লক্ষদ্বীপের কাছে ইরানি নৌকা থেকে ৩ হাজার কোটি টাকার মাদক উদ্ধার, আটক ৫ পাকিস্তানি

2 - মিনিট |

৫২৬ কেজি মেথামফেটামিন ও হেরোইন বাজেয়াপ্ত; ইরান থেকে মাদক এনে তামিলনাড়ু হয়ে পঞ্জাবে পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে সন্দেহ

কে আর সি টাইমস ডেস্ক

আহমেদাবাদ:লক্ষদ্বীপের কাছে আরব সাগরে একটি ইরানি নৌকা থেকে ৫২৬ কেজি মেথামফেটামিন ও হেরোইন উদ্ধার করেছে ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী এবং গুজরাত সন্ত্রাসদমন শাখা (এটিএস)। উদ্ধার হওয়া মাদকের আনুমানিক বাজারমূল্য ৩,০০০ কোটি টাকার বেশি বলে আধিকারিকরা জানিয়েছেন।

২৫ সেপ্টেম্বর যৌথ অভিযানে নৌকাটিতে থাকা পাঁচ পাকিস্তানি নাগরিককে আটক করা হয়। তাঁদের পরিচয় মহম্মদ ইয়াকুব বালুচি, শাকিরুল্লাহ, ফরিদুল্লাহ, আহমেদ খান এবং ওয়াহিদুল্লাহ খান হিসেবে জানিয়েছে এটিএস। পাঁচজনই পাকিস্তানের পেশোয়ারের বাসিন্দা বলে আধিকারিকদের দাবি।

গোপন সূত্রে সমুদ্রে মাদক পাচারের খবর পাওয়ার পর অভিযান শুরু হয়। উপকূলরক্ষী বাহিনী সমুদ্র ও আকাশপথে নজরদারি চালিয়ে সন্দেহভাজন নৌকাটিকে চিহ্নিত করে। পরে ধাওয়া করে লক্ষদ্বীপের পশ্চিমে নৌকাটি আটক করা হয়।

গুজরাত এটিএসের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল সুনীল যোশি জানিয়েছেন, আজাদ নামের নৌকাটি লক্ষদ্বীপের প্রায় ১৬০ নটিক্যাল মাইল উত্তর-পশ্চিমে এবং মুম্বইয়ের প্রায় ৪৯০ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে আটক করা হয়।

পরে সশস্ত্র নিরাপত্তার মধ্যে নৌকাটি এবং উদ্ধার হওয়া মাদক মুম্বইয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে যৌথ জিজ্ঞাসাবাদ ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া চলছে।

প্রাথমিক তদন্তে তদন্তকারীদের অনুমান, মাদকটি ইরান থেকে সমুদ্রপথে আনা হয়েছিল। সমুদ্রে অন্য একটি নৌকায় মাদক সরিয়ে দেওয়ার পর তা তামিলনাড়ুর উপকূলে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল বলে সন্দেহ করছে তদন্তকারী সংস্থাগুলি। সেখান থেকে মাদক পঞ্জাবে পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল বলেও প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।

যোশির বক্তব্য অনুযায়ী, আজাদ ইরানের কোনারাক বন্দরের কাছের জলসীমা থেকে যাত্রা করেছিল। পাকিস্তানের গোয়াদরের কাছে পৌঁছনোর পর একটি ছোট নৌকা থেকে ওই ইরানি নৌকায় মাদক তোলা হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের অনুমান।

এটিএসের সন্দেহ, এই চালানের সঙ্গে হাজি সেলিম পরিচালিত একটি আন্তর্জাতিক মাদক পাচার চক্রের যোগ থাকতে পারে। ওই নেটওয়ার্কের সঙ্গে কারা যুক্ত এবং মাদক পাচারের আগে-পরে আরও কোন কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ভূমিকা ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

গুজরাত উপকূলে সাম্প্রতিক একাধিক মাদকবিরোধী অভিযানের ফলে ওই পথে পাচারকারীদের জন্য পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠেছে বলে মনে করছে এটিএস। সেই কারণেই বিকল্প সমুদ্রপথ ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, তাও তদন্তের অংশ।

ঘটনায় গুজরাত এটিএস থানায় এফআইআর দায়ের হয়েছে। অভিযানের পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত বলে সন্দেহ করা এক গুজরাত-ভিত্তিক ব্যক্তির সন্ধানেও তদন্ত চলছে। পাশাপাশি অন্যান্য কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে মামলার পরবর্তী তদন্ত চালানো হচ্ছে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *