ত্রিপুরার প্রাক্তন ডিজিপি অনুরাগ ধনকরের মৃত্যু রহস্যের তদন্ত দ্রুত শেষ হবে, আশ্বাস পুলিশের

2 - মিনিট |

‘সংবেদনশীল ও চাঞ্চল্যকর’ মামলা, জানালেন ভারপ্রাপ্ত ডিজিপি জি এস রাও; বাংলাদেশ সীমান্তে স্মার্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং দুর্গাপুজোয় ১০ হাজারের বেশি কর্মী মোতায়েনের পরিকল্পনাও জানাল পুলিশ

কে আর সি টাইমস ডেস্ক

আগরতলা: ত্রিপুরার প্রাক্তন পুলিশ মহানির্দেশক অনুরাগ ধনকরের অস্বাভাবিক মৃত্যুর তদন্ত দ্রুত শেষ করা হবে বলে জানালেন রাজ্যের ভারপ্রাপ্ত ডিজিপি জি এস রাও। বৃহস্পতিবার পুলিশ সদর দফতরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, মামলাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও চাঞ্চল্যকর। তদন্ত দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

১৯৯৪ ব্যাচের আইপিএস আধিকারিক ধনকরকে গত ২০ জুলাই রাজ্য পুলিশ সদর দফতরে তাঁর চেম্বারের শৌচাগারে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছিল। তাঁর মৃত্যুর কারণ নিয়ে নানা প্রশ্নের মধ্যে তদন্ত চালাচ্ছে পুলিশ।

জি এস রাও বলেন, “প্রাক্তন ডিজিপি অনুরাগ ধনকরের মৃত্যুর তদন্ত দ্রুতগতিতে চলছে। এটি একটি সংবেদনশীল ও চাঞ্চল্যকর মামলা। শীঘ্রই তদন্ত শেষ করা হবে।”

এর আগে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহা রাজ্য বিধানসভায় জানিয়েছিলেন, ধনকরের মৃত্যু আত্মহত্যাজনিত বলে মনে করা হচ্ছে। তবে তদন্তের চূড়ান্ত ফল এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।

ধনকর এর আগে পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকার জালিয়াতি মামলায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইয়ের তদন্তের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। হিরে ব্যবসায়ী নীরব মোদির সঙ্গে যুক্ত ওই মামলার পাশাপাশি ১৯৮৪ সালের শিখবিরোধী দাঙ্গার তদন্তে গঠিত বিশেষ তদন্তকারী দলেরও নেতৃত্ব দেন তিনি।

বাংলাদেশ সীমান্তে স্মার্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থার পরিকল্পনা

রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে নজরদারি জোরদার করার পরিকল্পনার কথাও জানান ভারপ্রাপ্ত ডিজিপি।

তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ত্রিপুরার সঙ্গে বাংলাদেশের ৮৫৬ কিলোমিটার আন্তর্জাতিক সীমান্তের মধ্যে এখনও পর্যন্ত ৮০৬ কিলোমিটার এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হয়েছে। দুর্গম ভূপ্রকৃতি, জলাশয় এবং ঘন জঙ্গলের কারণে বাকি অংশে বেড়া দেওয়ার কাজ এখনও সম্পূর্ণ হয়নি।

গত জুনে ত্রিপুরা সফরে এসে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সীমান্তে স্মার্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। এই ব্যবস্থায় স্থানীয় প্রশাসন, প্রযুক্তি এবং নিরাপত্তা বাহিনীর সমন্বয়ে সীমান্ত পরিচালনার উপর জোর দেওয়া হবে।

জি এস রাও জানান, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের পরিকল্পনা অনুসারে রাজ্য পুলিশ ও সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ইতিমধ্যেই প্রস্তাব তৈরি করেছে। ধাপে ধাপে এই প্রকল্প বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে। প্রচলিত কাঁটাতারের বেড়া যেখানে নির্মাণ করা কঠিন, সেখানেও নজরদারি বাড়ানো এই উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য।

দুর্গাপুজোয় ১০ হাজারের বেশি নিরাপত্তাকর্মী

এদিকে, রাজ্যের প্রধান উৎসব দুর্গাপুজো নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করতে ব্যাপক নিরাপত্তা প্রস্তুতি নিয়েছে ত্রিপুরা পুলিশ। ১৭ অক্টোবর থেকে শুরু হতে চলা পুজো উপলক্ষে রাজ্যজুড়ে ১০ হাজারেরও বেশি পুলিশ ও ত্রিপুরা স্টেট রাইফেলসের (টিএসআর) কর্মী মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছেন রাও।

আগরতলার গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ভিড় ও যান চলাচলের উপর নজর রাখতে প্রায় ১৮০টি সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হবে। পাশাপাশি, অ্যাম্বুল্যান্স ও অন্যান্য জরুরি পরিষেবার গাড়ির অবাধ যাতায়াত নিশ্চিত করতে গ্রিন করিডর চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

রাজধানী আগরতলায় প্রায় ৪৫০টি সর্বজনীন দুর্গাপুজো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে পুজোর দিনগুলিতে ভিড় সামলানো, যান নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা বজায় রাখাকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে প্রশাসন।

প্রাক্তন ডিজিপির মৃত্যুর তদন্ত, আন্তর্জাতিক সীমান্তে নিরাপত্তা এবং দুর্গাপুজোর প্রস্তুতি—এই তিন ক্ষেত্রেই ত্রিপুরা পুলিশের সামনে এখন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তবে ধনকরের মৃত্যুর তদন্তে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কী উঠে আসে, সেদিকেই বিশেষ নজর রয়েছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *