স্কুলশিক্ষায় জাতীয় পারফরম্যান্স গ্রেডিং সূচকে রাজ্যের স্কোর ২০২৪ সালের ৪৪৮ থেকে বেড়ে ২০২৬ সালে ৫২৫.৭১ হয়েছে, জানালেন মুখ্যমন্ত্রী কনরাড সাংমা।
কে আর সি টাইমস ডেস্ক
শিলং: শিক্ষাক্ষেত্রে বছরে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করছে মেঘালয় সরকার। রাজ্যের ২ হাজারেরও বেশি স্কুলের পরিকাঠামোর উন্নয়ন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দক্ষিণ পশ্চিম গারো পাহাড় জেলার রিমরাংপাড়া উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সংস্কার করা ভবনের উদ্বোধন করে এই তথ্য জানান মুখ্যমন্ত্রী কনরাড কে সাংমা।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন সরকারি প্রকল্প ও পরিষেবা খাতে মেঘালয়ের বার্ষিক ব্যয়ের পরিমাণ প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে শিক্ষার জন্য বরাদ্দ প্রায় ৪ হাজার কোটি। তাঁর দাবি, গত আট বছরে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থার দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলি দূর করতে একাধিক পদক্ষেপ করেছে ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি) নেতৃত্বাধীন সরকার।
শিক্ষা পরিকাঠামোর দুরবস্থা, শিক্ষকদের বেতন নিয়ে সমস্যা এবং মাধ্যমিক পরীক্ষায় দুর্বল ফলাফল—এই বিষয়গুলিকে অতীতে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল বলে জানান সাংমা। তাঁর কথায়, গারো পাহাড় অঞ্চলে একসময় মাধ্যমিক পরীক্ষায় ৭৫ শতাংশেরও বেশি পড়ুয়া অকৃতকার্য হত।
২ হাজারের বেশি স্কুলে পরিকাঠামোর উন্নয়ন
‘মিশন এডুকেশন’ প্রকল্পের অগ্রগতি তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যের ২ হাজারেরও বেশি স্কুলের পরিকাঠামো উন্নত করা হয়েছে। গত ২৩ সেপ্টেম্বর ৮০টিরও বেশি নতুন স্কুল ভবনের উদ্বোধন করা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
রিমরাংপাড়া উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভবন সংস্কারের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর বিশেষ উন্নয়ন তহবিল থেকে ১৪ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছে। স্কুল পরিচালন সমিতি ও স্থানীয় বাসিন্দাদের আবেদনের ভিত্তিতে এই অর্থ বরাদ্দ করা হয়।
পরীক্ষার ফলাফলেও উন্নতির দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ বছর মেঘালয়ে মাধ্যমিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণের হার ছিল ৮৬.৮৪ শতাংশ। উচ্চ মাধ্যমিকের বিজ্ঞান, কলা ও বাণিজ্য—তিনটি শাখাতেই পাশের হার ৮৩ শতাংশের বেশি।
স্কুলশিক্ষায় জাতীয় পারফরম্যান্স গ্রেডিং সূচকেও রাজ্যের স্কোর বেড়েছে। ২০২৪ সালে এই স্কোর ছিল ৪৪৮, যা ২০২৬ সালে বেড়ে ৫২৫.৭১ হয়েছে বলে জানান সাংমা।
গ্রামীণ স্কুলে এখনও পরিকাঠামোর ঘাটতি
তবে উন্নতির দাবি সত্ত্বেও রাজ্যের বহু গ্রামীণ স্কুলে এখনও বিদ্যুৎ, পানীয় জল, ইন্টারনেট, গ্রন্থাগার, পরীক্ষাগার এবং পর্যাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকার অভাব রয়েছে বলে স্বীকার করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
এই ঘাটতি পূরণে স্কুলভিত্তিক পরিকল্পনা তৈরির জন্য শিক্ষা দফতরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। কোথায় কী ধরনের পরিকাঠামো প্রয়োজন, কত অর্থ লাগবে এবং কত দিনের মধ্যে কাজ শেষ করা সম্ভব—পরিকল্পনায় তার স্পষ্ট উল্লেখ রাখতে বলা হয়েছে।
উচ্চশিক্ষার সুযোগ বাড়াতে নতুন কলেজ ও একটি রাজ্য বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তোলার উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন সাংমা। পাশাপাশি, ‘সিএম ইমপ্যাক্ট প্লাস’ প্রকল্পের আওতায় ৭০০টি স্কুলকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
গ্রামীণ এলাকায় আরও উচ্চ মাধ্যমিক স্কুলের দাবি
অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিধায়ক মেহতাব চান্দি এ সাংমা রিমরাংপাড়া উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সংস্কারে সরকারি সহায়তার জন্য মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। একই সঙ্গে গারো পাহাড়ের গ্রামীণ এলাকায় আরও উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় গড়ে তোলার দাবি জানান তিনি।
তাঁর মতে, দশম শ্রেণির পর পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ স্থানীয় স্তরে বাড়ানো গেলে পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়ার প্রবণতা কমানো সম্ভব হবে।
স্কুলের পরিকাঠামো ও পরীক্ষার ফলাফলে অগ্রগতির কথা তুলে ধরলেও মেঘালয়ের সামনে এখনও বড় চ্যালেঞ্জ গ্রামীণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ঘাটতি পূরণ। সরকারি বরাদ্দ ও উন্নয়ন প্রকল্পের সুফল প্রত্যন্ত এলাকার স্কুলগুলিতে কতটা পৌঁছয়, তার উপরই নির্ভর করবে শিক্ষার মানোন্নয়নের পরবর্তী পর্যায়।


