মেঘালয়ে দলবদল: পল লিংডোকে ‘আহত সিংহ’ বলে কটাক্ষ কংগ্রেস সভাপতি পালার
কে আর সি টাইমস ডেস্ক
শিলং:ইউনাইটেড ডেমোক্র্যাটিক পার্টি (ইউডিপি) ছেড়ে ন্যাশনাল পিপলস পার্টিতে (এনপিপি) যোগ দিয়েছেন মেঘালয়ের প্রাক্তন মন্ত্রী পল লিংডো। তাঁর এই দলবদলকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক চাপানউতোরের মধ্যেই লিংডোকে ‘আহত সিংহ’ বলে কটাক্ষ করলেন মেঘালয় প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি ভিনসেন্ট এইচ পালা। একই সঙ্গে বিজেপিতে যোগ দেওয়া ইউডিপির আট প্রাক্তন বিধায়ক আগামী দিনে ওই দল নিয়ে হতাশ হতে পারেন বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি।
সোমবার সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে পালা বলেন, বিজেপিতে যোগ দেওয়া অনেক নেতাই রাজনৈতিক লাভের আশায় দল পরিবর্তন করেছেন। কিন্তু বিজেপি তাঁদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন তিনি।
পালার কথায়, “অনেকেই স্বপ্ন ও আশা নিয়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। কিন্তু আমার অভিজ্ঞতা বলছে, বিজেপি প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে না। ২০২৮ সালের মধ্যে মানুষই তাঁদের সেই আশার জবাব দেবে।”
ইউডিপিতে ধাক্কা, এনপিপিতে নতুন অধ্যায়
পল লিংডোর রাজনৈতিক যাত্রাপথের প্রসঙ্গ টেনে পালা বলেন, ইউডিপিতে যোগ দেওয়ার পর লিংডো ভালো কাজ করেছিলেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে ফের দলের অভ্যন্তরে ধাক্কা খেতে হয় তাঁকে। সেই অভিজ্ঞতার পরই তাঁর এনপিপিতে যোগদানের সিদ্ধান্ত বলে মন্তব্য করেন কংগ্রেস সভাপতি।
লিংডোর পরিস্থিতি বোঝাতে তির-ধনুকের উপমা ব্যবহার করে পালা বলেন, “নিজের দলের কাছেই প্রথমে তির-ধনুকের আঘাত পেয়েছিলেন তিনি। পরে ইউডিপিতে যোগ দিয়ে ভালো কাজ করেন। কিন্তু সেখানেও ফের আঘাত এল। তাই তিনি এখন আহত সিংহ।”
এনপিপিতে যোগ দেওয়ার পর লিংডোর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নির্ভর করবে নতুন দল তাঁকে কীভাবে গ্রহণ করে তার উপর—এমনটাই মনে করেন পালা। তাঁকে মন্ত্রিসভায় জায়গা দেওয়া হবে কি না, তা নিয়েও কোনও মন্তব্য করতে চাননি তিনি।
পালার কথায়, “এনপিপিতে সিংহ কীভাবে এগোয়, তা দেখা যাক। আমি আশা করি, তিনি ভালো করবেন। তবে তাঁকে মন্ত্রী করা হবে কি না, তা এখনও দেখার বিষয়।”
বিজেপিতে যোগ দেওয়া বিধায়কদের ভবিষ্যৎ নিয়েও প্রশ্ন
ইউডিপির প্রাক্তন বিধায়কদের বিজেপিতে যোগদানের প্রসঙ্গে তৃণমূল কংগ্রেসের (টিএমসি) উদাহরণ টেনেছেন পালা। তাঁর দাবি, অতীতে অনেক নেতা বিপুল প্রত্যাশা নিয়ে তৃণমূলে যোগ দিলেও পরে তাঁদের একাংশ হতাশ হয়েছেন। বিজেপিতে যোগ দেওয়া ইউডিপির প্রাক্তন বিধায়কদের ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।
পালার বক্তব্য, “প্রতিশ্রুতি পূরণ না হলে তাঁরা দল ছাড়তে পারেন। অনেকেই বড় আশা নিয়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত এক-দু’জন ছাড়া বাকিরা ফিরে আসেননি। এ ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটতে পারে।”
উল্লেখ্য, ইউডিপির মোট ১১ জন প্রাক্তন বিধায়কের দলবদলকে ঘিরে মেঘালয়ের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। তাঁদের মধ্যে তিনজন এনপিপিতে এবং আটজন বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন। ২০২৮ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে এই দলবদল রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনা শুরু করেছে। তবে বিজেপিতে যোগ দেওয়া নেতাদের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে পালার মন্তব্য তাঁর রাজনৈতিক মূল্যায়ন; সংশ্লিষ্ট নেতাদের তরফে এ বিষয়ে কোনও প্রতিক্রিয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।


