলে কটাক্ষ

কে আর সি টাইমস ডেস্ক

গুয়াহাটি: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিকে ঘিরে বিরোধীদের আন্দোলনের পাল্টা আক্রমণ শানাল অসম বিজেপি। দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ শইকিয়া বৃহস্পতিবার বলেন, নির্বাচন কমিশনের নেতৃত্বে পরিবর্তন এলেও কংগ্রেসের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কোনও বদল হবে না।

শইকিয়ার কথায়, “জ্ঞানেশ কুমারকে সরানো যেতে পারে। কিন্তু তাঁকে সরালেও কংগ্রেস ক্ষমতায় আসবে না।” এরপর কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে নিশানা করে তিনি বলেন, জ্ঞানেশ কুমারকে সরিয়ে দিলেও রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রী হয়ে যাবেন না।

বিজেপি সভাপতির আরও কটাক্ষ, “কংগ্রেসের উচিত রাহুল গান্ধীকে সরানো। যতদিন কংগ্রেস রাহুল গান্ধীকে সরাবে না, ততদিন কিছুই হবে না।”

এসআইআর ঘিরে নির্বাচন কমিশন নিয়ে বিতর্ক

জ্ঞানেশ কুমারকে নিয়ে শইকিয়ার এই মন্তব্য এসেছে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর ঘিরে নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই।

ভোটার তালিকা সংশোধন সংক্রান্ত একাধিক সিদ্ধান্ত নিয়ে নির্বাচন কমিশনের অন্দরে মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হওয়ার পর কংগ্রেস-সহ বিরোধী দলগুলি মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবি করে আসছে। কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটিও জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি করেছে। ইন্ডিয়া জোটও এই ইস্যুতে আরও আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

অসমেও বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক কর্মসূচি হয়েছে। ২৫ সেপ্টেম্বর গুয়াহাটিতে জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ দেখানোর সময় অসম প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি গৌরব গগৈ-সহ দলের কয়েক জন নেতাকে আটক করা হয়েছিল।

অন্যদিকে, নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, কমিশনের সদস্যদের মধ্যে কোনও বিষয়ে মতপার্থক্য থাকলে তা অভ্যন্তরীণ আলোচনার অংশ। কমিশনের বক্তব্য, এসআইআর-সহ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলি শেষ পর্যন্ত সর্বসম্মত ভাবেই নেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ অব্যাহত

ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে বিরোধী দলগুলি এখনও সরব। কংগ্রেস-সহ বিরোধীদের অভিযোগ, এসআইআর প্রক্রিয়ায় ভোটারদের অধিকার ও তালিকার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

বিজেপি অবশ্য এই অভিযোগগুলি প্রত্যাখ্যান করেছে। দলের বক্তব্য, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করা হচ্ছে।

এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের মধ্যেই অসমে এসআইআর নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হচ্ছে। দিলীপ শইকিয়ার বৃহস্পতিবারের মন্তব্যও সেই বৃহত্তর রাজনৈতিক সংঘাতেরই অংশ।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *