সাম্প্রতিক স্থানীয় নির্বাচনে মনোনয়ন জমা দিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগ বামেদের; ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহার হস্তক্ষেপ দাবি
কে আর সি টাইমস ডেস্ক
আগরতলা: ত্রিপুরার আসন্ন ২১টি পুরসভা ও নগর সংস্থার নির্বাচনে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েনের দাবি জানাল সিপিএমের নেতৃত্বাধীন বামফ্রন্ট। সাম্প্রতিক স্থানীয় নির্বাচনে বিরোধীদের বাধার মুখে পড়তে হয়েছে বলে অভিযোগ তুলে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে মুখ্যমন্ত্রী মানিক সাহার হস্তক্ষেপ চেয়েছে তারা।
বৃহস্পতিবারের আগের দিন, ২২ অক্টোবর, মুখ্যমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন বামফ্রন্টের এক প্রতিনিধি দল। ভোটাররা যাতে ভয়ভীতি বা বাধার মুখে না পড়ে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, তা নিশ্চিত করার দাবি জানান তাঁরা।
বৈঠকের পর সাংবাদিকদের বামফ্রন্টের আহ্বায়ক মানিক দে বলেন, ভোটের দিন প্রতিটি বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের জন্য মুখ্যমন্ত্রীর কাছে স্পষ্ট দাবি জানানো হয়েছে। তাঁর কথায়, নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে অবাধ ও সুষ্ঠু রাখতে এই ব্যবস্থা প্রয়োজন।
মনোনয়ন জমায় বাধার অভিযোগ
ত্রিপুরা উপজাতি এলাকা স্বশাসিত জেলা পরিষদ (টিটিএএডিসি) এবং তার অধীন গ্রাম কমিটিগুলির সাম্প্রতিক নির্বাচনেও বাম দলগুলিকে সমস্যায় পড়তে হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে বামফ্রন্ট।
মানিক দে-র দাবি, গ্রাম কমিটির নির্বাচনে আটটি ব্লকে বাম প্রার্থীরা মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেননি। এ ক্ষেত্রে তিপ্রা মথা পার্টি এবং তাদের জোটসঙ্গী বিজেপির বিরুদ্ধে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন তিনি। তবে এই অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
আসন্ন পুরসভা নির্বাচনে যাতে একই ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না হয়, সে জন্য অতিরিক্ত কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের দাবি জানিয়েছে বামফ্রন্ট। তাদের বক্তব্য, সব রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের বাধাহীনভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে।
নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ
মানিক দে জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের ব্যবস্থা করার বিষয়ে প্রতিনিধি দলকে আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে রাজ্য নির্বাচন কমিশন এবং রাজ্য পুলিশের মহানির্দেশক জি এস রাওয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
দে বলেন, নির্বাচন কমিশন ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণা করলেই তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করবেন।
আগরতলা পুরনিগম-সহ ত্রিপুরার ২১টি নগর সংস্থায় নভেম্বর মাসে নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে রাজ্য নির্বাচন কমিশন এখনও আনুষ্ঠানিক নির্ঘণ্ট ঘোষণা করেনি।
ভোটের আগে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের দাবি ঘিরে ত্রিপুরায় নির্বাচনী নিরাপত্তার প্রশ্ন ফের সামনে এসেছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং ভোটার ও প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন কী পদক্ষেপ করবে, এখন সেদিকেই নজর।


