ফর্ম-৬-এ কোনও বদল নয়, সুপ্রিম কোর্টে জানাল নির্বাচন কমিশন

2 - মিনিট |

এসআইআর-এর ঘোষণাপত্র পৃথক নথি, দাবি কমিশনের; নির্ধারিত ফর্ম সংশোধনের ক্ষমতা কেন্দ্রের

কে আর সি টাইমস ডেস্ক

নয়াদিল্লি, ২৭ অক্টোবর: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকায় নাম তোলার নির্ধারিত ফর্ম-৬-এ কোনও পরিবর্তন করা হয়নি বলে সুপ্রিম কোর্টে জানাল নির্বাচন কমিশন। কমিশনের দাবি, এসআইআর-এর জন্য ফর্ম-৬-এর সঙ্গে যে ঘোষণাপত্র জমা দিতে হচ্ছে, সেটি সম্পূর্ণ পৃথক একটি নথি। ফর্ম-৬ সংশোধনের ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের নয়, কেন্দ্রীয় সরকারের।

এসআইআর সংক্রান্ত একাধিক নির্দেশের মাধ্যমে ফর্ম-৬ পরিবর্তন করা হয়েছে বলে যে অভিযোগ উঠেছে, তার জবাবে শীর্ষ আদালতে পাল্টা হলফনামা জমা দিয়েছে কমিশন। ২০২৫ সালের ২৪ জুন ও ২৭ অক্টোবর এবং ২০২৬ সালের ১৪ মে জারি করা নির্দেশগুলির মাধ্যমে ফর্ম-৬ সংশোধনের অভিযোগকে বিভ্রান্তিকর বলে উল্লেখ করেছে তারা।

কমিশনের বক্তব্য, ১৯৬০ সালের ভোটার নিবন্ধন বিধিতে নির্ধারিত ফর্ম-৬ অপরিবর্তিত রয়েছে। এসআইআর-এর নির্দেশে যে ঘোষণাপত্রের ব্যবস্থা করা হয়েছে, তা ফর্ম-৬-এর অংশ নয়। ফলে ওই ঘোষণাপত্রে পরিবর্তন আনার অর্থ ফর্ম-৬ সংশোধন করা নয় বলেই আদালতে যুক্তি দিয়েছে কমিশন।

পুরনো ভোটার তালিকার সঙ্গে তথ্য মেলানোর ব্যবস্থা

কমিশন জানিয়েছে, ফর্ম-৬-এর সঙ্গে জমা দেওয়া ঘোষণাপত্রে পরিবর্তন আনার মূল উদ্দেশ্য হল আবেদনকারীর তথ্য আগের ভোটার তালিকার সঙ্গে মেলানোর ব্যবস্থা করা। এর মাধ্যমে আবেদনকারীরা নিজেদের, বাবা-মা অথবা ঠাকুরদা-ঠাকুমার এমন তথ্য দিতে পারবেন, যা পূর্ববর্তী ভোটার তালিকায় নথিভুক্ত রয়েছে।

কমিশনের দাবি, এই ব্যবস্থা আবেদনকারীদের যোগ্যতা যাচাই সহজ করবে। পুরনো ভোটার তালিকার সঙ্গে প্রয়োজনীয় তথ্য মেলানো সম্ভব হলে দাবি ও আপত্তি জানানোর পর্যায়ে অতিরিক্ত প্রমাণপত্র জমা দেওয়ার প্রয়োজনও এড়ানো যাবে।

হলফনামা অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২৪ জুন জারি করা এসআইআর নির্দেশের সঙ্গে সংযুক্তি-ডি হিসেবে প্রথম এই ঘোষণাপত্র চালু করা হয়েছিল। পরে ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর এবং ২০২৬ সালের ১৪ মে জারি করা নির্দেশে সেটিকে সংশোধন করে সংযুক্তি-৪ হিসেবে রাখা হয়।

তবে যাঁরা নিজেদের বা পরিবারের সদস্যদের তথ্য আগের ভোটার তালিকার সঙ্গে মেলাতে পারবেন না, তাঁদের নির্ধারিত প্রমাণপত্র জমা দিতে হবে বলে জানিয়েছে কমিশন। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট ভোটার তালিকা নিবন্ধন আধিকারিক (ইআরও) আবেদনকারীকে নোটিস দিতে পারবেন। বিধি অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে শুনানির সুযোগও দেওয়া হবে।

অনলাইন আবেদনেও পৃথক হচ্ছে দুই নথি

অনলাইন আবেদন প্রক্রিয়া নিয়েও ব্যাখ্যা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। তাদের বক্তব্য, আগে অনলাইনে ফর্ম-৬ পূরণের ব্যবস্থার মধ্যেই এসআইআর-এর ঘোষণাপত্র যুক্ত করা হয়েছিল। ফলে একটি ওটিপি এবং বৈদ্যুতিন স্বাক্ষরের মাধ্যমেই আবেদনকারী দুটি নথির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারতেন।

পরে ফর্ম-৬ এবং এসআইআর-এর ঘোষণাপত্রকে অনলাইন আবেদনে পৃথক করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কমিশনের দাবি, এর ফলে অনলাইন ও সরাসরি আবেদন—দুই ক্ষেত্রেই নথি জমা দেওয়ার পদ্ধতিতে সামঞ্জস্য বজায় রাখা সম্ভব হবে।

এসআইআর পরিচালনার সাংবিধানিক ও আইনি ভিত্তি তুলে ধরে কমিশন জানিয়েছে, সংবিধানের ৩২৪ অনুচ্ছেদ এবং ২০২৩ সালের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ও অন্যান্য নির্বাচন কমিশনারদের নিয়োগ, চাকরির শর্ত ও কার্যকালের মেয়াদ সংক্রান্ত আইনের আওতায় এই নির্দেশগুলি জারি করা হয়েছে।

কমিশনের আরও দাবি, এসআইআর সংক্রান্ত নির্দেশগুলি তিন সদস্যের কমিশনের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই জারি করা হয়েছিল।

ফর্ম-৬ সংশোধনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা, এসআইআর-এর নথিপত্র এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, আদালতে জমা দেওয়া এই হলফনামা তারই জবাব। কমিশনের বক্তব্য, নির্ধারিত ফর্ম অপরিবর্তিত রেখেই ভোটারদের তথ্য যাচাইয়ের সুবিধার্থে পৃথক ঘোষণাপত্রের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *