‘সব কাজ একসঙ্গে চলছে’, শিলচরের রাস্তার দুরবস্থা নিয়ে হিমন্ত

2 - মিনিট |

১৫ হাজার কোটি টাকার বেশি পরিকাঠামো প্রকল্পের কাজ চলছে বরাকে; দুর্গাপুজোর পর দু’দিনের সফরে এসে বিস্তারিত পর্যালোচনার আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর

কে আর সি টাইমস ডেস্ক

শিলচর: শিলচরের রাস্তার বেহাল দশা নিয়ে প্রশ্নের মুখে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার বক্তব্য, শহর ও বরাক উপত্যকায় একসঙ্গে একাধিক বড় পরিকাঠামো প্রকল্পের কাজ চলার কারণেই বর্তমানে রাস্তার পরিস্থিতি খারাপ। তাঁর দাবি, ন্যাশনাল হাইওয়েজ অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন লিমিটেড (এনএইচআইডিসিএল) এবং পূর্ত দফতর মিলিয়ে ১৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি প্রকল্পের কাজ করছে।

বুধবার দ্বিতীয়বার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবার বরাক উপত্যকায় এসে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেন হিমন্ত। তবে রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে এবারের সফরে বিস্তারিত প্রশাসনিক পর্যালোচনা করা সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি।

দুর্গাপুজোর পর ফের বরাক উপত্যকায় এসে দু’দিন ধরে প্রকল্পগুলির কাজ খতিয়ে দেখার কথা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

শিলচরের রাস্তার দুরবস্থা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে হিমন্ত বলেন, “সব কিছু একসঙ্গে হচ্ছে। এনএইচআইডিসিএল এবং পূর্ত দফতর মিলে ১৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি কাজ করছে। আর সব কাজ একসঙ্গে চলার কারণেই রাস্তার অবস্থা খারাপ।”

মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, অধিকাংশ চলমান রাস্তা প্রকল্প আগামী এক বছরের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা। প্রকল্পগুলির কাজ শেষ হলে বর্তমানের ভোগান্তি কমবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

শিলচরের প্রস্তাবিত উড়ালপুল নিয়েও মুখ্যমন্ত্রী জানান, নির্মাণকাজের সময় শহরবাসীকে দীর্ঘদিন সমস্যার মুখে পড়তে হতে পারে। তবে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সিদ্ধান্তে কোনও পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেননি তিনি।

হিমন্ত জানান, উড়ালপুলের টেস্ট পাইলিং ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। তাঁর অনুমান, নির্মাণকাজ চলাকালীন প্রায় দুই থেকে আড়াই বছর পর্যন্ত যান চলাচলে সমস্যা ও অন্যান্য ভোগান্তি হতে পারে।

গুয়াহাটিতে উড়ালপুল নির্মাণের সময়ও একই ধরনের সমস্যা হয়েছিল বলে উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পের সঙ্গে কিছুটা ভোগান্তি আসতেই পারে।

বরাক উপত্যকার উন্নয়ন প্রকল্পগুলি নিয়ে গুয়াহাটিতে বসে রিপোর্ট পর্যালোচনার পরিবর্তে আধিকারিকদের সরেজমিনে পরিস্থিতি দেখার উপরও জোর দেন মুখ্যমন্ত্রী।

তাঁর বক্তব্য, মুখ্যসচিব, মন্ত্রী এবং শীর্ষ আধিকারিকরা নিয়মিত বরাক সফর করলে প্রকল্পের সমস্যা দ্রুত চিহ্নিত করা সম্ভব হবে।

“আমরা এখানে বসে পর্যালোচনা করলে অনেক সমস্যার সমাধান বেরিয়ে আসে,” বলেন তিনি।

হিমন্ত আরও জানান, তিনি, মুখ্যসচিব এবং অন্যান্য মন্ত্রীরা নিয়মিত বরাক উপত্যকায় এসে স্থানীয় মানুষের সঙ্গে কথা বললে প্রকল্পের বাস্তব সমস্যা সরাসরি বোঝা যাবে এবং কাজ এগিয়ে নেওয়া সহজ হবে।

৩ অক্টোবর শিলচর পুরনিগমের ভোট। নির্বাচনের আগে আদর্শ আচরণবিধি কার্যকর থাকায় এবারের সফরে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা সম্ভব হয়নি বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

তবে নির্বাচন শেষ হওয়ার পর দুর্গাপুজোর পরে ফের বরাকে এসে দু’দিন ধরে প্রকল্প ও স্থানীয় সমস্যার বিস্তারিত পর্যালোচনা করার কথা জানিয়েছেন তিনি।

এবারের সফরে ২০০-র বেশি মানুষের সঙ্গে কথা বলেছেন বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, এঁদের অনেকেই নিজেদের সমস্যা জানাতে গুয়াহাটিতে যেতে পারেন না।

“সরকার যদি মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে যায়, তাহলে অনেক সুবিধা হয়,” বলেন হিমন্ত।

শিলচরের রাস্তার দুরবস্থা, উড়ালপুল নির্মাণ এবং একাধিক বড় পরিকাঠামো প্রকল্প নিয়ে স্থানীয় মানুষের উদ্বেগের মধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর এই ঘোষণা। এখন নজর থাকবে, পুজোর পর তাঁর দু’দিনের সফরে প্রকল্পগুলির কাজ নিয়ে কী কী নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত সামনে আসে।

Leave a comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *