চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ করিডোর ইস্যুতে এখনই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে না বাংলাদেশ

2 - মিনিট |

বিষয়টি সম্ভাবনার দিক থেকে পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন করা হচ্ছে

সমীরণ রায়

ঢাকা | মিয়ানমার হয়ে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক করিডোরের বিষয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ করিডোর বিষয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্ত নিচ্ছে না বাংলাদেশ। তিনি বলেন, এটা একটা অর্থনৈতিক প্রস্তাব। এখনও রাখাইন হয়ে সড়ক তৈরির পর্যায়ে যায়নি দুই দেশ। 

এক্ষেত্রে ‘মাল্টিমোডাল কানেক্টিভিটি’ হবে। মিয়ানমারে যে সমস্ত বন্দর চীন ব্যবহার করছে, সেগুলো থেকে বাংলাদেশে ছোট জাহাজে করে পণ্য আনতে পারে কি-না। সেটা করতে পারলে ‘টাইম টু মার্কেট’, ‘কস্ট টু মার্কেট’ অনেক কমে যাচ্ছে। আরাকানের শান্তি ফিরে এলে, স্থিতিশীলতা ফিরলে, এগুলোর (সড়ক) কথা আমরা নিশ্চয়ই চিন্তা করব।

সেখানে শুধু একটি রোড না ‘মাল্টিপল’ রোড হতে পারে। বাংলাদেশের তারা নিকট একটা প্রতিবেশী অঞ্চল, তার সঙ্গে আমার যোগাযোগ থাকতেই পারে।  শনিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সদ্য সমাপ্ত মালয়েশিয়া ও চীন সফর নিয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান। তিনি বলেন, চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ করিডোর বিষয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্ত নিচ্ছে না বাংলাদেশ।

বিষয়টি সম্ভাবনার দিক থেকে পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়ন করা হচ্ছে।এদিকে ব্রিকসে যোগ দেয়া, তিস্তা প্রকল্প ও রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে চীন সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে বলে জানিয়েপররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেন, চীনের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নে চীনের সহায়তার অংশ হিসেবে শিগগিরই সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু হবে।

এ ছাড়া ব্রিকস-এ যোগদানের বিষয়েও বাংলাদেশকে সহায়তা করবে।প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফরে আর্থিক সহায়তা নিয়ে করা প্রশ্নে বিব্রত হওয়ার কথা উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নগদ প্রাপ্তির কথা বললেন। ভাই, এ সমস্ত প্রশ্ন করবেন না, আমরা খুব বিব্রত হই। এখানে প্রধানমন্ত্রী ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে যাননি। 

এখানে গেছেন দুই দেশের সম্পর্কের অভিমুখ, তার কন্টেন্ট এবং তার উচ্চতা, ব্যাপ্তি এবং গভীরতা এইটা এস্টাবলিশ করার জন্য। কোনো দিন কোনো সরকারপ্রধান আরেক সরকারপ্রধানের সঙ্গে দিস্তা কাগজ নিয়ে, পেন্সিল নিয়ে বসে না, ভিক্ষার ঝুলি নিয়ে যায় না। একটু আত্মসম্মান রাখেন।

‘টু প্লাস টু’ ব্যবস্থাপনা অনুসন্ধানের প্রসঙ্গ ধরেপররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিল বলেন,  এটা আমরা ‘এক্সপ্লোর’ করব। কারণ আজকে যে ধরনের একটা অস্থির অবস্থা পৃথিবীতে, ‘ফরেন পলিসি এবং স্ট্রাটেজিক ইম্পারেটিভস’ কিন্তু এখন যুক্ত হয়ে যাচ্ছে। এটা আপনি অস্বীকার করতে পারবেন না। যার কারণে তুরস্কের সঙ্গে আমরা ‘টু প্লাস টু’ করছি, কারণ মিডিল ইস্টে আমাদের যথেষ্ট পরিমাণ স্বার্থ আছে। তেমনি আমরা চীনের সঙ্গে ‘এক্সপ্লোর’ করব। এখন এটা ‘এক্সপ্লোরেটরি স্টেজে’ আছে। আমরা কোনো সিদ্ধান্ত এখনো সেভাবে নিয়ে নিই।

চীনা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠকে উপস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রীতো ছিলেন; সেখানে বসেছিলেন অর্থমন্ত্রী, বাণিজ্যমন্ত্রী, চীনা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর। তাতেই বুঝতে পারছেন। এবং এরা এত বড় একটা ইকোনমি চালান, আপনি বুঝতে পারছেন যে, এতটুকু সময়, ঘন্টাখানেক সময় তারা আমাদেরকে দিয়েছেন সম্মিলিতভাবে। “সুতরাং এই ভিজিটের সিগনিফিকেন্স আপনি শুধু এগুলো দেখলে বুঝবেন, আগের ভিজিটগুলোর তুলনায় এটা ‘কমপ্লিটলি’ একটা ‘ডিফারেন্ট ভিজিট’।”

এসময় উপস্থিত সঙ্গে ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির, পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম এবং বিনিয়োগ উন্নয়ন বোর্ডের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Related news