“আমরা গরীব মানুষ, আমাদের পক্ষে কখনও বিচার হয় না, তবু সমাজ এবং প্রশাসনের কাছে আমার অনুরোধ এই ঘটনার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান।” কাতর আর্জি পীড়িতার বাবা
KRC Times Desk
১১-বছর বয়সের একটি শিশু কন্যাকে বাড়িতে আটকে হাত বেঁধে, চুল ধরে মারপিটের একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে দুই পুরুষ এবং এক মহিলা মিলে একটি শিশু কন্যাকে প্রচণ্ড মারধর করেছেন এবং মেয়েটি বারবার বলছে আমাকে ছেড়ে দাও। জানালার বাইরে থেকে কোনও এক ব্যক্তি গোপনে সেটা রেকর্ড করেন এবং এতেই পুলিশ তিন ব্যক্তিকে শনাক্ত করে আটক করেছে।
আটক ব্যক্তিরা হলেন মতি মজুমদার, তার স্ত্রী এবং ছোট ভাই আতাবুর মজুমদার। তবে পরিবারের সদস্যরা মতি মজুমদারের ছেলে মুন্না মজুমদারের বিরুদ্ধেও অভিযোগ দায়ের করেছেন। শিশুকন্যাটির বাবা জানিয়েছেন, “মতি মজুমদার প্রাক্তন ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসার এবং অত্যন্ত বিত্তশালী ব্যক্তি। তারা প্রায় সময় এলাকার ছোট ছোট শিশুদের ডেকে টাকার লোভ দেখিয়ে বাড়িতে কাজ করান। তার মেয়ে কিছুদিন ধরে এভাবেই ওই বাড়িতে কাজের জন্য যাচ্ছে। তিনি মেয়েকে বারণ করেন কিন্তু সে কোনও একটা ভয়ে সেখানে যেতে বাধ্য হয়েছে। তবে মঙ্গলবার সন্ধ্যেবেলা আতঙ্কিত এবং আহত অবস্থায় বাড়ি ফেরে। অনেক জিজ্ঞেস করলেও সে কোনও কিছু বলেনি, কিন্তু চোখে মুখে একটা ভয় ছিল। বৃহস্পতিবার হঠাৎ করেই তারা অজানা নম্বর থেকে একটা ভিডিও পান এবং সেখানে দেখা যাচ্ছে তার মেয়ের উপর পাশবিক অত্যাচার চালাচ্ছেন মতি মজুমদার এবং তার পরিবারের সদস্যরা। এতেই তারা মামলা করেন।
তিনি বলেন, “কিছুদিন ধরেই আমার মেয়ের ব্যবহার কেমন একটা অস্বাভাবিক লাগছিল। তার কাছে জানতে চাইলে সে কিছুই বলেনি। ভিডিও দেখার পর আমি আঁতকে উঠি এবং সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের কাছে খবরটি জানাই। আমরা গরীব মানুষ, আমাদের পক্ষে কখনও বিচার হয় না, তবু সমাজ এবং প্রশাসনের কাছে আমার অনুরোধ এই ঘটনার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ান। আজ আমার মেয়ের সঙ্গে যেটা হয়েছে, আগামীতে আর যাতে কেউ এভাবে কষ্ট না পায়, অন্তত তার জন্য।”
রাঙ্গিরখাড়ি থানার ওসি সমরজ্যোতি রায় জানিয়েছেন, শিশু কন্যার বয়ান গ্রহণ করা হয়েছে এবং তার বাবার দেওয়া এজাহারের ওপর ভিত্তি করে তিন ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। তারা যে ভিডিও দেখিয়েছেন সেটা অবশ্যই মামলার তদন্তে সাহায্য করবে। শিশুকন্যাকে এভাবে নির্যাতন করার ঘটনা কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। যে তিন ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে, তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। যে শিশুটির উপর অত্যাচার হয়েছে তার মেডিকেল পরীক্ষার পর বয়ান নিয়েছে পুলিশ। সে যেন আতঙ্কিত না থাকে তার জন্য তাকে সাহস যোগানো হচ্ছে।
তবে মতি মজুমদারের পাল্টা অভিযোগ, মেয়েটি নাকি তার ঘরে চুরি করতে ঢুকেছিল তাই আটক করে মারধর করেছেন তারা। পরিবার সূত্রে জানা গেছে, মতি মজুমদার প্রায় ৬ বছর আগে অবসর নিয়েছেন। একসময় শিলচরে ব্লক ডেভেলপমেন্ট অফিসার হিসেবে কাজ করেছেন তিনি।
সড়ক সংস্কারে সরকার তথা বিধায়ক মিসবাহুল ইসলামের কাছে করজোড়ে প্রার্থনা


