আদিবাসী সংগঠন ও নাগরিক সমাজের প্রচার-আন্দোলন; ১৯৫১-কে ভিত্তিবর্ষ করার দাবি, গণনা পিছিয়ে দেওয়ারও আহ্বান
কেআরসি টাইমস কলকাতা ব্যুরো
ইম্ফল: জনগণনা প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগে মণিপুরে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি বা এনআরসি আপডেটের দাবি ফের জোরালো হল। মঙ্গলবার রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে আদিবাসী সংগঠন ও নাগরিক সমাজের একাধিক কর্মসূচিতে এনআরসি আপডেট, অনুপ্রবেশের অভিযোগ খতিয়ে দেখা এবং নাগরিকত্বের নথি যাচাইয়ের দাবি ওঠে।
কাংপোকপি জেলার সিয়াংগাই নামদাই চিরু গ্রামে আয়োজিত এক জনসভায় নাগা কো-অর্ডিনেটিং কমিটি (ওয়েস্টার্ন ফুটহিলস মণিপুর) চিরু, রংমেই, কোম এবং আইমল সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের একত্র করে। সভা থেকে এনআরসি আপডেটের দাবিতে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।
বক্তারা দাবি করেন, এনআরসি আপডেটের বিষয়টি শুধু মেইতেই সম্প্রদায়ের দাবি হিসেবে দেখা উচিত নয়। নাগা-সহ অন্যান্য আদিবাসী জনগোষ্ঠীকেও এই প্রচারে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। তাঁদের বক্তব্য, রাজ্যে অবৈধ অভিবাসন নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টি বিভিন্ন স্থানীয় সম্প্রদায়ের যৌথ ভাবে তোলা প্রয়োজন।
১৯৫১-কে ভিত্তিবর্ষ করার দাবি
ক্যাম্পেইন ফর জাস্ট অ্যান্ড ফেয়ার ডিলিমিটেশন বা জেএফডিও এনআরসি আপডেটের দাবি নতুন করে সামনে এনেছে। সংগঠনটির প্রস্তাব, নাগরিকত্ব নির্ধারণের ক্ষেত্রে ১৯৫১ সালকে ভিত্তিবর্ষ করা হোক।
জেএফডির আহ্বায়ক জিতেন্দ্র নিংগোম্বা বলেন, রাজ্যে অবৈধ অভিবাসীদের চিহ্নিত করা প্রয়োজন। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে মণিপুরের সামনে থাকা কয়েকটি সমস্যার সমাধান এবং স্থায়ী শান্তির পরিবেশ তৈরির ক্ষেত্রেও এই পদক্ষেপ গুরুত্বপূর্ণ।
নিংগোম্বা জানান, জনগণনা প্রক্রিয়া পিছিয়ে দিয়ে এনআরসি আপডেট না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের প্রচার চলবে। সরকারের সাম্প্রতিক কিছু পদক্ষেপকে স্বাগত জানালেও তাঁর বক্তব্য, আদিবাসী সম্প্রদায়গুলির উদ্বেগ পুরোপুরি মেটেনি।
সরকারের আরও সময় চাওয়ার পর সংগঠনটি তাদের তীব্র আন্দোলন সাময়িক ভাবে স্থগিত করেছিল বলেও জানান তিনি। তবে শান্তিপূর্ণ জনসংযোগ ও প্রচার চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছে জেএফডি। প্রশাসনের তরফে যথাযথ পদক্ষেপ না হলে ফের বড় আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন নিংগোম্বা।
কাকচিংয়েও নাগরিক সমাজের অবস্থান
এদিকে কাকচিং জেলার ওয়াইখোংয়ে নাগরিক সমাজের একাধিক সংগঠন যৌথ ভাবে অবস্থান বিক্ষোভ করে। অংশ নেয় অল মণিপুর ইউনাইটেড ক্লাবস অর্গানাইজেশন বা এএমইউসিও, অল মণিপুর উইমেন্স ভলান্টারি অ্যাসোসিয়েশন বা এএমএডব্লিউওভিএ এবং মণিপুরি স্টুডেন্টস ফেডারেশন বা এমএসএফ-সহ কয়েকটি সংগঠন।
এএমইউসিও সভাপতি এস সঞ্জয় রাজ্যের বর্তমান সমস্যাগুলি মোকাবিলায় বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে বৃহত্তর ঐক্যের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন। একই সঙ্গে স্থানীয় কর্মসংস্থান ও উৎপাদন ব্যবস্থা শক্তিশালী করার উপর জোর দেন তিনি। তাঁর মতে, স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানো গেলে মণিপুরের খাদ্যনির্ভরতা কমিয়ে আরও স্বনির্ভর অর্থনীতির দিকে এগোনো সম্ভব।
এএমইউসিওর সম্পাদক লাইশ্রাম কৃষ্ণচন্দ্র ২০২৩ সালের মে মাস থেকে চলা দীর্ঘস্থায়ী সংকট নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁর অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকার হিংসা এবং অবৈধ অভিবাসন নিয়ে স্থানীয় মানুষের উদ্বেগের যথেষ্ট সমাধান করতে পারেনি। তাঁর আরও অভিযোগ, এর ফলে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভাজন আরও গভীর হয়েছে।
তবে এগুলি নাগরিক সমাজ ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলির বক্তব্য। অবৈধ অভিবাসন সংক্রান্ত অভিযোগের পরিমাণ বা তার সঙ্গে যুক্ত নাগরিকত্বের প্রশ্নে সরকারি ভাবে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে, তা প্রশাসনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের উপর নির্ভর করবে।
চলমান সংকটের মধ্যে সব সম্প্রদায়ের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ থাকার এবং মণিপুরের স্বার্থ রক্ষায় সম্মিলিত ভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন কৃষ্ণচন্দ্র।
জনগণনা সামনে রেখে এনআরসি আপডেটের দাবি ফের রাজ্যের রাজনৈতিক ও নাগরিক পরিসরে গুরুত্ব পাচ্ছে। এখন নজর থাকবে, এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সরকার জনগণনা, নাগরিকত্ব যাচাই এবং এনআরসি নিয়ে কী প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেয়।


