উলুবাড়ির বিলাস ইন হোটেলে গুলিচালনার ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাবদিহি দাবি প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতির। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে হোটেলের লিজ চুক্তি ঘিরে সম্পত্তি বিবাদের সম্ভাবনা।
কে আর সি টাইমস ডেস্ক
গুয়াহাটি: অসমের রাজধানী গুয়াহাটির উলুবাড়ি এলাকার একটি হোটেলে গুলিচালনায় পাঁচজনের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুললেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি গৌরব গগৈ। মঙ্গলবার সমাজমাধ্যমে নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী তথা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার জবাবদিহি দাবি করেন তিনি। শহরে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সরকারকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বানও জানান কংগ্রেস নেতা।
গগৈয়ের বক্তব্য, এই ঘটনা গুয়াহাটিতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি করেছে। ক্রমবর্ধমান অপরাধের প্রবণতা রুখতে মুখ্যমন্ত্রীকে দায়িত্ব নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি জানান প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি।
সোমবার রাত প্রায় ৯টা নাগাদ উলুবাড়ির বিলাস ইন হোটেলে এই গুলিচালনার ঘটনা ঘটে। এতে পাঁচজনের মৃত্যু হয় এবং আরও এক ব্যক্তি আহত হন। ঘটনার পর অভিযুক্ত ঘনকান্ত গগৈকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গুয়াহাটি পুলিশের কমিশনার পার্থসারথি মহন্ত জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে হোটেলটির লিজ চুক্তি ঘিরে সম্পত্তি সংক্রান্ত বিবাদকে গুলিচালনার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে ঠিক কী কারণে এই সংঘর্ষের সূত্রপাত এবং কীভাবে গুলিচালনার ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। পুলিশের তরফে এখনও তদন্তের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
এদিকে, আহতদের গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ তথা প্রধান সুপারিনটেনডেন্ট বাবুল কুমার বেজবড়ুয়া জানান, সোমবার রাত ৯টা থেকে সাড়ে ৯টার মধ্যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ঘটনাটির খবর পায়। প্রাথমিকভাবে একজনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছিল।
মৃত ব্যক্তির নাম নারায়ণ দাস। তাঁর বয়স আনুমানিক ৪৮ বছর। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, তাঁর ঠোঁটে আঘাতের চিহ্ন ছিল। শরীরে গুলির প্রবেশের ক্ষত থাকলেও বেরিয়ে যাওয়ার ক্ষত দেখা যায়নি বলে জানান বেজবড়ুয়া।
ঘটনার পর হোটেল চত্বরে পৌঁছয় ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরির একটি দল। গুলিচালনার পরিস্থিতি, ব্যবহৃত অস্ত্র এবং অন্যান্য নমুনা সংগ্রহ করে ঘটনার পুনর্গঠন ও প্রমাণ যাচাইয়ের কাজ চলছে।
পুলিশের তদন্তে আপাতত সম্পত্তি সংক্রান্ত বিবাদের সূত্র গুরুত্ব পেলেও, পাঁচজনের মৃত্যু ঘিরে গুয়াহাটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। একদিকে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও অভিযুক্তের ভূমিকা নির্ধারণে তদন্ত চলছে, অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে রাজ্য সরকারের কাছে জবাব চাইছে বিরোধী কংগ্রেস। পুলিশের তদন্তের অগ্রগতি এবং সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই এখন নজর।


