বৰ্দ্ধিত বিল সংগ্রহে বিদ্যুৎ বিভাগ বিভিন্ন স্থানে গ্ৰাহকদের উপর নানা ধরনের বল প্রয়োগও করছে
কে আর সি টাইমস ডেস্ক
শিলচর প্রতিনিধি – বিদ্যুৎ বিভাগ কর্তৃক স্মার্ট মিটার প্রদানের পর গোটা রাজ্যের সাথে কাছাড় জেলাতেও বিদ্যুৎ গ্ৰাহকদের অস্বাভাবিক হারে বিদ্যুৎ বিল প্রদানের যে ঘটনা ঘটছে তা অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানিয়ে আজ কাছাড় জেলা শাসক মারফত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর নিকট স্মারকপত্র প্রেরণ করে অল আসাম ইলেকট্রিসিটি কনজিউমার্স এসোসিয়েশনের কাছাড় জেলা কমিটি।
স্মারকপত্রে উল্লেখ করা হয় যে বিগত কয়েক মাস ধরে রাজ্যের সৰ্বত্ৰ বিদ্যুৎ বিভাগ কর্তৃক প্রদান করা বিদ্যুৎ বিল অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি ঘটেছে। গত দু’মাসের বিদ্যুতের বিল আগের চেয়ে তিন/চার গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বৰ্দ্ধিত বিল সংগ্রহে বিদ্যুৎ বিভাগ বিভিন্ন স্থানে গ্ৰাহকদের উপর নানা ধরনের বল প্রয়োগও করছে।

এই অসঙ্গতিপূৰ্ণ বৰ্দ্ধিত বিদ্যুৎ বিলকে কেন্দ্ৰ করে সমগ্র রাজ্যে যখন তীব্ৰ ক্ষোভ, প্ৰতিক্ৰিয়ার সৃষ্টি হয়েছে, বিভিন্ন অঞ্চলে গ্ৰাহকরা প্ৰতিবাদ সাব্যস্ত করছে, তখন গত ১৬ সেপ্টেম্বর এপিডিসিএল কৰ্তৃপক্ষ এ সম্পৰ্কে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেছে যে, গরমের সময়ে বিদ্যুৎ ব্যবহার বেশি হচ্ছে বলেই বেশি বিল আসছে।সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয় যে এপিডিসিএল এর এই বক্তব্য শুধু দায়িত্বজ্ঞানহীন বা অযৌক্তিকই নয়, অত্যন্ত বিভ্ৰান্তিকরও।
স্মারকপত্রে উল্লেখ করা হয় যে জনৈক বিদ্যুৎ গ্ৰাহক সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন যে, গত জুন মাসে তাঁর ঘরের বিদ্যুৎ বিল আসে ৫৯৭৬ টাকা, জুলাই মাসে তাঁর কাছে ৯১৭৬ টাকার বিল আসে, আগষ্ট মাসে বিল হয়ে যায় ১৪৯৩৯ টাকা এবং বৰ্তমান সেপ্টেম্বর মাসে বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে তাঁকে ১৬৫৩৫ টাকার বিল পাঠানো হয়েছে। অৰ্থাৎ জুন মাস থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে তাঁর বিদ্যুৎ বিল ১০৫৫৯ টাকা বৃদ্ধি হয়। এই ধরনের ঘটনা রাজ্যের সৰ্বত্ৰ ঘটছে।
আসাম ইলেকট্ৰিসিটি রেগুলেটরি কমিশনের অধ্যক্ষ টুইট করে জানান, গত মাৰ্চ মাসের পর থেকে কমিশন কোনোধরণের বিদ্যুতের মাশুল বৃদ্ধি হয়নি। অথচ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এপিডিসিএল’র বক্তব্যের বিরোধিতা করে টুইট করে জানান যে এই মাশুল বৃদ্ধি নতুন করে প্রদান করা স্মাৰ্ট মিটারের ফলে হচ্ছে।
সংগঠনের পক্ষ থেকে এও বলা হয় যে এপিডিসিএল এর বিরুদ্ধে এই অভিযোগ উত্থাপিত হচ্ছে যে, রাজস্ব বৃদ্ধির গোপন প্ৰচেষ্টা হিসাবে গ্ৰাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা সংগ্রহ করছে তারা। সংগঠন বহু দিন পূর্বেই দাবি জানিয়ে ছিল যে, স্মাৰ্ট মিটার স্থাপন করা চলবে না। কারণ বিদ্যুৎ বিভাগের বেসরকারিকরণের এটা একটি পদক্ষেপ।

বিদ্যুৎ বিভাগের বেসরকারিকরণ হলে কৰ্পোরেট গোষ্ঠী জনসাধারণকে লুন্ঠনের অধিকার পাবে, বিদ্যুৎ পরিষেবার বদলে পণ্যে পর্যবসিত হবে, বিদ্যুতের মাশুল অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পাবে যা রাজ্যের সাধারণ দরিদ্র গ্ৰাহকদের পক্ষে বহন করা সম্ভব হবে না। অন্যদিকে কৰ্মীসংকোচনের ফলে রাজ্যের বেকার সমস্যা আরো তীব্রতর হবে।
অল আসাম ইলেকট্রিসিটি কনজিউমার্স এসোসিয়েশন রাজ্যের বিদ্যুৎ গ্ৰাহকদের সংগঠন হিসেবে এপিডিসিএল’র এই লুন্ঠনের বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রীকে উপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ এবং স্মাৰ্ট মিটার স্থাপন প্ৰক্ৰিয়া বাতিল করা, গ্ৰাহকদের থেকে সংগৃহীত অতিরিক্ত মাশুল ফিরিয়ে দেয়া ও ঘন ঘন লোডশেডিং বন্ধের জোরালো দাবি উত্থাপন করে।
স্মারকপত্র প্রদান কালে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের জেলা সভাপতি মম্মত নাথ, সহ-সভাপতি চাম্পালাল দাস, দিলীপ নাথ সহ লুৎফর রহমান বড়ভূইয়া, কনক পাল, খাদেজা লস্কর, কার্তিক সাহা,হানিফ আহমেদ বড়ভূঁইয়া প্রমূখ।
বিজ্ঞাপন


