প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে জন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক। পুলিশি তৎপরতা ও ব্যারিকেডে মধ্য দিল্লির একাধিক রাস্তায় তীব্র যানজটের অভিযোগ
কে আর সি টাইমস ডেস্ক
নয়াদিল্লি:প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে জন্তর মন্তরে প্রস্তাবিত বিক্ষোভের আগে দিল্লিতে ধরপাকড়ের অভিযোগ তুলল ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দলের দাবি, মুম্বই থেকে আসা বিমানের দিল্লিতে অবতরণের পরই দলের নেতা অভিজিৎ দীপকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করে পুলিশ। দলের আইনজীবী দলের প্রধান রত্না সিংহ-সহ আরও কয়েক জন আইনজীবীকেও আটক করা হয়েছে বলে অভিযোগ। রত্নাকে পুলিশকর্মীরা ঘিরে একটি গাড়ির ভিতরে আটকে রেখেছেন বলেও দাবি করেছে দলটি।
শনিবারের প্রস্তাবিত ‘সিজেপি ২.০’ বিক্ষোভ ঘিরে রাজধানীতে নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ। সিজেপির অভিযোগ, তাদের নেতাদের জন্তর মন্তরে পৌঁছতে বাধা দিতেই পরিকল্পিতভাবে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। আটক নেতাদের অবিলম্বে এবং নিঃশর্ত মুক্তির দাবিও জানিয়েছে দলটি।
রত্না সিংহের একটি ভিডিয়ো প্রকাশ করেছে সিজেপি। সেখানে তাঁকে গাড়ির ভিতরে বসে থাকতে দেখা যাচ্ছে, বাইরে রয়েছেন একাধিক পুলিশকর্মী। দলের দাবি, অন্তত ২৫ জন পুলিশকর্মী তাঁকে ঘিরে রেখেছিলেন। আটক করার কারণ জানিয়ে কোনও সরকারি নোটিস দেখানো হয়নি বলেও অভিযোগ করেছে সিজেপি।
ভিডিয়োয় রত্নাকে বলতে শোনা যায়, শনিবার সকালে পুলিশকর্মীরা তাঁর বাড়িতে গিয়েছিলেন। কিন্তু তিনি সেখানে নেই বলে তাঁদের জানানো হয়। তাঁর দাবি, পুলিশকর্মীদের কাছে কোনও সরকারি নোটিস ছিল না। তাঁরা শুধু জানিয়েছিলেন, “উপর থেকে নির্দেশ রয়েছে, আপনাকে আটক করতে হবে।”
রত্নার আরও অভিযোগ, পুলিশ বারবার তাঁকে গাড়ি থেকে নামতে বলছিল এবং বাড়িতে নিয়ে গিয়ে আটক করার চেষ্টা করছিল। তাঁর কথায়, “আমি কার্যত রাস্তায় বেআইনিভাবে আটক হয়ে রয়েছি।”
তবে এই অভিযোগগুলি নিয়ে দিল্লি পুলিশের বক্তব্য প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। ফলে আটকের কারণ এবং পুলিশি পদক্ষেপের আইনি ভিত্তি সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য মেলেনি।
ভোটার তালিকা নিয়ে বিক্ষোভ
বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা পরিবর্তন এবং নতুন ভোটারদের নাম নথিভুক্ত করার ফর্ম-৬ ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করছে সিজেপি। এই অভিযোগের ভিত্তিতেই জন্তর মন্তরে বিক্ষোভের ডাক দেওয়া হয়েছে। তবে ভোটার তালিকায় কারচুপির অভিযোগগুলি স্বাধীনভাবে প্রমাণিত হয়েছে কি না, তা এই প্রতিবেদনে স্পষ্ট নয়।
এর আগের দিন, শুক্রবারও বিক্ষোভে যোগ দিতে জন্তর মন্তরের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করা প্রায় ২০০ জনকে আটক করেছিল দিল্লি পুলিশ বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। নয়াদিল্লির বিভিন্ন এলাকায় তাঁদের আটক করা হয়। বিক্ষোভকারীদের গতিবিধির উপর নজর রাখতে ড্রোনও ব্যবহার করা হয়েছিল বলে সূত্রের দাবি।
এদিকে, গুরগাঁওয়ের সেক্টর ৫৬ এলাকা থেকে ইউটিউবার ধ্রুব রাঠীকেও পুলিশ আটক করেছে বলে সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে। রাজধানীর ১৫টি পুলিশ জেলায় অপরাধের রেকর্ড রয়েছে, এমন ৬০০-র বেশি ব্যক্তিকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে আটক করা হয়েছে বলেও পুলিশ সূত্রের দাবি। এই পদক্ষেপগুলির সঙ্গে সিজেপির বিক্ষোভের সরাসরি সম্পর্ক কতটা, তা স্পষ্ট নয়।
মধ্য দিল্লিতে যানজট
বিক্ষোভ ঠেকাতে নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন, ব্যারিকেড এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তায় তল্লাশির জেরে শনিবার মধ্য দিল্লির একাধিক এলাকায় যান চলাচল ব্যাহত হয়। বেশ কয়েকটি রাস্তায় দীর্ঘ যানজট তৈরি হয় বলে খবর। জন্তর মন্তরের দিকে যাওয়া রাস্তাগুলিতে গাড়ির গতি কমে যায় এবং কোথাও কোথাও যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা যায়।
বিক্ষোভে যোগ দিতে ইচ্ছুকদের জন্য কিছু নির্দেশিকাও প্রকাশ করেছে সিজেপি। তবে পুলিশি বাধা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যেও দলটি কর্মসূচি চালিয়ে যেতে পারবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।


