নাগাল্যান্ডে ৬৩ হাজারের বেশি প্রবীণ পাচ্ছেন পেনশন সহায়তা

2 - মিনিট |

বৃদ্ধদের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে আরও কার্যকর সামাজিক সুরক্ষার আহ্বান মুখ্যসচিব সেন্তিয়াঙ্গার ইমচেনের

কে আর সি টাইমস ডেস্ক

কোহিমা: নাগাল্যান্ডে ৬৩ হাজার ৩০০-র বেশি প্রবীণ নাগরিক বর্তমানে বার্ধক্যভাতা ও অন্যান্য সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের আওতায় আর্থিক সহায়তা পাচ্ছেন। বৃহস্পতিবার কোহিমায় আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসের রাজ্যস্তরের অনুষ্ঠানে এই তথ্য জানান নাগাল্যান্ডের মুখ্যসচিব সেন্তিয়াঙ্গার ইমচেন।

জাতীয় সামাজিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ইন্দিরা গান্ধী জাতীয় বার্ধক্য পেনশন প্রকল্প এবং রাজ্য সরকারের অন্যান্য পেনশন উদ্যোগের মাধ্যমে এই সহায়তা দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

কোহিমার এনবিসিসি কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ইমচেন বলেন, মানুষের আয়ু বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শুধু দীর্ঘ জীবন নিশ্চিত করাই যথেষ্ট নয়। প্রবীণদের জীবন যাতে সুস্থ, মর্যাদাপূর্ণ, নিরাপদ এবং অর্থপূর্ণ হয়, তার জন্য সামাজিক সহায়তার ব্যবস্থাকেও আরও শক্তিশালী করতে হবে।

স্বাস্থ্য পরিষেবা থেকে সহায়ক সরঞ্জাম

প্রবীণদের স্বাস্থ্য ও সামাজিক সুরক্ষা বাড়াতে সমাজকল্যাণ দফতর এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলি একাধিক উদ্যোগ নিচ্ছে বলে জানান মুখ্যসচিব।

এর মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্য শিবির, ছানি অস্ত্রোপচার এবং প্রবীণদের প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের বিশেষ সহায়তা।

রাষ্ট্রীয় বয়োশ্রী যোজনার আওতায় দারিদ্রসীমার নিচে থাকা যোগ্য প্রবীণদের প্রয়োজনীয় সহায়ক ও চলাফেরার সরঞ্জাম দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। এর মধ্যে বয়সজনিত শারীরিক সমস্যার ক্ষেত্রে দৈনন্দিন চলাফেরা সহজ করতে বিভিন্ন সহায়ক সামগ্রী রয়েছে।

প্রশিক্ষিত পরিচর্যাকারীর প্রয়োজন

নাগাল্যান্ডে প্রবীণদের পরিচর্যার জন্য প্রশিক্ষিত কর্মীর প্রয়োজনও বাড়ছে। সেই কথা মাথায় রেখে ডিমাপুরের ক্রিশ্চিয়ান ইনস্টিটিউট অব হেলথ সায়েন্সেস অ্যান্ড রিসার্চ বা সিআইএইচএসআর-সহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ ভাবে জেরিয়াট্রিক কেয়ারগিভার প্রশিক্ষণ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান ইমচেন।

তাঁর মতে, এই ধরনের প্রশিক্ষণ একদিকে যেমন প্রবীণদের জন্য পেশাদার পরিচর্যার সুযোগ বাড়াবে, অন্যদিকে তরুণদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের পথও তৈরি করতে পারে।

বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়িতে এবং প্রতিষ্ঠানে—দুই ক্ষেত্রেই প্রশিক্ষিত পরিচর্যাকারীর চাহিদা বাড়বে। ফলে প্রবীণ কল্যাণের সঙ্গে কর্মসংস্থানের একটি নতুন ক্ষেত্রও যুক্ত হতে পারে।

১২টি প্রবীণ নিবাসে সরকারি সহায়তা

প্রাতিষ্ঠানিক পরিচর্যার ক্ষেত্রেও রাজ্য সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান মুখ্যসচিব। অটল বয়ো অভ্যুদয় যোজনার আওতায় রাজ্যের ১২টি প্রবীণ নিবাসকে সরকারি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

এই কেন্দ্রগুলিতে প্রবীণদের নিরাপদে থাকার ব্যবস্থা, সঙ্গ, বিনোদনের সুযোগ এবং চিকিৎসা পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা রয়েছে বলে জানান তিনি।

তবে শুধু প্রতিষ্ঠান তৈরি করলেই প্রবীণদের সমস্যার সমাধান হবে না। পরিবার, স্থানীয় সমাজ এবং সরকারি পরিষেবার মধ্যে সমন্বয়ও প্রয়োজন বলে অনুষ্ঠানে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

১৪৫৬৭ নম্বরে সাহায্য

প্রবীণদের জন্য চালু থাকা জাতীয় টোল-ফ্রি হেল্পলাইন ১৪৫৬৭-এর কথাও তুলে ধরেন ইমচেন। নাগাল্যান্ডে এই পরিষেবা চালু হয়েছিল ২০২১ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর।

এই হেল্পলাইনের মাধ্যমে পেনশন, সরকারি প্রকল্প এবং প্রবীণদের পরিচর্যা সংক্রান্ত পরিষেবা সম্পর্কে তথ্য ও পরামর্শ পাওয়া যায়। কোনও প্রবীণ নাগরিক অসহায় অবস্থায় থাকলে, ঝুঁকির মধ্যে পড়লে বা নির্যাতনের শিকার হলে সেখানেও সহায়তা চাওয়া যায়।

প্রকল্প নয়, দরকার বাস্তব পরিষেবা

প্রবীণদের জন্য সরকারি প্রকল্প থাকলেই তার সুফল মানুষের কাছে পৌঁছবে না—এই বিষয়টিতেই বিশেষ জোর দেন মুখ্যসচিব।

ইমচেন বলেন, “ফাঁকফোকর বন্ধ করতে হবে, ঘাটতি পূরণ করতে হবে এবং পরিষেবার পরিধি আরও বাড়াতে হবে।” তাঁর বক্তব্য, প্রকল্পের বাস্তবায়ন এবং মানুষের কাছে তার পৌঁছনোর ব্যবস্থাই শেষ পর্যন্ত সরকারি নীতির সাফল্য নির্ধারণ করে।

নাগাল্যান্ডের প্রবীণ জনসংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের জন্য স্বাস্থ্য পরিষেবা, সামাজিক নিরাপত্তা, পরিচর্যা এবং নিরাপদ জীবনযাপনের ব্যবস্থা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। সরকারি সংস্থার পাশাপাশি স্থানীয় সমাজ এবং পরিষেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলিকেও এই ব্যবস্থার অংশ হওয়ার আহ্বান জানান মুখ্যসচিব।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *