২০০৮ সালের সংসদে গৃহীত আইনকে হাতিয়ার করে এই দায়িত্ব নির্বাচন কমিশন কে দিয়েছে কেন্দ্রীয় আইন ও বিচার মন্ত্রক
কেআরসি টাইমস বারাক ভ্যালি ব্যুরো
শিলচর: অসমে নির্বাচন কমিশন ডিলিমিটেশন প্রক্রিয়া করছে। যেখানে এটি করার কথা ডি লিমিটেশন কমিশনের।
সেখানে নির্বাচন কমিশন কেন এই কাজটা করছে এনিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ২০০৮ সালে সংসদে গৃহীত পিপলস রিপ্রেজেন্টেটিভ অ্যাক্ট ১৯৫০ সেকশন ৮ এর মাধ্যমে উত্তর পূর্বের চার রাজ্যের ডি লিমিটেশনের দায়িত্ব দিয়ে নির্বাচন কমিশনকে বিশেষ ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
এই আইনের বলে বলিয়ান হয়ে ল কমিশন অসমে ডিলিমিটেশন করার জন্য চিঠি লিখেছে। এই চিঠিতে উল্লেখ করা হয় ১৯৭১ সালের পর থেকে অসমে আর কোন ডি লিমিটেশন হয়নি।তাই এই দায়িত্ব তাদের দেওয়ার জন্য তারা আবেদন জানায়। আর আইন ও বিচার মন্ত্রকের তরফ থেকে এই চিঠি পাওয়ার পর সরকার নির্বাচন কমিশন কে এই দায়িত্ব পালন করার নির্দেশ দিয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে বিশ্লেষণ করার পর বিশিষ্ট আইনজীবী ধর্মানন্দ দেব জানান, আসামে সাম্প্রতিক যে ডিলিমিটেশন হয়েছে সেটা আসলে করেছে নির্বাচন কমিশন। বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ছিল যে এই কাজটা কেন ডিলেমিটেশন কমিশন করেনি। ২০০৮ সালের সংসদে গৃহীত আইনকে হাতিয়ার করে এই দায়িত্ব নির্বাচন কমিশন কে দিয়েছে কেন্দ্রীয় আইন ও বিচার মন্ত্র ক।
সাম্প্রতিক যে ডিলিমিটেশন করেছে নির্বাচন কমিশন সেটাতে আইনি কোন ভুল নেই। প্রশ্ন উঠতে পারে কেন এই কাজটা ডিলিমিটেশন কমিশন করলনা। সেটার উত্তর হল এই বিশেষ ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনকে দেওয়া হয়েছে।
আরো একটা প্রশ্ন উঠতে পারে কেন আসন সংখ্যা বাড়ানো হলো না। ২০২৬ সালের আগে এটা বাড়ানো যাবে না। সংবিধানের ১৭০ ও ৮২ ধারায় ২০২৬ সালের পরে যে সেন্সর হবে সেটার ভিত্তিতেই শুধুমাত্র আসন সংখ্যা বৃদ্ধি করা যেতে পারে। এই আইনের ফলেই অসমে কোন বিধানসভা বা লোকসভার আসন সংখ্যা বাড়ানো হয় নি।
এর অর্থ আইনত কোনভাবে এই ডি লিমিটেশন প্রক্রিয়াকে চ্যালেঞ্জ জানানোর রাস্তা নেই। তবে বরাক উপত্যকায় দুটি আসন কমানো নিয়ে অবশ্যই আলাদাভাবে প্রতিবাদ জানানো যেতে পারে। কারণ একটি বিশেষ এলাকাকে বঞ্চিত করা যায় না।


