অপারেশন মণিপুর’ চালুর দাবি বিধায়ক ইমো সিংয়ের, সোও চুক্তি পুনর্বিবেচনার আর্জি

2 - মিনিট |

অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, সশস্ত্র গোষ্ঠীর নেটওয়ার্ক ভাঙা ও নিরাপত্তা জোরদারে সময়সীমা বেঁধে অভিযান চালানোর প্রস্তাব রাজকুমার ইমো সিংয়ের; রাজ্যপাল অজয় কুমার ভাল্লাকে চিঠি

কে আর সি টাইমস ডেস্ক

ইম্ফল: মণিপুরে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, বেআইনি সশস্ত্র নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ফেরাতে ‘অপারেশন মণিপুর’ নামে একটি বিশেষ অভিযান চালুর দাবি জানালেন বিধায়ক রাজকুমার ইমো সিং। একই সঙ্গে কয়েকটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে সরকারের সাসপেনশন অব অপারেশনস (সোও) চুক্তি বাতিলের বিষয়টি বিবেচনা করারও আর্জি জানিয়েছেন তিনি।

২২ অক্টোবর রাজ্যপাল অজয় কুমার ভাল্লাকে লেখা চিঠিতে সাগোলবন্দের বিধায়ক বলেন, দীর্ঘদিনের অশান্তি এবং সাম্প্রতিক সময়ে সাধারণ নাগরিকদের হত্যার ঘটনা রাজ্যে সমন্বিত ও ধারাবাহিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা আরও বাড়িয়েছে। নোংশুম হিল এলাকায় হত্যাকাণ্ডের খবরের কথাও চিঠিতে উল্লেখ করেছেন তিনি।

ইমো সিংয়ের প্রস্তাব, রাজ্য সরকার, মণিপুর পুলিশ, কেন্দ্রীয় সশস্ত্র বাহিনী এবং অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থাকে নিয়ে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে একটি সমন্বিত অভিযান চালানো হোক। অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার, স্পর্শকাতর এলাকায় নিরাপত্তা বাড়ানো এবং পরিকল্পিত হত্যা-সহ গুরুতর অপরাধে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনাই হবে এর মূল লক্ষ্য।

নোংশুমের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতার এবং অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বিস্ফোরক উদ্ধারের মতো সাম্প্রতিক নিরাপত্তা অভিযানের উল্লেখ করে বিধায়ক বলেন, তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এই ধরনের পদক্ষেপ ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যাওয়া প্রয়োজন।

সোও চুক্তির শর্ত কার্যকরের দাবি

সাসপেনশন অব অপারেশনস বা সোও চুক্তির শর্তাবলি কার্যকর করার উপরেও জোর দিয়েছেন ইমো সিং। তাঁর বক্তব্য, চুক্তির নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠলে তা তদন্ত করে প্রমাণিত ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠী বা ব্যক্তির বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।

চুক্তি বাতিলের বিষয়টি বিবেচনার আর্জি জানিয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যমান শর্তগুলি স্বচ্ছভাবে কার্যকর করা জরুরি। তবে সোও চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্ত এখনও জানা যায়নি।

মণিপুরের চলমান জাতিগত সংঘাতের মধ্যে সোও চুক্তির বাস্তবায়ন, শর্ত মানা হচ্ছে কি না এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলির ভূমিকা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে।

পুনর্বাসন ও নাগরিক পরিষেবার উপরেও জোর

ইমো সিংয়ের মতে, নিরাপত্তা অভিযান শুধু অস্ত্র উদ্ধার বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। সংঘাতে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলির পুনর্বাসন, জরুরি নাগরিক পরিষেবা পুনরুদ্ধার এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোর সুরক্ষার জন্যও সমান্তরাল পদক্ষেপ প্রয়োজন।

তিনি বলেন, বেআইনি সশস্ত্র কার্যকলাপের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে সংবিধান ও মানবাধিকারের নীতি মেনে। কোনও সম্প্রদায়, পরিচয় বা রাজনৈতিক-সামাজিক যোগসূত্রের ভিত্তিতে বৈষম্য না করে নিরপেক্ষভাবে আইন প্রয়োগের উপরেও জোর দিয়েছেন বিধায়ক।

প্রস্তাবটি খতিয়ে দেখা, অভিযানের অগ্রাধিকার নির্ধারণ এবং বিভিন্ন নিরাপত্তা সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের জন্য রাজ্যপালের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তিনি।

২০২৩ সালের মে মাসে শুরু হওয়া জাতিগত সংঘাত মণিপুরের জনজীবনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন, এখনও নিরাপত্তা ও পুনর্বাসনের চ্যালেঞ্জ রয়ে গিয়েছে। ‘অপারেশন মণিপুর’ চালুর প্রস্তাব এবং সোও চুক্তি নিয়ে বিধায়কের দাবি সরকার কীভাবে বিবেচনা করে, এখন সেটাই দেখার।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *