এইচএসএলসি ফলাফলে বরাকে হতাশা, প্রত্যন্ত গম্ভীরার ছাত্রছাত্রীদের সাফল্যে উজ্জ্বল নজির
কেআরসি টাইমস বারাক ভ্যালি ব্যুরো
শিলচর : এইচ এস এল সি পরীক্ষায় বরাকের তিন জেলার সরকারি স্কুলের শোচনীয় ফলাফল নিয়ে গভীর উদ্বেগ ব্যক্ত করার পাশাপাশি অভাবনীয় সাফল্যের জন্য প্রত্যন্ত গম্ভীরা চা বাগানের স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের অভিনন্দন জানাল প্রাক্তনী আকসা।
এক প্রেস বার্তায় আকসার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি প্রদীপ দত্তরায় এদিন বলেন যে এইচ এস এল সি পরীক্ষায় এইবছর বরাকের তিন জেলার ছাত্রছাত্রীদের যে শোচনীয় ফলাফল প্রকাশ পেয়েছে তা রীতিমতো উদ্বেগজনক। বিশেষতঃ সরকারি স্কুলের এইধরনের ফলাফল নিয়ে অবশ্যই গভীর পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে। তিনি বলেন যে কাছাড় জেলায় পাসের হার মাত্র ৪৯.৩ শতাংশ। শিলচরের গভর্নমেন্ট বয়েজ স্কুল থেকে মাত্র একজন পাশ করেছে। অধিকাংশ সরকারি স্কুলেরই একই অবস্থা। এমনকি বেসরকারি স্কুলের ফলাফলও অন্যান্য বছরের তুলনায় নিম্নমানের।
প্রদীপ দত্তরায় বলেন সরকারি স্কুলের ছাত্রছাত্রীরা অধিকাংশই অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল পরিবার থেকে আসে এবং অভিভাবকদের থেকে পর্যাপ্ত সহায়তা পায়না। কিন্তু এই খারাপ ফলাফলের জন্য শুধু ছাত্র কিংবা শিক্ষকদের কাঠগড়ায় তুললে হবেনা, জেলার সামগ্রিক শিক্ষা ব্যাবস্থার সাংগঠনিক ব্যর্থতা কোন অংশেই কম দায়ী নয়।
তিনি বলেন অনেক স্কুলেই বাধ্যতামূলক ও ঐচ্ছিক বিষয়ের পর্যাপ্ত শিক্ষক নেই। স্কুল পরিদর্শকরা খুব কমই পরিদর্শনে যান যার ফলে একটি নির্দিষ্ট শৈক্ষিক পরিকল্পনা গ্রহণ,রূপায়ণ ও জবাবদিহিতা প্রায় নেই বললেই চলে। এছাড়া শিক্ষকদের প্রায়ই পড়ানোর বাইরে অন্য কাজে জুড়ে দেওয়া হয় যা নিয়মিত পঠনপাঠন প্রক্রিয়ায় ব্যাঘাত ঘটায়। স্কুল ম্যানেজমেন্ট কমিটিগুলিও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত নয়, এমন সব ব্যাক্তি এদের দায়িত্বে রয়েছেন যাদের শিক্ষা ব্যাবস্থার সাথে যোগাযোগ নেই বা তেমনটা গড়ে নেবার আগ্রহও নেই।
এছাড়া রয়েছে অবকাঠামোর অপ্রতুলতা। এখনও অনেক স্কুলে পরিস্কার শৌচাগার, নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ, পানীয় জল এবং উপযুক্ত শ্রেনিকক্ষের মতো অত্যাবশ্যকীয় সুবিধার অভাব রয়েছে। প্রদীপ দত্তরায় এদিন বলেন যে তাঁরা অবিলম্বে জেলা প্রশাসন তথা সরকারকে এইসব ব্যাপারে সংশোধনী পদক্ষেপ নেবার আহবান জানাচ্ছেন।
তিনি আরো বলেন যে যেহেতু শিক্ষার সাথে ছাত্র, শিক্ষক ও অভিভাবক সবারই জরুরী সংযোগ ও ভূমিকা রয়েছে তাই জেলা প্রশাসন অবিলম্বে এই তিন স্তরের প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনায় বসুক। তিনি বলেন বরাকে অনেক অভিজ্ঞ শিক্ষক,শিক্ষিকা, শিক্ষাকর্মী রয়েছেন যারা এখানকার শিক্ষা ব্যাবস্থার প্রকৃত সমস্যা সম্বন্ধে সম্যক ওয়াকিবহাল। তিনি অবিলম্বে সরকার তথা প্রশাসনকে তাঁদের সাথে খোলামেলা আলোচনার মাধ্যমে, বরাকের শিক্ষা ব্যাবস্থার সংস্কারের কাজ শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রাক্তনী আকসার সভাপতি হিলাল উদ্দিন লস্কর এদিন বলেন যে বরাকের শিক্ষা ব্যাবস্থার এই দুর্দিনে কিন্তু আশার আলো দেখিয়েছে রামকৃষ্ণনগর শিক্ষাখন্ডের প্রত্যন্ত গম্ভীরা চা বাগানের মুক্তিযোদ্ধা পিতাম্বর কূর্মি আদর্শ বিদ্যালয়। তিনি বলেন এই স্কুলের পাশের হার ৭২.৫ শতাংশ, যারমধ্যে ২০ জন প্রথম বিভাগ ও ৩০ জন দ্বিতীয় বিভাগে উত্তীর্ণ হয়েছে। ৩২ জন পরীক্ষার্থী বিভিন্ন বিষয়ে লেটার মার্কস পেয়েছে। সবচেয়ে আনন্দের বিষয় যে এই স্কুলের পঞ্চমী নাথ ও প্রিয়া দাস বাংলায় একশতে একশো নম্বর পেয়ে বরাকের নাম উজ্জ্বল করেছে।
একই ভাবে জ্যোতিকা কোহার ও সোনাক্ষী দাসও সংস্কৃতে একশোয় একশো নম্বর পেয়ে সবাইকে চমকে দিয়েছে। তিনি বলেন প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকার এই ছাত্রীরা যে কাজটি করে দেখিয়েছে ভাষা শহিদদের ভুমির বাসিন্দা হিসেবে এ প্রত্যেক বরাকবাসীর গর্বের ব্যাপার। তিনি বলেন যে এই সরকারি স্কুলের ফলাফল যেমন একদিকে চোখে আঙুল তুলে দেখিয়ে দিয়েছে যে সুস্থ পরিবেশ ও শিক্ষক তথা বিদ্যালয় পরিচালনা সমিতির ইচ্ছাশক্তি ও সক্রিয় ভূমিকা থাকলে সরকারি স্কুলের ফলাফলে উৎকর্ষতা বৃদ্ধি অবশ্যই সম্ভব তেমনি এটাও প্রমাণ করেছে যে এখানে গ্রামীণ এলাকায়ও মেধার অভাব নেই।
হিলাল উদ্দিন লস্কর এই ছাত্রীদের এদিন উষ্ণ অভিনন্দন জানিয়ে আগামীতে তাদের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেছেন। একইসাথে তিনি বরাক উপত্যকার সমস্ত উল্লেখযোগ্য সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনকে প্রত্যন্ত অঞ্চলের এই মেধাবী ছাত্রীদের অভিনন্দন তথা উৎসাহ দেবার আহবান জানিয়েছেন। প্রাক্তনী আকসার পক্ষ থেকে পঙ্কজ দেবরায় এক প্রেস বার্তায় এই খবর জানিয়েছেন।



