বন্যা-ধসে বিপর্যস্ত একাধিক এলাকা; ৫৪২টি দুর্যোগের ঘটনা, ৯.৮ লক্ষের বেশি মানুষকে সতর্কবার্তা
কে আর সি টাইমস ডেস্ক
কাঠমান্ডু: টানা ভারী বৃষ্টিতে বন্যা ও ধসে বিপর্যস্ত নেপাল। গত ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে বৃষ্টিজনিত বিভিন্ন দুর্যোগে অন্তত ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন আরও চারজন, আহত আট। নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ (এনডিআরআরএমএ) মঙ্গলবার এই তথ্য জানিয়েছে।
নিহতদের মধ্যে ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে ধসে, চারজন বন্যায় এবং তিনজন ভারী বৃষ্টিজনিত অন্যান্য ঘটনায়। এই সময়ের মধ্যে মোট ৫৪২টি বৃষ্টিজনিত দুর্যোগের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।
দুর্যোগে ১,০৮২টি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১১৪টি গবাদি পশুরও মৃত্যু হয়েছে। সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে ২২৭টি বাড়ি, আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আরও ১৪২টি। বন্যা ও ধসে ৩১টি সেতুও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
নেপালের আবহাওয়া দফতর জানিয়েছে, ২৪ থেকে ২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চার দিনে দেশের ১৮৬টি বৃষ্টিমাপ কেন্দ্রেই ১০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি রেকর্ড হয়েছে।
সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে নওয়ালপরাসির দেধগাঁওয়ে—৫৪৪.২ মিলিমিটার। কাসকির পঞ্চাসেতে ৫০০.২ মিলিমিটার এবং তানাহুনের আত্রাউলিতারে ৪৭২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
আবহাওয়া দফতরের মতে, উত্তর ভারতের উত্তরপ্রদেশের কাছে তৈরি নিম্নচাপ এবং বঙ্গোপসাগর থেকে আসা জলীয়বাষ্পপূর্ণ বাতাসের প্রভাবে এই ভারী বৃষ্টি হয়েছে।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে এনডিআরআরএমএ টেলিকম সংস্থাগুলির মাধ্যমে ৯ লক্ষ ৮০ হাজারের বেশি মানুষের কাছে বন্যা সতর্কবার্তা পাঠিয়েছে।
বন্যার আশঙ্কায় প্রায় ২,০০০ মানুষকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। প্রত্যন্ত এলাকায় আটকে পড়া বহু মানুষকে হেলিকপ্টারে উদ্ধার করা হয়েছে।
এনডিআরআরএমএ-র মুখপাত্র শান্তি মাহাতের জানিয়েছেন, জাজরকোট, মায়াগদি ও বাগলুং-সহ একাধিক জেলার দুর্গম এলাকায় উদ্ধারকাজ চালানো হয়েছে। ২৭ সেপ্টেম্বর মায়াগদির অন্নপূর্ণা গ্রামীণ পুরসভার পাওদ্ধারে আটকে থাকা ৭৮ জনকে হেলিকপ্টারে উদ্ধার করে নিরাপদ জায়গায় নিয়ে যাওয়া হয়। জাজরকোটে ভেরি নদীর একটি দ্বীপে আটকে পড়া চারজনকেও আকাশপথে উদ্ধার করা হয়েছে।
নেপাল পুলিশ, সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী এবং সেনাবাহিনীর সদস্যদের উদ্ধার ও ত্রাণকাজে মোতায়েন করা হয়েছে।
ভারী বৃষ্টিতে মানাংয়ের চামে এলাকাতেও ধস নামে। ঘাট্টে খোলার বন্যা ও ধসের ধ্বংসাবশেষে মার্সিয়াংদি নদীর প্রবাহ আংশিক আটকে যায়। পরে দুটি জলধারা মিশে গিয়ে সেখানে অস্থায়ী জলাধারের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়।
জল বাড়তে থাকায় চামে ও আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের অনেকে জঙ্গল, গুহা ও তুলনামূলক নিরাপদ জায়গায় আশ্রয় নেন। পরে জলস্তর প্রায় এক মিটার কমে আসে এবং জলের নীচে চলে যাওয়া একটি সেতুও ধীরে ধীরে দৃশ্যমান হতে শুরু করে।
কালীগণ্ডকী করিডরেও বন্যা ও ধসে রাস্তা ও সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেধগাঁওয়ে প্রায় ৩০ মিটার রাস্তা নদীর জলে কেটে গিয়েছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর। রিডি ও রুদ্রবেনির কাছে ৫০ মিটারের বেশি রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
এনডিআরআরএমএ জানিয়েছে, নারায়ণী ও গণ্ডক-সহ দেশের কয়েকটি প্রধান নদীর জলস্তর ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। সামগ্রিক পরিস্থিতিও স্বাভাবিকের দিকে যাচ্ছে।
তবে গত কয়েক দিনের এই দুর্যোগ এমন সময়ে এল, যখন গত মাসের ভয়াবহ বন্যার ধাক্কা এখনও কাটিয়ে উঠতে পারেনি নেপাল। ২৬ আগস্ট নেপাল-তিব্বত সীমান্তের কাছে ভোটেকোশি নদীতে ভয়াবহ বন্যায় ঘরবাড়ি, গাড়ি, রাস্তা ও সেতু ভেসে যাওয়ার পাশাপাশি একাধিক জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ওই ঘটনায় ১,৪৫০-এর বেশি মানুষের মৃত্যু এবং প্রায় ৫,০০০ জনের নিখোঁজ হওয়ার কথা জানানো হয়েছিল।


